Uncategorizedঅন্যান্যঅপরাধআইন – আদালত

আশুলিয়ায় সোয়েব নামে ভূয়া কাজীর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ

সাঈম সরকারঃ

আশুলিয়ায় নামধীর মাওলানা মোঃ সোয়েব নামে লাইসেন্স বিহীন এক ভূয়াকাজীর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ উঠে এসেছে। রয়েছে তার বিরুদ্ধে থানায় একাধীক অভিযেগ ও জালিয়াতি সাধারণ ডায়রী। লাইসেন্স প্রাপ্ত আউয়াল কাজীওশিমুলিয়া ইউনিয়নের কাজী ইসরাফিল কাজীর সহায়ক পরিচয়ে সাইনবোড ঝুলিয়ে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারি সংস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে, পেশি ক্ষমতার বলে এবং কিছু রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায় থেকে চালিয়ে যাচ্ছে তার সকল অপকর্ম। এখানেই শেষ নয়! মহাসড়কের উন্নয়ন কাজরত ঠিকাদার ও এলাকার কিছু অসৎ লোকের যোগসাজসে রাস্তার ধারে থাকা সরকারী সম্পদ লোহালস্কর ও টিএনটি লাইনের তার (পুরানো) চুরি করে বিক্রি বানিজ্য চালিয়ে আসছে অনেক দিন যাবৎ।

সূত্রঃ হাসেম প্লাজার (২য় তলায়), ডি.ইপিজেড রোড গনকবাড়ী, সরেজমিনেঃ একটি চটকধারী কাজী অফিসের সামনে (কাজী জান্নাতুল ফেদৌস সুরাইয়া-২৮) নামে এক নারীকে কান্নায় জরজরিত অবস্থায় আহাজারি করতে দেখা যায়। ঐ নারী সাংবাদিকদের জানায়, তার বিয়ের সময় স্বাক্ষীগণের সামনে ১০ (দশ) লাখ টাকা দেনমহর ধার্য করে বিয়ে রেজিঃ করা হয়েছিল। কিন্তু দেনমহরের নকল কপি তুলতে আসলে ঐ কাজী সোয়েব দেনমহরের স্থানে মাত্র ৩(তিন)লাখ টাকা উলেখ্য করে একটি নকল কপি হাতে ধরিয়ে দেয়। এ সময় আমি তার সংগে রাগা-রাগির এক পর্যায়ে কাজী সাহেব দেনমহর ঠিক করে দিবে বলে তিন দিন পর তার সাথে দেখা করতে বলে। তার কথামত ২/৩দিন পর আসলে সে দেনমহর ঠিক করে না দিয়ে কূ-প্রস্তাব দেয়এবং তার সাথে সময় কাটানোর কথা বলে । কথায় রাজি হলে সব ঠিক করে দিবে বলে জানায়। ঐ নারী আরো জানায়, এই বিষয়ে কাউকে না জানাতে হুমকীয় প্রদান করেন ঐ কাজী। আর কাউকে জানালেও কোন লাভ হবে না বলে জানায় তিনি। কেন না, বড় বড় রজনৈতিক নেতারা তার নিজের লোক। ১০ লাখ টাকা দেনমহর কেন ? এ বিষযে ভূক্তভোগী বলেন,আমার স্বামীর সাথে ইতি-পূর্বেও বিয়ে হয় এবং তখন আমাকে সে এক তালাক দেয়।তখন,আমি আমার অবিভাকদের বাড়ীতে চলে যাই।কিন্তু,আমার অবিভাকদের ম্যানেজ করে আমাকে ফিরত নিতে চাইলে আমার অবিভাবকগণ নতুন করে দেনমহর দাবি করে।তাতে আমার স্বামী রাজি হয়ে ১০ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে করতে মত পোষন করেন এবংস্বাক্ষীগণের সামনে সোয়েব কাজী রেজিঃদেনমহর ১০ লাখ উলেখ্য করে বিবাহর কাজ সম্পন্ন হয়।

নামধারী মাওলানা সোয়েব ভূয়াকাজীর নিকট বিবাহ পড়ানোর সরকারী অনুমোদন সম্পর্কে জানতে চাইলে সোয়েব কাজী সাংবাদিকদের জানান,তিনি আউয়াল কাজী ও ইসরাফিল কাজীর সহযোগি হিসাবে কাজ করেন।এদিকে আউয়াল কাজী বলেন, সোয়েব কাজী একজন চোর এবং আমার স্বাক্ষর ও সিল নকল (জাল) করে দীর্ঘদিন যাবৎ বাল্য বিবাহসহ জালিয়াতি বিবাহ ও তালাক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে । তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একাধিক সাধারণ ডায়রী ও অভিযোগ দায়ের করেও কোন সু-বিচার পাই নাই। কাজী ইসরাফিল সাংবাদিকদের বলেন, আমি সোয়েব কাজীকে বিবাহ রেজিঃকরার জন্য কোন অনুমতি দেই নাই এমন কি আমার কোন বলিউম বইও তার কাছে নেই । সে আমার নাম ব্যবহার করে এবং আমার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে বিবাহ রেজিঃ”র নামে বিভিন্ন অপকর্ম করে যাচ্ছে । তার বিরুদে আমি নিজে বাদি হয়ে আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়রী করেছি।ধামসোনা ইউনিয়নের কাজী মাহবুব সাহেব জানায়,নামধারী ভূযাকাজী কাজী সোয়েব এর বিবাহ রেজিঃ”র কোন লাইসেন্স বা,বৈধতা নেই।কিছু অসাধু সুবিধা লোভী রাজনৈতিক নেতাদের ছত্র ছায়ায় থেকে পেশি শক্তির বলে ভূয়া কাগজ ও সীল তৈরি করে দীর্ঘ বছর যাবৎ জালিয়াতি করে আসছে। সৈয়ব এর মত ভন্ডদের জন্য পেশাগত কাজীদের সুনাম ক্ষুন্নসহ শত শত নারী পুরুষের সংসার বিছিন্ন ও করুন পরিনতি খবর মিলছে অহরহ। দুই বছর আগেও টাংগাইলের একজন নারীর কাছে সুবিধা ভোগ করে এক লাখ টাকার দেনমহর দশ লাখ টাকা করায় ঐ নারীর স্বামী তার বিরুদ্ধে বিচার চেয়েও বিচার পায়নি। সাধারন মানুষকে ভুলভাল বুঝিয়ে কোর্ট ম্যারেজ এর কথা বলে প্রতারণার বিবাহ সম্পন্ন করার রেকড রয়েছে শত শত।এলাকাবাসি জানায়,সোয়েব একজন দূষচরিত্রের লোক ।ইতিপূর্বে মহামারি করোনা ভাইরাস(কোভিট-১৯) এর সময় ভাদাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে তার নিজ প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসায় একটি শিশু(৫/৬ বছর বয়স) এর সাথে অসামাজিক কাজে হাতে নাতে ধরা পরলে এলাকাবসি ব্যাপক গণধোলাই দিয়ে এলাকা থেকে বের করে দেয়। পরে এলাকার রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় এলাকায় ঢুকে বসবাস রত অবস্থায় বর্তমানে নেতাদের ছত্র-ছায়ায় থেকে প্রকাশ্যে ভূয়াকাজীর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক অপকর্ম করে চলছে ।এমন কি, মহাসড়কের ছয় লেন উন্নিত কাজের জন্য ড্রেনেজ সংস্কারের কাজ করতে রাস্তার পাশে ও ড্রেনের নিচে থাকা লোহা লস্কর ও টিএনটি লাইনের তাঁর, রাতের আধারে চুরি করে দীর্ঘদিন যাবৎ বিক্রি করে আসছে। পর্ব-১

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button