নিজস্ব প্রতিবেদক সাঈম সরকারঃ-
জমির ধরন পরিবর্তন করা যাবে না’মর্মে সরকারি নির্দেশ থাকলেও আশুলিয়ার শিমুলিয়ায় তিন ফসলি জমি ও বিষখালি নদীর মাটি কেটে এবং সরকারী খাসজমি পরিণত করা হচ্ছে গভীর পুকুর। এতে করে ঐ এলাকায় আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষি জমির পরিমাণ এবং সেই সাথে লুট হয়ে যাচ্ছে সরকারী খাস জমির ও নদীর মাটিও ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার শত শত বিঘা তিন ফসলি জমিতে ভেকু দিয়ে ৩০-৪০ ফুট গভীর খনন করে মাটি বিক্রির মহোৎসব চলছে। দিনরাত বিরতিহীনভাবে সেই মাটি প্রতি গাড়ি (ট্রাক) ১০০০-১৫০০ টাকায় বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রয় করছে মাটি ব্যবসায়ীরা।
এক দিকে কৃষকরা না বুঝে হারাচ্ছেন তাদের উর্বর ফসলি জমি, অন্যদিকে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে এক শ্রেণির প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ীরা । অথচ, শ্রেণিভেদে ঐ এলাকায় প্রায় সকল জমিতেই সারা বছর কোনো না কোনো ধরনের ফসল হয়।
সরেজমিনে শিমুলিয়ার রাঙ্গামাটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়,বিষখালী নদী ও তার আশে-পাশের প্রতিটা কৃষিজমিসহ খাস জমির মাটি ভেকু দিয়ে কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করছে ঐ এলাকার দুর্ধর্ষ মাটি খেকো ভুমিদস্যু সামছুল নামের এক অসৎ ব্যাক্তি। তিন ফসলি জমিসহ খাস জমি থেকে গর্ত করে মাটি কেটে গভীর খনন করায় চারপাশের ফসলি জমি চাষাবাদে হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কায় আছেন ভূমি মালিকরা। নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানায় খেটে খাওয়া আবাদি কৃষকরাসহ সুশীল সমাজ ।
অবৈধ ভাবে কৃষি জমির মাটি কাটা সর্ম্পকে জানতে মোঃ সামছুল এর বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায় ঘরের দরজায় বড় এটি তালা ঝুলছে । মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় । রাঙ্গাটি ব্রীজের পশ্চিম পাশে সামছুলের কুড়ার দোকানে গিয়ে দেখা যায় সাটার নামানো । পাশের দোকানদারগণ বলেন কিছুক্ষন আগেও ছিলেন । পাশের বাড়ীর এক মহিলা জানায়,সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘরে তালা দিয়ে দুরে সরে রয়েছে ।
সহকারী ভুমি কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড) আশরাফুর রহমান বলেন,এক্সকেভেটর মেশিন দিয়ে মাটি কেটে ফসলি জমিতে খনন করা যাবে না এমন নির্দেশনা রয়েছে । উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি ক্রমে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে মাটি বিক্রিকারী চক্রের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে