নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সাঈম সরকার
আশুলিয়া থানার নাকের ডগায় মন্ডল বাড়ী বালুরমাঠ ও আমবাগান কবরস্থান রোড এলাকায় মাদকের সয়লাব ।নিত্য দিন সকাল হইতে গভীর রাত পর্যন্ত ঐ মহল্লার বিভিন্ন অলি-গলিতে চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। প্রতিদিন কেনা বেচা হয় প্রায় অর্ধ লাখ টাকার মাদক। মরণ নেশা মাদকাশক্তের কবলে পরে দিন দিন মহা ধবংসের দিকে পা বাড়াচ্ছে স্কুল পড়ূয়া তরুণ বয়সের ছাত্র সমাজ সহ সব বয়সের নারী-পুরুষ।মাদকের টাকা জোগার করতে হণ্যে হয়ে পড়ছে মাদকসেবিরা।ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে চুরি-ছিনতাই সহ বিভিন্ন অপরাধ প্রবণতা । মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের বেপরোয়া আচরণে ঐ মহল্লার জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে জানাযায়ঃ আশুলিয়া থানার নাকের ডগায় মহাসড়কের পূর্ব পাশে,মন্ডলবাড়ী এলাকায়, আলাল উদ্দিন ওরফে আলাল নামের একটি পরিবারে সবাই মিলে ঐ মহল্লায় বিভিন্ন অলি-গলিতে গড়ে তুলেছে মাদকের আস্তানা।আলালের তিন মেয়ে ও দুই মেয়ের স্বামীঃ হাবিব ও রুহুল সহ আরো কয়েকজন নারী-পুরুষ সমন্বয়ে প্রায় একযুগ ধরে প্রকাশ্যে চালিয়ে যাচ্ছে রমরমা মাদক ব্যবসা।তাদের নিয়োন্ত্রনে রয়েছে এক দল বখাটে কিশোরগ্যাংও।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুদিদোনদার জানাযায় ,করিম নামে পুলিশের সোর্স পরিচয়ে একজন ডিলার মাদকের চালান পৌছিয়ে দেয় আলালের মেয়ে পারভিন ও নার্গিস এর নিকট ।আর, মহল্লার কিছু অসাধু ব্যাক্তি ও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এই অবৈধ মরণ নেশার ব্যবসাটি পরিচালিত হয়ে থাকে।এই মাদক ব্যবসা করে কবরস্থান রোড,আমতলা মন্ডল বাড়ী মসজিদের সামনে দেলেজার এর বাড়ীর ভাড়াটিয়া শারমিন ও নারগিসগং নিজেদের জন্য ছয় শতক জমিতে(বহুতল ভবন)বাড়ী নির্মাণাধীন কাজ চলছে।পরিবারের।মাদক ব্যবাসয়ী ও মাদকসেবীদের নিকট জিম্মি হয়ে পড়েছে সারা মহল্লাবাসি। মরণ নেশা মাদকের কারণে ধ্বংস হচ্ছে তরুণ ছাত্র সমাজ ও বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষ।এই ব্যবসা অল্পতেই লাভজনক এমন চিন্তা থেকেই মূলত প্রতিদিন সন্ধার পর মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের দৌড়ঝাপ করতে দেখা যায় বিভিন্ন মহল্লার অলি-গলিতে। কেউ মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার টুশব্দটিও করলে ঐপুলিশের সোর্সের সহযোগিতায় প্রতিবাদকারীদের নানারকম পুলিশি হয়রানি করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।তাই,ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস দেখায় না।অথচ, বিভিন্ন প্রকার মাদকের থাবায় দূর্বল হয়ে পড়ছে শত শত ছাত্র/ছাত্রী ও যুবক-যুবতীগণ ।যার ফলে, মহা চিন্তায় হাবুডুবু খাচ্ছে অভিভাবকগণ এবং সুশীল সমাজ।প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে থানা পুলিশসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারি সংস্থা।
এবিষয়ে জানতে চাইলে ধামসোনা ইউনিয়নের ০৭ নং ওয়ার্ড মেম্বর মঈনুল ইসলাম ভূইঁয়া দৈনিক গণমুক্তিকে বলেন, উল্লেখিত পরিবারটি দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক ব্যবসার সাথে জরিত রয়েছে। ইতিপুর্বে বেশ কয়েকবার তাদেরকে এই মরণ নেশার ব্যবসা ছেরে ভালো হতে বলেছি।কিন্তু, কিছুতেই কোন কর্ণপাত না করায় এলাকাবাসিকে সংগে নিয়ে তাদের বাড়ীর ঘেড়াও করেছি।কিন্তু, ঘটনাস্থলে পৌছিবার আগেই খবর পেয়ে বাড়ীর সবাই মিলে পালিয়ে যেত।তিনি আরো বলেন,মাঝে মধ্যে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করলেও আইনের ফাঁক ফোঁকর দিয়ে আদালত থেকে জামিনে এসে পূনরায় শুরু করে। স্থায়ী ভাবে মোটা অংকের জরিমানাসহ দীর্ঘদিন জেলহাজতে বন্দি রাখার ব্যাবস্থা থাকা দরকার বলে মনে করেন তিনি।
এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার তদন্ত ওসি মুহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন,মাদককে জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নের লক্ষে কাজ করছে ঢাকা জেলা পুলিশ।তাছাড়া, নিয়মি মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহ রয়েছে ।মাদক ব্যবসায়ী যত বড় ক্ষমতাশীল ও শক্তিশালী হোক না কেন, তথ্য পেলে তাদের বিরুদ্ধে শক্ত হাতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মাদক ব্যবসায়ীদের নাম ঠিকানা নোট করে রাখেন তিনি ।