অপরাধআইন – আদালত

আশুলিয়ায় এক সুদ ব্যবসায়ীর খ্প্পরে নিঃস্ব অর্ধশত পরিবারঃ

সাঈম সরকারঃ
আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়ন এলাকায় বাউইনা গ্রামের ফরহাদ হোসেন নামের এক সুদ-জালিয়াতি ব্যবসায়ীর খপ্পরে পরে নিঃস্ব অর্ধশত পরিবার । তার বিভিন্ন অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে এলাকাবাসিও ।
সুদ, ঘুষ,দালালী, চেক জমা নিয়ে সুদের টাকা লাগানো,চাদাঁ বাজী,খাস জমিদখল ও টাকার বিনিময়ে বিচার শালিস করা, কেসিনো ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে ফরহাদের বিরুদ্ধ। এলাকা বাসীর অভিযোগ, ফরহাদ হোসেন, সাং আমতলা বাউনিয়া,বর্তমান ঠিকানা জিরানী ইকরা বাজার মোঃ জুয়েলের বাড়ির ভাড়াটিয়া।
মোনসের নামে একজন বাউইনিয়া এলাকাবাসী জানান,ফরহাদ পিতা মাতার অবাধ্য সন্তান, বিয়ের পর তার স্ত্রীর ভাইদের সাথে সুদের টাকা লেনদেনের বিষয় নিয়ে ফরহাদ তার স্ত্রী-পুত্র ও পরিবারকে বাড়ী থেকে বাহীর করে দেয় । এর পর দেড় বছর পর টাকার ঝামেলা মিটিয়ে স্ত্রী-পুত্রকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসে। কয়েক দিন সংসার করতে না করতে বাবা মায়ের সাথে ঝগড়া করে এসে গাজীপুর এলাকায় পর পর কয়েকটি টেক্সটাইল গার্মেন্টসে কাজ করতো । বিভিন্ন অনিয়ম করার কারনে কতৃপক্ষ তাকে গার্মেন্টস থেকে বের করে দেয়। এসময়, চন্দ্রা একটি ক্লিনিকে চাকরি নেন,সেখানেও অনিয়ম, ঘুষ কেলেঙ্কারির দায়ে বহিস্কার করে দেয়া ।সেখান থেকে জিরানী এলাকায় এসে সুদের ব্যবসা শুরু করে । প্রথমে চড়া মূল্যে ১লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা সুদে লাগায় তার পর পাঁচ লাখ টাকা ক্যাশ হওয়ার পর তার ভায়রা সিরাজের সাথে মতিঝিল আরাম বাগ ক্লাবে গিয়ে কেসিনো ব্যবসার সাথে জড়িয়ে ধুমচে জুয়া ও বোর্ডে তীর মারা খেলায় মেতে উঠেন এবং কল ম্যানের দায়িত্ব পালন করছে।সারাদেশে যখন ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসন উঠে পরে লেগেছে এবং খবরের এ সব আলোচিত শিরোনাম চোখের সামনে আসতেই ফরহাদ সেখান থেকেও ২১ লাখ টাকা ক্যাশ নিয়ে পালিয়ে আসে ।
এ বিষয়েটি শিমুলিয়ার কাছৈর গ্রামের বাগেরতলের মোঃ মোতালে নামের এক ব্যক্তি নিশ্চিত করে বলেন, ঐ সময় একই ক্যাসিনোতে তিনি নিজেও কল ম্যান ছিলেন।সেখান থেকে পালিয়ে এসে গা ঢাকা দিয়ে কয়েক মাস পালিয়ে থাকে।এর পর জিরানী টেংগুড়ী এলাকায় নুরুল ইসলাম এর বাসায় একটি রুম ভাড়া নিয়ে বসবাসরত অবস্থায় আবুল হোসেন নামের একজনের নিকট থেকে ক্যাসিনোর চুরি করা টাকায় ৫ শতাংশ জমি ক্রয় করে । সেই সাথে মোহাম্মদ আলী মন্ডল নামের এক লোকের কাছ থেকে ৮শতাংশ জমি জালিয়াতি করে স্ট্যাম্প করে লিখে নেন। ঐ জমির আশে-পাশে আরও খাস জমি দখলের পায়তারায় খাস জমিসহ সিমানা খুটি পুতে রাখে।
এলাকাবাসী জানান,চড়া মূল্যে টাকা সুদে ছেরে, নামে-বেনামে রেকর্ড ও খাস জমি বায়না ও দখল করে রেখেছে ।ময়লার সুইপারদের নিকট থেকে মাসে ০৫ হাজার টাকা চাঁদা নেয়া,ব্লাংক চেক নিয়ে চড়া মূল্যে সুদে টাকা দেওয়া,বিচার করে টাকা খাওয়া, জোড় পূর্বক মানুষের স্ত্রী তালাক দেয়া,জিরানী থেকে আমতলা পর্যন্ত অটো রিক্সা চাঁদা আদায়,মাটির ব্যবসায়ীদের সাথে লিয়াজু করে টাকা খাওয়া, ক্লিনিকে চাঁদা আদায়,জোড় পূর্বক সুদের টাকা উঠানো,খাস জমি দখল করে দিয়ে নিজের নামে জমি স্টাম করে নেয়া এমন কোন অপকর্ম নাই তিনি শিমুলিয়া ইউনিয়ন এর মধ্যে না করে। শিমুলিয়া ইউনিয়নে গত ২৫/০৩/২০২৩ ইং তারিখে সুদের টাকার জন্য মাসুদ নামের এক ব্যক্তিকে মারধর করার অভিযোগও উঠে আসে । এর কয়েকদিন পর আবার দেলোয়ার নামের এক ব্যবসায়ীকে ধাওয়া দিতে গেলে প্রত্যক্ষ দর্শীরা ফরহাদের হাত থেকে দেলোয়ার কে সেফ করে।
ভুক্তভোগী কনস্ট্রাকশন সাপ্লায়ার মাহফুজ রহমান অপু বলেন,ব্যবসার নামে ২ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে মাসে ১০ হাজার টাকা সুদ দিয়ে আসছিলাম ।এভাবে এযাবত ৪ লক্ষ টাকা দেয়া হয়েছে । কিন্তু, আমার চেক ফেরত না দিয়ে ২ লাখ টাকার ব্লাংক চেক-কে জালিয়াতির মাধ্যমে ২৫ লাখ টাকা লিখে চেক ডিজঅনার করে মামলার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে । এছাড়া দেলোয়ার নামের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা সুদ বাবদ ৬ লাখ টাকা নিয়েছে এখন তাকে ৪ লাখ টাকা পাবে বলে উকিল নোটিশ করেছেএবং তাকে হাত পা ভেঙে ফেলা সহ মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে মাঝেমধ্যে। মাসুদ রানা নামে এক ব্যাক্তি ০২ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ০৫ লাখ দিতে হয়েছে বলে জানায় । বর্তমানে মোঃ মাসুদ রানা একজন প্যারালাইসিষ্ট রোগী তাকে ২০ লাখ টাকার উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে। আরেক মাসুদ নামের এক মুদি দোকানদারকে নিঃশ্ব করে দিয়েছে । ফরহাদের সুদ-জালিয়াতির খপ্পরে পরে ঐ এলাকায় প্রায় অর্ধশত পরিবার ভিটা-মাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে । সুদ কারবারি ফরহাদের হাত থেকে বাঁচতে ভূক্তেভূগীদের পরিবার সহ এলাকাবাসি স্থানী জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button