পাবনার বেড়ার জাতসাখিনী ইউনিয়নের বক্তারপুরে সিফা ব্যাটারি কারখানায় পুরাতন ব্যাটারি পুরানো ফুটন্ত সিসায় দুই কর্মচারী দগ্ধ হয়েছেন। গত সোমবার গভীর রাতে কারখানার আরালে গড়ে তোলা অবৈধ মাটির বাংলা চুলার টলী থেকে এ ঘটনা ঘটে । দগ্ধ দুই জন হলেন কামরুল ইসলাম (৪৫) এবং শুভ (৩৫)। ঘটনা টি জানাজানি হওয়ার আগেই দগ্ধ দুই কর্মচারী কে ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে গোপন সুএে জানা যায়। এছাড়াও দগ্ধ কর্মচারীর পরিবার কে টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করে রেখেছেন। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে।
এলাকায় অনুসন্ধানে জানান যায় বিষাক্ত সিসার কারখানার কারণে আসে পাশের জমিতে ফসল হয় না। জমির ঘাস গরু ছাগল খেলেই মারা যায়। সিসার ধোঁয়ায় ফলজ গাছের ফল ধরে না। আশেপাশের মানুষ সিসার ধোঁয়ায় বিভিন্ন জটিল কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এলাকাবাসী জানান কিছু দিন আগেও নুন আনতে পান্তা ফুরাতো তার। মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতো। আবার রাস্তায় রাস্তায় তালের শাঁস বিক্রি করতো। কাঁচা মালের ব্যবসা করে আয় উপার্জন করে কোন মতে সংসার চালাতো সেই জয়দার কি এমন আলাউদ্দিনের চেরাগ পেলো এত অল্প সময়ে কোটি টাকার মালিক বনে গেলেন। এলাকার রাজনৈতিক ব্যক্তি থেকে প্রশাসন কে ম্যানেজ করে পরিবেশের ক্ষতিকরেও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পএের দোহাই দিয়ে গ্রামের দশ হাজার মানুষ কে স্বাস্থ্য ঝুকিতে ফেলেছেন। কারখানার পাশেই রয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক, একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় , মসজিদ মাদ্রাসা, বাজার। ঘনবসতি পুর্ন গ্রাম হলেও জয়দারের ক্ষমতার কাছে গ্রামের মানুষ আজ অসহায় হয়ে পরেছে কেউ তার সামনে ভয়ে কথা বলার সাহস পায় না। প্রশাসনের বিভিন্ন কর্তা ব্যক্তি কে দাওয়াত দিয়ে তার বাড়িতে এনে খাওয়ায়ে ক্ষমতার জানান দেন এলাকায় । হঠাৎ করে এই জয়দার আলাঊদিনের চেরাগের দৈত্য আকৃতির গল্প কেও হার মানিয়েছে।। এখন সে শত শত কোটি টাকার মালিক। তাই শত কষ্টেও কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না গ্রামে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।
উল্লেখ্য ইতিপূর্বে উক্ত স্থানের পাশেই নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়নে আজ থেকে দশ বছর আগে এই অঞ্চলে পুরাতন ব্যাটারি ভাঙার কাজ করা হতো। সেই সাথে যমুনা নদীর ধারের চড়ের উপর খোলা মাঠে এই বিষাক্ত ব্যাটারির ছালী গলানো হতো এতে পরিবেশের মহাবিপর্যয় দেখা দেয়। বিষাক্ত ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষিত হওয়ায় এবং মানুষের শ্বাসকষ্টর কারণ সহ কৃষিতে বিপর্যয় দেখা দেওয়ায় এবং গরু ছাগল মারা যাওয়ায় এ সব খোলা চুল্লী বন্ধ করে দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর। বর্তমানে এ সব খোলা চুল্লী বন্ধ থাকায় এলাকার পরিবেশ, জনগণের চলাফেরা খাওয়া দাওয়া জনজীবন বেশ ভালোই রয়েছে। সম্প্রতি এই অঞ্চলে সিসার মাটি গলানোর কথা বলে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অনুমতি নিয়ে এসে কারখানার ভিতরে অবৈধ মাটির বাংলা চুলায় গোপনে পুরাতন ব্যাটারি ভেংগে গলানো হচ্ছে ফলে রাত নামলেই এলাকায় ধোঁয়ায় এলাকার মানুষের বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে । নিরুপায় হলেও সাধারণ মানুষ তার ভয়ে কিছু বলার সাহস পায় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যাক্তি জানান কারখানার ভিতরে রাতে খোলা অবস্থায় পুরাতন ব্যাটারি পুরিয়ে সিসা তৈরি করা হয়। এ সময় গন্ধে নিশ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে যায়। এ ধরণের সিসার খোলা চুলা আগেও ছিলো এলাকায় বিভিন্ন পএ পএিকায় নিউজ হওয়ায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে রাতে কারখানার গেট বন্ধ করে এ সকল অপকর্ম করেন কারখানায়। কেউ কিছু বলতে ভয়ে সাহস পায় না। কারণ তারা এলাকায় অর্থশালী অথচ কিছু দিন আগেও দিন মুজুরী করতো। এত অল্প সময় এত টাকার মালিক বনে যাওয়ার পিছনে অন্য কোনো অবৈধ উপায় থাকতে পারে বলে মনে করেন।
সম্প্রতি সেখানে গিয়ে দেখা যায়,
কারখানাজুড়ে বসানো হয়েছে সিসার বার তৈরির মেশিন ও মাটির বাংলা চুলাও। সেসব মেশিনে উৎপাদিত সিসার বার, কাঁচামাল ও কয়লা কারখানার পুরো শেড জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন স্থানে।
কয়েকজন শ্রমিক কোনো নিরাপত্তা সামগ্রী ছাড়াই কাজ করছেন বিষাক্ত এ কারখানায়। স্বাস্থ্য ঝুকি নিয়েই কাজ করছে নিরুপয় হয়ে শ্রমিকরা। বর্তমানে যেখানে বাংলাদেশ সরকার পরিবেশ বিনষ্ট কারিদের উপর কঠোর থেকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিভিন্ন পরিবেশ অধিদপ্তরকে সেখানে ঘনবসতি পূর্ণ গ্রামের ভিতর কিভাবে প্রশাসন কে ম্যানেজ কর বিষাক্ত সিসার কারখানা চালায় জনমনে প্রশ্ন। কত টাকাই দিয়েই কি ভাবেই তারা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়। যে সিসার ধোঁয়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে শিশু কিশোর থেকে বৃদ্ধ সহ সাধারণ মানুষ। সিসার ধোঁয়ায়
মরণ ব্যাধি ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ হয়। বর্তমানে এলাকায় শ্বাসকষ্ট জনিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। এই শিল্প কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া থেকে রক্ষা পেতে ও মরণ ফাঁদ থেকে বাঁচতে চায় সাধারণ জনগণ। সেই সাথে বাংলাদেশ সরকার ও প্রশাসনের কাছে এই কারখানা বন্ধের ও আইনের আওতায় আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকার সাধারণ মানুষ । সেই সাথে পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন প্রতিষ্ঠান জনবহুল স্থান থেকে সরানোর অনুরোধ জানান।