সাঈম সরকারঃ
মহাসড়কের ফুটপাত থেকে শুরু করে গাড়ী পার্কিং এর জন্য চাঁদা,অটো রিক্সা চললে চাঁদা দাও,নিষিদ্ধ পলি ব্যবসায় চাঁদা দিলে বৈধ, মাছ বাজার কেরাম বোট,কলার দোকান ও ভাঙ্গারি দোকান কেহই চাঁদাবাজদের আওতার বাহিরে নয় । হয় চাঁদা দাও , আর না হয় ব্যবসা গুছিয়ে চলে যাও ।এটাই বর্তমান আশুলিয়ার চিত্র । ঐ সব চাঁদাবাজদের সক্রিয় তালিকায় যারা প্রকাশ্যে সামনে রয়েছে তাদের মধ্যে প্রথমেই উঠে আসে মোঃ রুহুল আমিন,বাবুল ও তাজুল ইসলাম তাজু এর নেত্রীত্বে তারই দুই ভাই মোঃ শাহআলম, মোঃশাহজাহান এর নাম । ঐ সব চাঁদাবাজদের পিছনে রাজনৈতিক কোন ছত্রছায়া খুজে পাওয়া না গেলেও দীর্ঘ বছরের পর পছর ধরে থানার নাম ভাঙ্গিয়ে প্রকাশ্যে চালাচ্ছে চাঁদাবাজি ।
নজরুল ইসলাম(বি.কে.এস.পি,জিরানী),জহুরুল(বুড়িরবাজার),ইকবাল(ইউনিক),আফছার(জামগড়া),রিপন(বলিভদ্র)জহির(ফকিরবাড়ী),সজিব(বগাবাড়ী) ও খলিল(বাইপাইল) সহ স্বপন, রবি এ রকম প্রায় অর্ধশতাধিক ভাঙ্গাড়ী দোকান্দারগণ জানায়, প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে থানার কেশিয়ার পরিচয় দানকারী মোঃ রুহুল আমিন ওরফে রুহুল অনুঃ (৪৮) ও রুহুলের বোন স্বামী বাবুল এরা এসে থানার নামে মাসয়ারা নিয়ে যায় । কোন মাসে ২/১দিন দেরি হলে বা, না দিতে পারলে তাদের চাপে দিশেহারা ভাংগারী ব্যবসায়ী দোকান্দাগণ । কারণ, মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই কি না সকল হিসাব-নিকাশ থানাকে বুঝিয়ে দেয় । তা না হলে ঐ দুইজনের চাকুরী থাকবে না বলেও বোল শুনায় রুহুল আমিন ওরফে রুহুল ও বাবুল । দোকান্দারগণ আরো বলেন, প্রায় ৩(তিন) শত এর অধিক ভাঙ্গারি দোকান রয়েছে । ধরন বুঝে প্রতিটি ভাঙ্গারি দোকানের মাসিক ভিন্ন ভিন্ন হারে সর্ব নিম্নঃ ৫০০(পাঁচশত)হতে ২(দুই) হাজার টাকা এবং কোন কোন দোকানে ৭(সাত)হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে থাকে । জিরানি,কবিরপুর ও শিমুলিয়া এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভাঙ্গারি দেকান্দারগণ বলেন, প্রতি মাসের ৩তারিখ হতে ৫ তারিখের মধ্যে বাবুল এসে থানার কথা বলে টাকা নিয়ে যায় ।
এদের মধ্যে একজন বলেন, এ রকম দুই নাম্বারী ব্যবসা সবাই করে। দুই নাম্বারি বলতে দামী চুরির অনেক জিনিস তারা কমদামে ক্রয় করে থাকেন।যেমন-বিদ্যূতের তার,ট্রান্সমিটার,তামার তার,রেল রাস্তা,দস্তা ও বিভিন্ন গাড়ীর যন্ত্রুপাতি সহ রাষ্ট্রীয় অনেক ধাতব সম্পদকে বোঝায় ।
উক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে খলিল ও রুহুল দৈনিক গণমুক্তিকে জানায়, এই চাঁদার টাকা থানা সহ আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থাকে দিতে হয়।
অপর দিকে, সারা আশুলিয়ার প্রতিটা কেরামবোট থেকে ৩০০/৫০০ হারে,কলার দোকান ২০০/৩০০ এবং প্রতিটা পলিথীন বিক্রেতাদের নিকট থেকে ২/৫ হাজার টাকা হারে মাসয়ারা দিতে হয় তাজুলের ভাই,শাহাআলম ও শাহজাহানকে । এবিষয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরেও থেমে নেই ঐ চাঁদাবাজ চক্রটি । প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে থানা পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রকাশ্যে চলছে তাদের চাঁদাবাজী কর্মকান্ড । মাঝে-মধ্যে আইনী ব্যবস্থা নিলেও স্থায়ী ভাবে কোন প্রতিকার মিলছে না এমনটিই দাবি করছেন দোকানদার ও ভুক্তভুগী সাধারণ মানুষ ।
আশুলিয়া থানা পুলিশের এত নজরদারি থাকা সত্ত্বেও এক দিকে ফুটপাতে প্রকাশ্যে হচ্ছে চাঁদাবাজী । আর, অপর দিকে সারা আশুলিয়ায় মহাসড়কের পাশে ও মহল্লার বিভিন্ন অলি-গলিতে ভাংগারী দোকান, কলার দোকান ও কেরামবোট এবং সরকারী ভাবে নিষিদ্ধ প্রতিটি পলিথিন ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে প্রতি মাসে হাজার টাকা হারে বছরের পর বছর ধরে চাঁদা আদায় করে অবৈধ-কে বৈধ করে দিচ্ছে ঐচাঁদাবাজ চক্রটি।এরা কারা এবং কোন ছত্রছায়ায় থেকে এসব করার সাহস দেখিয়ে চলছে ? এ সব চাঁদাবাজদের খুটির জোর-ই বা কোথায় ?এবং কেন প্রশাসনের নজরের বাহিরে? এমন প্রশ্ন উঠেছে জনমনে । যার উত্তর এখনো সবার অজানা । আশুলিয়া থানার ওসি কামরুজ্জামান এর সাথে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে বিষয়টি তিনি অবগত নয় বলে জানান ।