ইউপি চেয়ারম্যানকে হয়রানির নানা পরিকল্পনা আঃলীগ নেতার।


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
টাঙ্গাইল সদর থানার আওতাধীন প্রত্যন্ত অঞ্চল ১২ নং মাহমুদ নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব,আসলাম সিকদার কে পাতানো ফাঁদে ফেলে এবং মিথ্যা ঘটনায় হয়রানিসহ নানা পরিকল্পনায় ব্যস্ত ১২ নং- মাহমুদ নগর ইউনিয়ন ৬’নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আরিফ, বড় ভাই খোকন সহ তাদের অনুসারীরা।
জানা যায়, মাহমুদ নগর ইউনিয়ন ৬ নং- ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতিঃ আরিফ ও তার ভাই খোকনের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, চুরিসহ এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় চেয়ারম্যান আসলাম সিকদারকে ফাঁসাতে এক-এক সময় এক-এক হয়রানির ছক ও নানান কৌশল অবলম্বন করে যাচ্ছেন দুই ভাই।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, মাকোর কোল বাজারে খোকন,আরিফ ও ইমরুল নামের এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে নিরীহ দোকানদারদের কাছে জোরপূর্বক চাঁদা তোলে আসছিল, সর্বশেষ ধনিয়া নামের এক কাপড় ব্যাবসায়ীর কাছে চাঁদাদাবি করলে ওই ব্যাবসায়ী ১২ নং মাহমুদ নগর ইউপি চেয়ারম্যান আসলাম সিকদার কে বিষয়টি জানালে তাৎক্ষনিক চেয়ারম্যান আসলাম সিকদার তাদেরকে বাঁধা দেন।
এই ঘটনার বেশ কয়েকদিন পর ইউনিয়ন পরিষদের তত্বাবধায়নে একটি রাস্তার উন্নয়ন প্রকল্প কাজের ঠিকাদারির দায়িত্ব পান আরিফ, প্রকল্পটির কাজ শুরু করার আগেই তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে কয়েক শত ইট চুরি করে নিয়ে যান তার বাড়িতে। এসময় আহম্মদ আলী নামে স্থানীয় এক ব্যাক্তি সরকারি কাজের ইট চুরিতে বাধা দিলে তার উপর আক্রমণ করেন তারা, পরে ঘটনাটি জানা জানি হলে ঘটনা স্থলে উপস্থিত হন ইউপি চেয়ারম্যান আসলাম সিকদার। তিনি বিষয় টি উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করেরন। পরদিন টাঙ্গাইল উপজেলা এলজি ইডি প্রকৌশলী ফজলুর রহমান ঘটনাস্থলে আসলে চুরির দায় স্বীকার করে ক্ষমা চান ঠিকাদার আরিফ।
সেদিনের পর থেকে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে চেয়ারম্যানকে ফাঁসাতে নানান কৌশল ও ছক আঁকেন তাঁরা, একপর্যায়ে গত ২০-১১-২০২৩ ইং তারিখে ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিডিএফ’র চাউল চুরির প্রোপাগাণ্ডা ছড়িয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করেন চেয়ারম্যান আসলাম সিকদার কে, ঘটনার সত্যতা না থাকায় সেদিনও ব্যর্থ হন তাঁরা। ব্যর্থ হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালাতে থাকেন তারা। যার সত্যতা উঠে এসেছে ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী দুই জন ভ্যান চালক ও আজগর আলী নামের একজন চাউল ব্যাবসায়ী বক্তব্যে, সেদিনের ঘটনার বিবরণ দিয়ে তারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিডিএফ’র চাউল উত্তোলন করতে আসা ব্যাক্তিরা বেশিরভাগ-ই নারী। এলাকটি নদী ভাঙ্গন হওয়ায় সচরাচর যানবাহন পাওয়া যায় না, তাই তারা অনেকেই মাকোর কোল বাজারে চাউলের বস্তা সহ বিক্রি করে দেন যে গুলো অনেক ব্যাবসায়ী-ই কিনেন।
আজগর আলী আরোও বলেন, অন্যান্যদের সাথে গত ২০-১১-২৩ তারিখে আমিও ২৪ বস্তা চাউল কিনে ভ্যানে করে খুচরা বিক্রির উদ্দেশ্যে শাহজানী বাজারের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলাম কিন্তু রাস্তায় পরিকল্পিত ভাবে আমার ভ্যান আটক করে বসেন মজিদের বড় ছেলে খোকন, আরিফ ও তার সহযোগীরা, এসময় তারা আমাকে, সাথে ভ্যান চালক ইব্রাহিম ও শহীদকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যেতে বাধ্যকরেন।
তাঁরা ৯৯৯ কল করে পুলিশ নিয়ে আসেন পরে আমি ভয় পেয়ে সেখান থেকে চলে যাই। এবং জানতে পারি আমার ২৪ বস্তা কেনা চাউল পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে গেছে যা এখনো থানা হেফাজতে আছে। সত্যি কথা বলতে আমি সেদিন খুব ভয় পেয়ছিলাম তাই সামনে আসিনি তবে যা সত্য আজ তাই বলছি। চাউল ব্যাবসায়ী আজগর আলী সাথে ভ্যান চালক ইব্রাহিম ও শহীদ এক-ই বক্তব্য দিয়ে বলেন, এখানে চেয়ারম্যান সাহেবের কোন দোষ বা হাত কোনোটাই নেই, আমাদেরকে খোকন, আরিফ ও তাদের লোকজন এসব বলতে বলেছিল । এই বলে তারা একটি ভিডিও ক্লিপে স্বীকারোক্তি দেন যা সংগ্রহীত আছে।
ঘটনার সত্যতা জানতে প্রকৌশলী ফজলুর রহমান’ এর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের কাছে যাবতীয় তথ্য প্রমাণাদি রয়েছে।
আরিফ ও খোকনের সাথে যোগাযোগ করা হলে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আরিফ বলেন, আমি ইট বাড়িতে নিয়ে গেছি এটা সত্য তবে চেয়ারম্যান বিষয়টি জানেন, আর চাউলের ঘটনাটি মূলত অনাকাঙ্খিত ঘটনা, সরকারি চাউল ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছিল দেখে আমার বড় ভাই খোকনের সন্দেহ হয়েছিল তাই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল, কিন্তু সেখানে চেয়ারম্যান এর নাম বা অন্য কারোর নাম উল্লেখ করা হয়নি, চাদাবাজীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আসলে ওইরকম কিছু না সেটা মিমাংসা হয়ে গেছে।
এবিষয়ে ১২ নং মাহমুদ নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব আসলাম সিকদার বলেন, সেদিনের ঘটনায় সরাসরি ইউএনও স্যার পরিদর্শন করে গেছেন বিন্দু পরিমাণ সত্যতা খুঁজে পায়নি এমনকি পরিষদের প্রতিটি রেজিস্ট্রার চেক করে দেখেছেন কোন ত্রুটি পায়নি। আসলে একটি কুচক্রী মহল আমার সুনাম ক্ষুন্ন করতে উঠে পড়ে লেগেছে তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জরিত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাদের অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে বাঁধা দেওয়ায় তাঁরা ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার ক্ষতি সাধনের চেষ্টা করছে এবং সোশ্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকায় টাকা দিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে প্রোপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে, যা আদও সত্য নয়, তবে আমি এটার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই, সেই সাথে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এসময় চেয়ারম্যান আসলাম সিকদারের সাথে সহমত পোষণ করে, সকল ইউপি সদস্য ও সাধারণ মানুষ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।



Daily Aporadh Prokash