ধর্মরাজনীতি

পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, মোঃ শিহাব হোসাইন

শেখ মোঃ হুমায়ুন কবির:-

মাহে রমজান প্রতিটি মুসলমানের জীবনে বয়ে আনুক শান্তি-সুখের বার্তা, সবার জীবন হয়ে উঠুক মঙ্গলময়।
মুসলমান রমজান মাসে সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য আত্মার পরিশুদ্ধির প্রশিক্ষণে নিয়োজিত হয়। রমজান মাসে গুণাহ বা পাপ বিমোচিত হয়, পূণ্য বা নেয়ামত বৃদ্ধি পায়। সারাদিন সকল ধরনের পানাহার থেকে মুক্ত হয়ে আত্মত্যাগের মাধ্যমে মোমিন মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করেন। মহান আল্লাহর অসংখ্য নেয়ামতের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি নেয়ামত হলো কোরআন মজিদ। এই রমজান মাসেই কোরআন মজিদ নাজিল হয়েছিল।

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে, দেশ ও দেশের বাহিরে সকল মুসলিমদের, মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগ নেতা, মোঃ শিহাব হোসাইন।

মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে মোঃ শিহাব হোসাইন বলেন।
আল্লাহ্ পাকের অশেষ রহমত আমাদের প্রতি- দিয়েছেন সিয়াম সাধণার মাস, এ মাস আল্লাহ তা‘আলার এক বিশেষ নিয়ামাত। এটি সাওয়াব অর্জন করার মাস। সাওয়াবের মওসুম। এ মাসেই অবতীর্ণ হয়েছে পবিত্র গ্রন্থ আল কুরআন।

রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে এসেছে রমজান মাস, এসেছে আল কুরআন।
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيَ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلاَ يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُواْ الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُواْ اللّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
রমজান মাসই হলো সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান।

তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না, যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তা’আলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।’ -সূরা আল বাকারাহ : ১৮৫

মোঃ শিহাব হোসাইন আরো বলেন, বিশ্ব নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) আলাইহ ওয়া সাল্লামের নির্দেশনা অনুযায়ী মুমিন মুসলমান বিশেষ চারটি আমল, জিকির ও দোয়া করার মাধ্যমে মাসটি ইবাদতে কাটাবে। রোজাদারের জন্য মাসটি ইবাদতের বসন্তকালে পরিণত হবে। আমল চারটির মধ্যে দুটি মহান আল্লাহর জন্য আর দুটি বান্দার জন্য। হাদিসে এসেছে-

হজরত সালমান ফারসি (রাঃ) আনহু বর্ণনা করেন, ‘শাবান মাসের শেষ দিন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্য এ মর্মে বক্তব্য দেন যে। হে লোক সকল, অবশ্যই তোমাদের সামনে মহান মাস, বরকতময় মাস উপস্থিত। এ মাসে তোমরা ৪টি আমল বেশি বেশি আদায় করবে। এর মধ্যে দুইটি কাজ আল্লাহর জন্য আর দুইটি কাজ তোমাদের নিজেদের জন্য।

আল্লাহর জন্য ২ আমল
১/কালেমার সর্বোত্তম তাসবিহ- لَا اِلَهَ اِلَّا الله ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করা।
২/আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ইসতেগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা করা। তাহলো-

জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আদখিলনাল জান্নাতা ওয়া আঝিরনা মিনান নার।’

অর্থ: হে আল্লাহ আমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করান এবং জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিন।
اَللهُمَّ انَّ نَسْئَلُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনান নার।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় চাই। বিশ্বনবী (সাঃ) আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো ঘোষণা করেন, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা ৩ বার জান্নাতের আশা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করবে, জান্নাত-জাহান্নামও আল্লাহর কাছে ওই ব্যক্তির দোয়া কবুলে সুপারিশ করবে।

মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে, মোঃ শিহাব হোসাইন আরো বলেন। হে আল্লাহ্ পুরো রমজান মাসজুড়ে উল্লেখিত বিশেষ চারটি আমল ও দোয়াগুলো যথাযথ পালনে আপনার তৌফিকের বিকল্প নেই। যে আমলগুলো করতে শাবান মাসের শেষ দিন বিশ্বনবী সাহাবায়ে কেরামকে নসিহত পেশ করেছেন।

হে আল্লাহ্ মুসলিম উম্মাহকে পুরো রমজান মাসজুড়ে রোজা পালন, ফরজ ও নফল নামাজ, জিকির-আজকারের পাশাপাশি বিশেষ ৪ আমল ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দোয়াগুলো যথাযথ আদায় করার তৌফিক দান করুন। রমজানের, রহমত- মাগফেরাত ও নাজাত লাভের তৌফিক দান করুন, আমিন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button