আশুলিয়ার জিরানি এলাকায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে পরেছেন ওসমান বাহিনীর সদস্যরা,যার ফলে প্রতিনিয়তো ওসমান বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন আশুলিয়ার জিরানি এলাকার বাসিন্দারা । সন্ত্ররাসী ওসমান বাহিনী এলাকায় টেন্ডার, চাঁদাবাজি, ময়লা বানিজ্য, জমি দখল সহ সকল প্রকারের অপকর্মের মূল হোতা ওসমান সহ তার বাহিনীতে জরিত ৩০ /৪০ জন সক্রিয় সন্ত্ররাসীরা।
সরেজমিনে সন্ত্ররাসী ওসমানের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কিশোরগঞ্জের দরিদ্র পরিবারের ওসমান পরিবারের দারিদ্র্যতা লাঘবের আশায় স্বপরিবার নিয়ে এসেছিলেন আশুলিয়ার জিরানি এলাকায়, আওয়ামী ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ওসমান আশুলিয়ার জিরানি এলাকায় করেন ময়লার ব্যবসা, কিন্তু আড়ালে চালিয়েছে তার সন্ত্ররাসী বাহিনী দিয়ে দখলদারিত্ব আর সন্ত্রাসের রাজত্ব।
বিগত সরকারের ( ভাতের হোটেল খেতাবপ্রাপ্ত) প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা সাবেক ডিবি প্রধান হারুনের সাথে সখ্যতা থাকায় শূণ্য হাতে আশুলিয়ায় এসে এখন কোটিপতি বনে গেছেন ওসমান। একই এলাকায় বাড়ি হওয়ায় হারুনের বাবা নিয়মিত বেড়াতেও আসতেন ওসমানের বাসায়।
সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে সড়ক ও জনপদের আশুলিয়ার নয়ারহাট শাখার কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে ওসমান। এরপর সড়কের যায়গা দখলে নিয়ে ময়লার ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে জমি দখল তার নেশায় পরিনত হয়। এর জন্য সে গড়ে তোলে বিশাল সন্ত্রাস বাহিনী। তার সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে এ অঞ্চলে অনেকেই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
আশুলিয়ার জিরানি নবী টেক্সটাইল নামক এলাকায় এক একর জমির ওপর কূনজর পড়ে ওসমানের। ওই জমি মালিকদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা দাবি করে এই বাহিনী। দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দেওয়ায় সশস্ত্র হামলা চালিয়ে সাবেক দুই সেনাকর্মকর্তা সহ প্রায় ১০জনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।ঘটনাস্থল গাজিপুর সিমানায় হওয়ায় কাশিমপুর মেট্রো থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তোভোগী পরিবার।
শুক্রবার দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর থানা পুলিশ।এর আগে গত শনিবার (২১সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই হামলা চালায়।
অভিযুক্ত আসামীরা হলো, বাহিনী প্রধান ওসমান ওরফে ময়লা ওসমান, শহিদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর, রায়হান, আব্দুল গনি, রবিউল, ফরহাদ হোসেন, রুহুল আমীন, মাসুদ হোসেন, কালাম, সেলিম, রহমত উল্যাহসহ অজ্ঞাত আরো ৩৫-৪০ জন।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন, সাবেক সেনাকর্মকর্তা সুলতান মোহাম্মদ নুরানী ও আসাদুজ্জামান মানিক। অন্যরা হলেন, সালেহ ইকবাল, বাহাউদ্দীন, রিয়াজ, জান্নাত, সিপন, অঞ্জনা, সাদ উদ্দিন ও শাহাবুদ্দিন আহমেদ।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনার পর ওসমান বাহিনীর নামে থানায় মামলা দায়ের পর তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আসামীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও অদৃশ্য কারনে পুলিশ আসামীদের গ্রেপ্তার করছেনা। বরং বিভিন্ন মাধ্যমে ওসমান বাহিনী তাদের হুমকি দিচ্ছে বলেও জানান ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগী সালেহ ইকবাল জানান, তার ব্যবসায়ী পার্টনার সাবেক সেনাকর্মকর্তা সুলতান মোহাম্মদ নুরানীসহ ছয়জনের মালিকানায় কাশিমপুর থানার পানিশাইল মৌজায় এক একর জমির মালিক তারা। গত পাঁচ বছর আগে অভিযুক্ত ওসমান, শহিদুল ও জাহাঙ্গীর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমিতে থাকা স্কুল ও গোডাউনে ভাংচুর চালায় এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে ও জোরপূর্বক জমিটি দখলে নিতে অপচেষ্টা চালায়।
এঘটনা গড়ায় আদালত পর্যন্ত। আদালতের সব রায় সালেহ ইকবালদের পক্ষে আসলে গত শনিবার (২১সেপ্টেম্বর) সকালে তার লোকজন জমিতে সাইন বোর্ড লাগাতে গেলে ওসমান, শহিদুল ও জাহাঙ্গীর ১০লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। সালেহ ইকবাল টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ওঁৎ পেতে থাকা অন্য আসামীরা সহ অজ্ঞাত আরো লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এসময় অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনাকর্মকর্তা সহ ১০জন রক্তাক্ত জখম হয়। আহতদের ডাক চিৎকারে আত্মীয়-স্বজন সহ স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে আশুলিয়া ও সাভারের বিভিন্ন হাসপাতাল এবং ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার মুগদা সরকারি হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েজন এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ওসমানের বাড়ি সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদের এলাকায় হওয়ায় এই প্রভাবে জিরানি এলাকায় মাফিয়া তন্ত্র কায়েম করেছে। হারুনের সাথে তার পারিবারিক সখ্যতা রয়েছে। এমন কী হারুনের বাবা ওসমানের বাড়ি বেড়াতেও আসতেন। সেই থেকে ওসমান এলাকার মূর্তিমান আতঙ্ক। বর্তমান আশুলিয়ার নবী টেক্সটাইল এলাকায় দেলোয়ারের বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকে অভিযুক্ত ওসমান। দেলোয়ার তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে ক্ষোভ জানিয়েছে অনেকে।
এব্যাপারে কাশিমপুর মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, থানায় মামলা হয়েছে। আসামীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।
তবে এর আগেও একাধিক পত্রিকায় ওসমান বাহিনীর দখলদারিত্ব ও হামলা ভাংচুরের খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ওসমানের মোবাইলে কয়েকবার ফোন দিলে ফোনটি রিসিভ হয়নি।