অপরাধআইন – আদালত

বগুড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজেই ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রার্থীতা প্রত্যাহার এর ঘোষণা দিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মেহেদী হাসানঃ

​বিষয়: নীল নকশার প্রহসনের নির্বাচনী পরিবেশ ও
রাষ্ট্রীয় দমন-নিপীড়নের প্রতিবাদে প্রার্থীতা প্রত্যাহার।

সম্মানিত সুধী,
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৬-বগুড়া-০১( সারিয়াকান্দি -সোনাতলা) আসন থেকে আমি মোছা: শাহাজাদী আলম লিপি, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলাম। কিন্তু বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের যোগসাজশে যে একতরফা ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ন্যূনতম কোনো গণতান্ত্রিক পরিবেশ অবশিষ্ট নেই।

এমতাবস্থায়, জনগণের ভোটাধিকার হরণের এই প্রক্রিয়ায় নিজেকে অংশীদার না করতে আমি নিম্নলিখিত সুনির্দিষ্ট কারণ সমূহের কারণে আমি আমার প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিচ্ছি।


​গণগ্রেপ্তার ও মিথ্যা মামলা: গত কয়েক সপ্তাহে আমার নির্বাচনী এলাকার নিরীহ নেতাকর্মীকে ভিত্তিহীন ও গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি উচ্চ আদালত থেকে জামিন থাকার পরেও পুলিশি হয়রানি ও বাড়ি বাড়ি তল্লাশি বন্ধ হয়নি।

​প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ: স্থানীয় রিটার্নিং অফিসার এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের দাসের মতো আচরণ করছে।

নীল নকশার নির্বাচন : বর্তমান নির্বাচন কমিশন একটি বিশেষ দলকে ক্ষমতায় বসানোর যে নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে, সেখানে কোনো স্বতন্ত্র বা বিরোধী প্রার্থীর জয়লাভ করা তো দূরের কথা, সাধারণ ভোটারের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার নিরাপত্তাই নেই।

​আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, নীল নকশার এ অবৈধ নির্বাচনে অংশ নেওয়া মানে দেশ ও জনগণের সাথে প্রতারণা করা এবং স্বৈরাচারী ব্যবস্থাকে বৈধতা দেওয়া।

গণতান্ত্রিক পরিবেশের অনুপস্থিতি: আসন্ন এ নির্বাচনে অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ন্যূনতম লক্ষণ দৃশ্যমান নয়।​আমি মনে প্রানে ধারন ও লালন করি, যেখানে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নেই, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই, সেখানে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা লোকদেখানো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া আর কিছু নয়। এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা আমার রাজনৈতিক আদর্শের পরিপন্থী।

তাই বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে আমি এই নির্বাচন বর্জন করছি।

সেই সাথে ​আমি আমার নির্বাচনী এলাকার ভোটার এবং নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই যারা প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার
ফিরে না আসা পর্যন্ত রাজপথে আমাদের লড়াই চলবে।

​বিনীত,
মোছা: শাহাজাদী আলম লিপি
৩৬-বগুড়া-০১(সারিয়াকান্দি-সোনাতলা)

প্রেস বিজ্ঞপ্তি তারিখ: ২০/০১/২০২৬

(ফেসবুক থেকে নেওয়া)

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button