অপরাধআইন – আদালতজাতীয়
নব নির্মিত সেতুর নিচ থেকে মাটি উত্তোলন করে রাস্তা নির্মাণ


খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি;
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর হতে হেলিপ্যাড ইউজেড সদর দপ্তর রাস্তায় ভুল্লির নদীর উপর ৩ কোটি ২৩ লক্ষ ৮৮ হাজার ৩২৬ টাকা ব্যয়ে ৬০ মিটার নব নির্মিত আর সি সি গার্ডার ব্রীজের নিচ থেকে মাটি উত্তোলন করে ওই সেতুর রাস্তা নির্মান করছেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিএম (জিভি)।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেকু (খনন যন্ত্র) দিয়ে মাটি কাটাতে ঝুঁকিতে পড়েছে উদ্বোধন না হওয়া সেতুটি। এতে ব্রীজের নিচে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও যে কোন সময় ব্রীজের পিলারের নিচ থেকে মাটি ধ্বসে বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটারও আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।
এছাড়াও মাসুম নামে এক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে অবৈধভাবে মাটি তোলা বন্ধের জন্য লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি লিখেন, জাহাঙ্গীরপুর মৌজার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গেছে ভূল্লী নদী, যাহা সরকারি খাস জমি। উক্ত জমির পাশে আমার নিজস্ব জমি আছে। উল্লেখিত ভুল্লী নদী হইতে মো. লিটন ইসলাম নামে এক ব্যক্তি আমার পাশ্ববর্তী জমি হইতে অবৈধভাবে ভেকু দিয়ে মাটি উত্তোলন করিয়া বিক্রয় করিতেছেন। মাটি উত্তোলনের ফলে সেখানে গভীর খাল এর সৃষ্টি হইতেছে। যে স্থান হইতে অবৈধভাবে মাটি কাটিয়া উত্তোলন করিতেছে তার ঠিক উপরেই আমার জমি। যাহা প্রায় ভাঙ্গিয়া পড়ার উপক্রম হইয়াছে। যাহা ভাঙ্গিয়া পড়িলে আমি আশু ক্ষতির সম্মুখিন হইবো। এমতাবস্থায় আবেদনে উল্লেখিত ব্যক্তি যাহাতে উক্ত স্থান হইতে অবৈধভাবে মাটি কাটিয়া উত্তোলন করিয়া বিক্রয় করিতে না পারেন তাহার জন্য আপনার বরাবরে আবেদন করিলাম। প্রকাশ থাকে যে, উক্ত ব্যক্তি উল্লেখিত স্থান হইতে মাটি কাটিয়া উত্তোলন করিয়া বিক্রয় করাকালীন সময়ে আমি বাঁধা প্রদান করি, কিন্তু তিনি কোন বাঁধাই তোকায়াক্কাই করেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু দিন ধরে ওই ঠিকাদার নিয়ম না মেনেই সেতুর নিচ থেকে মাটি তুলে ওই সেতুর সড়ক নির্মাণ করছেন। সেতুটি কতদিন টিকবে বলাবাহুল্য। এছাড়াও মেয়াদ শেষ হলেও শেষ হয়নি সড়কসহ সেতু নির্মাণের কাজ। এতেই বিভিন্ন এলাকার জনগণসহ শিক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থা আইন, ২০১০-এর চার নম্বর ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, বিপণনের উদ্দেশে কোনো উন্মুক্ত স্থান, চা- বাগানের ছড়া বা নদীর তলদেশ থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। এই ধারার খ উপধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে সর্বনিম্ন এক কিলোমিটার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত সীমানার মধ্যে বালু ও মাটি তোলা নিষিদ্ধ। অথচ এই আইন না মেনে দমদমা সেতুর নিচ থেকেই মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিএম (জিভি)এর স্বত্বাধিকারী ফয়জুল বলেন, ব্যাচ ঢালাই পর্যন্ত আমার নিজস্ব মাটি ছিল সেটি উঠাইছি। এর বাইরে আমি মাটি উত্তোলন করিনি। আমি যে মাটি বা বালু ঢুকাইছি ওইখানে ওটাই বের করেছি। আমার তো আইন জানার দরকার নাই যে, আমি কয় কিলোমিটার পর্যন্ত খুঁড়তে পারবো।
উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা শাহ্ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, আমার জানামতে ব্রীজের পাশে জমির মাটি কিনে রাস্তা করছে। সে সেখানে গর্ত করেছিল সেই গর্তের মাটি রাস্তায় দিচ্ছে সেটা আমি নিজে গিয়ে দেখেছি। এরপর আমি তাকে মাটি কাটতে নিষেধ করি এবং সে বন্ধ করে দেয়। সে তার নিজস্ব মাটি রাস্তায় দিতে পারবে কিন্তু দু পাশের জমির উপরে লেভেলের মাটি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এরপরও যদি মাটি কাটে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজ উদ্দিন বলেন, ‘আমি বিষয়টি অবগত নই। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। যদি অনিয়ম করে থাকে তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ছবির ক্যাপশন: দিনাজপুরের খানসামায় নব নির্মিত সেতুর নিচ থেকে ভেকু (খনন যন্ত্র) দিয়ে মাটি উত্তোলন ।




Daily Aporadh Prokash