সাঈম সরকারঃ
আশুলিয়ায় বিনা সুদে ১ লাখ হতে ১কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদানের আশ্বাস প্রদান করে ৫০/১০০টাকা মূল্যে ফরম বিক্রি হচ্ছে। গার্মেন্টস শ্রমিকসহ খেটে খাওয়া বিভিন্ন কর্মস্থলে শ্রমিক শ্রেণী অতি উৎসাহে সেই ফরম ক্রয় করতে শুরু করেছে।ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ আগস্ট (শনিবার)সন্ধায়। গার্মেন্টস ছুটি হওয়ার পর থেকে জামগড়া উত্তর পাড়া,গফুর মন্ডল স্কুলের পাশে ছোট্ একটি দোকান ভাড়া নিয়ে ফরম বিক্রির কাজ চালিয়ে আসছেন।
এমন সংবাদের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, অন্তর্বতিকালীন সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর ইউনূস সাহেব এর সুনাম ক্ষুন্ন করতে একটি প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে এই ব্যবসা শুরু করেছে।প্রতারক চক্র এই বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে,তাদেরকে সর্বনিম্ন এক লাখ টাকা থেকে শুরু করে এক কোটি টাকা পর্যন্ত বিনা সুদে সরকারের পক্ষ থেকে ঋণ প্রদান করা হবে।যার ফলে,গ্রাম থেকে উঠে আসা নিরিহ ও নির্বোধ গার্মেন্টস শ্রমিক হতে শুরু করে খেটে খাওয়া সকল প্রকার নিম্নঃ আয়ের সাধারণ জনগণ অতি উৎসাহে সেই ফরম ক্রয় করতে শুরু করেছেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে,ঋণ প্রদানের ফরম বিক্রয়ে দায়িত্বরত মোছাঃ জলি” তার হেড অফিসে স্যার-কে মুঠো ফোনে ফোন করে সংবাদকর্মীদের-হাতে ধরিয়ে দেন । ফোনের ওপর প্রান্ত থেকে রহমান নামে এক স্যারের ধমক ভেসে আসে।তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন যে,আপনাদের ওখানে যাওয়ার সাহস হলো কেমন করে ?সাহস থাকলে আমাদের অফিসে আসুন।
রাত ৯টায় অফিসে গিয়ে দেখা যায় মাসুদ পারভেজ ও রাজমিস্ত্রী'র কন্টাকটার রহমান নামের দুই ব্যাক্তি বসে আছেন অফিসের বড় দুই চেয়ারে। অফিসের চারদিকে রয়েছে বিভিন্ন সংগঠনের চটকধারী ফেস্টুন ব্যানারে সাজানো।
ওনারা সংবাদকর্মীদের দেখা মাত্রই প্রথমে চটে যান এবং অশালীন-ভাষায় গালা-গাল করেন।তাদের তর্জন-গর্জনে আশে-পাশের লোকজন জমায়েত বেড়েই চলছে বুঝতে পেরে সাংবাদিকদের আড়ালে ডেকে নিয়ে সম্মাননা দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বলেন।
এলাকাবাসি জানায়,প্রতারক চক্রের প্রধান মাসুম পারভেজ ও রহমানের দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ নিরীহ মানুষদের সাথে প্রতারনা করে আসছে।এই চক্রের অনেকেই বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জরিত রয়েছে। বর্তমানে নিশ্চিন্তপুরের আমেনা মসজিদের পাশেই একটি ভাড়া বাসায় থাকেন বলে জানান তার অফিসে কর্মরত স্টাফ ও সদস্যরা। মাসুদ পারভেজ মাঝে মধ্যে নিজেকে জাতীয় শ্রমিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস এন্ড লেদার ফেডারেশনের শ্রমিকনেতা এবং নিজেকে সাংবাদিক হিসাবেও দাবি করেন। তিনি জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হওয়ার জন্য দোয়া চেয়ে তার একটি বড় ফেস্টুনও লাগানো রয়েছে অফিসে। তিনি মানবাধিকার,সাংবাদিক,শ্রমিক নেতা,লুণ্ঠিত অর্থ ফেরত,কাপড়ে ব্যবসায়ী,বিনা টাকায় বিদেশ যাওয়ার সুবিধাসহ একাধিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন বলে নিজেকে জাহির করেন। উল্লেখ্য যে, এই প্রতারক চক্রটিকে আটক করতে ইতিপূর্বে র্যা ব কর্তৃক অভিযান চালানো হয়। ঐসময় আশুলিয়ার নরসিংহপুর থেকে অফিস পরিবর্তন করে অন্য স্থানে চলেগিয়ে কিছু দিন গাঁ-ঢাকাদিয়ে ছিলেন।বর্তমানে সে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের তৈয়বপুর এলাকায় ফ্রেন্ডস গার্মেন্টসের সামনে আবারো নতুন ভঙ্গিতে অফিস খুলে বসেছেন।
উল্লেখিত ঋণ প্রদানের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি প্রথমে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, পরে প্রমাণাদি পেশ করলে তিনি, তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেন। পারভেজ বলেন, আপনারা কাকে নিয়ে আসবেন নিয়ে আসুন সমস্যা নাই। প্রশাসন না-কি তার পকেটে ভরে রাখেন। প্রশাসনকে তিনি কিভাবে পকেটে ভরে রাখেন জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, আরে যা পারেন করেন গিয়ে। এরকম কতো সাংবাদিক হাওয়া করে দিলাম আর আমার কাছে তথ্য নিতে আসছেন আপনারা। এসময় প্রতারণার কথা স্বীকার করে প্রতারক চক্রের আরেক সদস্য আঃ রহমান সংবাদকর্মীদের দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদান করে।
জানাযায় আঃ রহমানের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়। বর্তমানে তিনি নিশ্চিন্তপুর আমেনা মসজিদের পাশে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
আশুলিয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মাসুদুর রহমান বলেন, বিনাসুদে ঋণ প্রদানকারীদের ঐ চক্র সম্পর্কে জানা নেই।এ ধরনের প্রতারণা কাজের সাথে জরিত রয়েছে এমন তথ্য পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।