অপরাধআইন – আদালত

আশুলিয়ায় এক স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক স্ত্রী”র অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আশুলিয়ায় নারী লোভী এবং চরিত্রহীন স্বামী মোঃআমিনুল ইসলাম ভূইঁয়ান নামে এক প্রতারক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে একাধিক স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় সহ ঢাকা জেলা জজ আদালতে একাধিক মামলার তথ্য মেলে।
গত ৯ আগষ্ট ( বুধবার) মোঃ আমিনুল ইসলাম ভূইঁয়ান, এর ৪র্থ স্ত্রী (কাজী জান্নাতুল ফেরদৌস সুরাইয়া) বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় ২জনের বিরুদ্ধে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন(সংসোধনীয় ২০২৩) এর ১১(গ)৩০ধাঃ একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির সূত্রধরে উঠে আসে চরিত্রহীন এক অমানুষ স্বামীর চরিত্র।
ভূক্তভোগী (কাজী জান্নাতুল ফেরদৌস সুরাইয়া) জানায়,সরকারী বিধি নিয়ম মেনে গত ২০২২ সালে আমিনুল ইসলাম ভূইঁয়ান এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং স্বামী-স্ত্রী সংসার করতে থাকে। কিছুদিন পার হতেই তার স্বামী তাকে যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন ভাবে শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন করতে থাকে। বাধ্য হয়ে অনেক বার বড় ভাইয়ের নিকট হতে বিভিন্ন সময় কয়েক লাখ টাকা নিয়ে তাকে দিয়েছি। গার্মেন্টসের ব্যবসা করার কথা বলে আবারও সে টাকার দাবি করে। এ সময়, বাবার মৃত্যূর পর অরিশ সূত্রে পাওয়া আমার ভাগের ৬,৭৫,০০০(ছয় লাখ পচাত্তর) হাজার টাকা এককালিন সে নগদ গ্রহণ করেছে।এখন সে আরো ৩,০০০০০(তিন লাখ)টাকা দাবি করে বিভিন্ন হুমকী দেওয়ায় ৩রা জুলাই একটি সাধারণ ডায়রী করা হয় যার নং১৫৩ । বর্তমানে তিন লাখ টাকা দিতে না পারায় গত ০৬/০৮/২০২৩ ইং জনসম্মুখে এলোপাথাড়ী মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে পালিয়ে গা ঢাকা দেয়।এ বিষয়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে তিনি ইয়াংওয়ান গার্মেন্টসের একটি অফিসার পদে চাকুরী করাকালে ১ম প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় ঐ গার্মেন্টস এর একজন নারী অপাঃকে বিয়ে করে।যারফলে ১ম স্ত্রী মুক্তা আকন্দ বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ জেলা আদালতে যৌতুক আইনে একটি মামলা দায়ের করলে।সেই মামলায় ২৫ দিন হাজত খেটে জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ীতে এসেই তাকে তালাক প্রদান করে।২য় স্ত্রী সাথী সুলতানা বাদী হয়ে ঢাকা জেলা জজ আদালতে নারী শিশু ট্রাইবুনাল ৯ এ ১১(খ)৩০/৩১২/৩১৩ধারাঃএকটি মামলা দায়ের করে।অমানুষ স্বামী মোঃ আমিনুল ইসলাম,পিতা-মৃত মিজানুর রহমান,ঢাকা জেলার আমবাগান(জাহাঙ্গীরনগর),থানাঃআশুলিয়ায় বসবাস রত।
ঐ মামলার সুত্রে জানাযায়,বাড়ীর কাজের বুয়া সহ বিভি নারীদের সাথে সে নিত্য অসামাজিক কাজে নিয়োজিত থাকতেন। গার্মেন্টসে জিএম পদে চাকরি করা অবস্থায় ডিউটি করার কথা বলে নারীদের নিয়ে নিজ বাড়ীর বাহীরে রাত যাপন করা ছিল তার অভ্যাস।চাকরি জীবনে একাধিক নারী শ্রমিকের সাথে অনৈতিক কাজে হাতে নাতে ধরা পরে সে চাকরি চ্যূত হন তিনি। তার আগে, টিউশনি করা কালে অল্প বয়সের মেয়েরাসহ নিজ এলাকায় রিক্সাওয়ালার মেয়েরাও তার হাত হতে রেহায় পায় নাই।এরপর সাথী সুলতাকেও তালাক করে বিদায় দেয়।জানাযায় ২য় স্ত্রী সাথী সুলতানার বাড়ী বরিশাল জেলায় অবস্থিত। ৩য় স্ত্রী বাতাসী বেগম, স্বামী নামের অমানুষটির নির্যাতন সইতে না পেরে নিজে থেকেই তালাক করে চলে গেছে বলে জানায়,৪র্থ স্ত্রী (কাজী জান্নাতুল ফেরদৌস সুরাইয়া)।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার মামলার তদন্তকারি উপ-পরিদর্শক নুর আলম মিয়া সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে আসামীদেরকে গ্রেফতার করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button