অপরাধআইন – আদালতশিক্ষাঙ্গন

আশুলিয়ায় স্কুল কতৃপক্ষের নিকট জিম্মি ছাত্র/ছাত্রীদের অবিভাবক বৃন্দ

সাঈম সরকারঃ
আশুলিয়ায় ব্যাঙের ছাতার মত নিবন্ধন বিহীন গজিয়ে উঠেছে কয়েক হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে কসাইখানা। রাষ্ট্রীয় ভাবে কড়া নজরদারি না থাকায় সেই কসাইখানা গুলোর অসৎ কতৃপক্ষের নিকট জিম্মি হয়ে ছাত্র/ছাত্রীদের অবিভাবক বৃন্দ দিকবিদিক দিশেহারা হয়ে পরেছে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গার্মেন্টস শ্রমিক থেকে শুরু করে সকল প্রকার খেটে খাওয়া ও মেহনতি হত দরিদ্র অসহায়দের বসবাস এই এলাকায় । সন্তানদের সূ-শিক্ষায় শিক্ষীত করার প্রবল ইচ্ছা থাকার পরেও হাফিয়ে উঠছে সন্তানদের অবিভাবকগণ। যদিও এই এলাকায় রয়েছে নিবন্ধীত ও নিবন্ধন বিহীন কয়েক হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নামক কসাইখানা। রমরমা এই ব্যবসায় অনেকেই জিরো থেকে হিরো হয়ে উঠেছে। হয়েছে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ। এদের মধ্যে প্রথমেই উঠে আসে রোস্তম আলী মন্ডল মিলন নামে এক অ-নিবন্ধীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতার নাম।জেলা গাইবান্ধা থেকে এসে প্রথমে টিউশনি পরে ভাদাইলের হামিদ ভূঁইয়া স্কুলে চাকুরী নেন।পরে নিজেই”ড্যাফোডিল স্কুল এন্ড কলেজ”নামে একটি কসাইখানা খুলে বসেন।ছাত্র/ছাত্রীদের অবিভাবকদের জিম্মি করে কৌশলে শতভাগ পাশ করিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাদের নিকট থেকে মোটা অঙ্কের বেতন নিয়ে অল্প দিনেই হয়েছেন আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ।এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ বাবদ সরকারী ভাবে ২ হাজার বিশ টাকা হতে ২১শত ৪০টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও মানছেন না নিয়ম-নীতি।প্রতি জন এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম ফিলাপ বাবদ নিয়েছেন ১০ হতে ১২ হাজার টাকা।বাড়তি আরো নেওয়া হয়েছে যাতায়াত গাড়ী ভাড়া বাবদ ৩/৪ হাজার এবং প্যাকটিক্যাল বাবদ ২ হাজার টাকা। প্রতি বছরে ১০ হইতে ১২ জন ছাত্র/ছাত্রীর A+ নিয়ে আসা নিজের স্কুলটির নিবন্ধন না থাকায় ধামরাই থানাধীন, কালামপুর কুশুড়া এলাকার নিবন্ধীত ”আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয়” ও” নবযুগ বিশ্বিবদ্যালয়”থেকে পরীক্ষা প্রদানের জন্য ফরম পুরুণ করান ছাত্র/ছাত্রীদের।
জানাযায়, প্রতিবছর তিনি জালসা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সহযোগিতায় ৩০ টি করে নৈব্যক্তিক ও নকলের মাধ্যমে শতভাগ পাশসহ এই প্লাস নিয়ে আসেন। যার ফলে ছাত্র/ছাত্রীরা পড়াশোনা না করে নকলে পাশ করার আশায় একটি প্রবণতা তৈরী হয়। যা তাদের পড়াশোনার মান ক্ষুণ্ণ করে এবং মেধা বিকাশে বাধা প্রাপ্ত হয়।
সহযোগিতায় রয়েছে বগুড়া থেকে আসা উক্ত স্কুলেরই এক সহকারী শিক্ষক আতাউর । পরীক্ষার কেন্দ্রে গিয়ে নিজ হাতে নকল প্রদান করে থাকেন এই আতাউর। নকলের মাধ্যমে মন জয় করে ছাত্র/ছাত্রীদের কাছে নিজেকে তিনি আস্থাভাজন ও প্রিয় শিক্ষক হিসাবেও স্থান করে নিয়েছেন। এ দিকে নকল দিয়ে সহ যোগিতা করে ভালো ফলাফল এনে দেওয়ায় অবিভাবকগণ আসল রহস্য থাকেন অজানা। খেয়ে না খেয়ে সন্তানদের সূ-শিক্ষায় শিক্ষিত করার আশায় কষ্টে অর্জিত হাজার হাজার টাকা তুলে দিচ্ছেন ঐ কসাই রোস্তম আলী মন্ডল মিলন গং-দের হাতে। পরীক্ষার কেন্দ্রে আতাউরকে দিয়ে প্রতিজন ছাত্র/ছাত্রীকে নকল পৌছিয়ে প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধ ভাবে উপার্জন করে কোটিপতির বনে পারি জমিয়েছেন কসাইখানার মালিক। অবৈধ আয়ের টাকায় অল্প দিনেই রোস্তম আলী মন্ডল মিলন ভাদাইল গ্রামে ৩টি বাড়ির মালিক। আর সহকারী শিক্ষক আতাউরে ঐ কসাইখানার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতি মাসে প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা। এছারাও তার রয়েছে আরো ব্যাপক দুর্নীতি।যেমন,সরকারী ভাবে বৃত্তি প্রাপ্ত ছাত্র/ছাত্রীদের বৃত্তির টাকার সবটাই নিজেই আত্নসাৎ করার অভিযোগও পাওয়া যায় । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ছাত্রীর অবিভাবক জানায়,২০১৯ সালে G.P.O=5.00 এবং G.P.O=4.89 পেয়ে ঢাকা জেলায় ১১তম ও ৪৪তম সরকারী ভাবে বৃত্তি প্রাপ্ত স্থান দখল করে। তাদের বৃত্তির টাকা-পয়সা বা, সরকারী ভাবে কোন প্রকার সুযোগ সুবিধা আজ পর্যন্ত পায় নাই।
উক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে রোস্তম আলী মন্ডল মিলন দৈনিক গণমুক্তি”কে দ্বায়সারা বক্তব্য দেন এবং দই মিনিট পর কথা বলবেন বলে অপর প্রান্ত থেকে ফোনের সূইজ অফ করে দেন। পরে শত চেষ্টা করেও ফোনে কোন প্রকার সংযোগ মেলে নাইে। এদিকে জোমগড়া এলাকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা বিষয়টি সগৌরবে স্বীকার করে বলেন যে,হাজার হাজার সরকারী স্কুল রয়েছে। সে গুলোর শিক্ষকবৃন্দ ছাত্র/ছাত্রীদের লেখাপড়া না করাইয়া ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে সময় কাটায়। যার কারণে প্রতিষ্ঠান গুলোতে কোন ছাত্র/ছাত্রী নেই বললেই চলে।ঐ সব ছাত্র/ছাত্রীদের অবিভাবকগণ বাধ্য হয়ে নিবন্ধন বিহীন এই সব কসাইখানার দিকে ঝুকে পরেছে। তিনি আরো বলেন, ফরম পুরুণের জন্য যে ১০/১২ হাজার টাকা নেওয়া হয় সে গুলো একাই খায় না। যে সকল নিবন্ধন যুক্ত স্কুল থেকে ফরম পুরুণ করা হয় তাদেরকেও মোটা অংকের টাকা দিতে হয়। ।
বিয়টি জানেন কি না এই মর্মে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার জনাব,শহিদুল ইসলাম-কে জানতে চাইলে তিনি জানান যে, তিনি নতুন জয়েন্ট করেছেন। তাই ঐ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এত সব দুর্নীতি প্রসংগে অবগত নয়। সঠিক তদন্ত করে সরকারী ভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঐ ধরণে প্রতারক ও কসাইখানা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাদের আইনের কাঠগড়ায় দার করানোর দাবি জানায় এলাকাবাসি সহ সচেতন নাগরিকগণ। ..পর্ব-১

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button