বিপ্লব হোসেন :
দীর্ঘ ১৭'টি বছর কারা নির্যাতনের পর সাবেক মন্ত্রী এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু তার নির্বাচনি এলাকা টাঙ্গাইল - ২ আসনের ভূঞাপুরে গণসংবর্ধনা সমাবেশ করেছেন এ-সময় টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যানার প্ল্যাকেট ও ব্যান্ড পার্টি নিয়ে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে নেতাকর্মীদের সমাবেশে যোগ দিতে দেখা যায়। দুপুর ২টার দিকেই সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ কানায় কানায় ভরে গিয়ে আশপাশের রাস্তা ও অলি গলিতে অবস্থান নিতে দেখা যায় বিএনপির নেতা কর্মীসহ সাধারণ জনগণের। অনুঃ বিকেল ৩'টার মধ্যে সরকারি পাইলট স্কুলের মাঠ ও আশপাশের এলাকাগুলো এক জন সমুদ্রে পরিনত হয়।
দীর্ঘ ১৭'বছর কারা নির্যাতনের পর সাবেক মন্ত্রী এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু তার নির্বাচনি এলাকা টাঙ্গাইল - ২ আসনের ভূঞাপুরের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বলেন, টাঙ্গাইল তথা ভূঞাপুরের মানুষের সাথে আমার যে, আবার দেখা হবে আমি তা কল্পনাও করিনাই। আমি আবার আপনাদের সাথে কথা বলতে পারবো, জনসভা করতে পারব, এটা জীবনেও কল্পনা করতে পারিনি। প্রিয় ভাই-বোনেরা আমার উপর যে নির্যাতন করা হয়েছে আমি তার বর্ণনা দিলে আপনারা শিউরে উঠবেন। আওঃ লীগের আমলে আমি ২৪ দিন রিমান্ডে ছিলাম। এ সময় তিনি কথা বলতে বলতে ভেজা কণ্ঠে বার বার আবেগ আপ্লুত হয়ে পরেন।
শুক্রবার (২৮'ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের গণসংর্বনা সমাবেশে সালাম পিন্টু এসব কথা বলেন,
তিনি আরো বলেন, আমার অবর্তমানে আমার ছোট ভাই সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আপনাদের দেখভাল করেছে। আমাকে কারাগারে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। গভীর রাতে আমাকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। ফজরের আযান কানে আসার পর ভাবলাম আমার আজকের রাত্রি শেষ হলো। পরদিন আমাকে কোর্টে তোলা হয়। আমার শারিরীক অবস্থা দেখে কোর্ট আর রিমান্ড দিলেন না। আমাকে কারাগারে পাঠিয়ে দিলেন। আওয়ামী লীগের আমলে আমি ৫ বার চিকিৎসা করেছি। তাহলে ভেবে দেখেন আমাকে কি পরিমাণ নির্যাতন করা হয়েছে। আমার সাথে মাওলানা আব্দুস ছালাম ছিলেন, তাকেও রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে তিনি ওয়ান সিক্সটি ফোর, ১৬৪ ধারা জবানবন্দি দিতে বাধ্য হয়। তার পর কারাগারেই তার মৃত্যু হয়। অনেক বিডিআর সদস্যদের ড্রিল মেশিন দিয়ে হাড় ছিদ্র করে দিয়েছে। হাঁটু ও পিঠের হাড় ছিদ্র করে দিয়েছে। পরে তারা কিছু দিনের মধ্যে মৃত্যু বরন করেছেন।
আমার মা" মারা যাওয়ার পর আপনারা আমার মায়ের জানাজা নামাজে গিয়েছিলেন,নির্যাতিত সরকার আমাকে আমার মায়ের জানাজায় যেতে দেয় নাই। আপনাদের দোয়ায় আল্লাহ আমাকে মুক্ত করেছেন। এসময় স্বামীর মুখে এমন নিষ্ঠুর ভয়ানক নির্যাতনের বর্ননা শুনে তার সহধর্মিণী বিলকিস সালাম তালুকদার বারবার অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন এবং টিস্যু দিয়ে চোখের জ্বল মুছে স্বাভাবিক হয়ে নিজেকে স্থির রাখেন এবং তার ছোট মেয়ে ডঃ সাফায়াত বিনতে সালাম সাবাকেও অশ্রুসিক্ত নয়নে মাথা নিচু করে কাঁদতে দেখা গিয়েছে।
ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে শুক্রবার ( ২৮ ফেব্রুয়ারি) আব্দুস সালাম পিন্টুর গণ সংর্ধবনা সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট গোলাম মোস্তফা'র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলুর সঞ্চালনায়ঃ প্রধান অতিথি ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিশেষ অতিথি,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এডভোকেট ওবায়দুল হক নাসির, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, পৌর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন,সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান গিয়াস সহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতৃবৃন্দ।