নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সম্প্রতি সারাদেশসহ রাজধানীর কয়েকটি থানায় পুলিশের পাশাপাশি অন্যদেরও মামলা বাণিজ্যে জড়িত হওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঢাকা জেলার আশুলিয়া ও সাভার থানায় সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করেছে। মামলা বানিজ্যের নেপথ্যে রয়েছে সাভারের জাহিদ হাসান নামে একজনসহ নামে-বেনামে অনেক স্বার্থন্বেষী অসৎ দালাল চক্র।এই চক্রগুলো গত ০৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধি ছাত্র আন্দোলনকে পুজি করে নিজের ইচ্ছামত বিবাদীদের নাম বসিয়ে যে কোন গরীব ও অসহায় মানুষকে টাকার লোভ দেখিয়ে থানায় এবং আদালতে ৩২৫/৩২৬/৩০৭/১০৯/১১৪/১৪৭/১৪৮/১৪৯/৩৪ ধাঃ একটি মিথ্যা মামলা করায়।মামলা থেকে নাম কাটার কথা বলে শত শত নিরিহ লোকের নিকট থেকে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় কোটি টাকা। এদের মধ্যে অন্যতম একজন রবিউল ইসলাম রবি,পিতা-নুর মোহাম্মাদ নামে এক অসৎ মামলা বানিজ্যকারির অর্ধ কোটি টাকার উর্ধ্বে মামলা বানিজ্য করার তথ্য উঠে আসে।তার মিথ্যা মামলা থেকে রেহায় পায়নি বিএনপির নেতা কর্মীগণসহ দৈনিক গণমুক্তি পত্রিকার স্টাফ রির্পোটার সাঈম সরকারও।
আশুলিয়ার মধুপুর গ্রামের জহিরুল ইসলাম জহির(বিএনপি নেতা) জানায়,শেখ হাসিনাসহ ২০৩(দুইশত তিন) জনকে বিবাদী করে তানিয়া খাতুন নামে একজন নারী বাদী হয়ে গত ১৫/১০/২০২৪ইংঢাকার মুখ্য আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।যার নং GR-১৩৭৭/২০২৪।সেই মামলায় আমি সহ আমার বংশের ০৫জনকে এবং অনেক বিএনপি নেতা কর্মীগণকে আসামী করা হয়। ঐ মামলার আসামীর তালিকা থেকে নাম কাটার জন্য রবিউল ইসলাম রবি প্রথমে ৬০হাজার এবং পরে আবার ৪০ হাজার টাকা আমার নিকট থেকে নগদ গ্রহন করে।এর পর হতে নিয়মিত ভাবে বিভিন্ন মামলার ভয় দেখাইয়া টাকা দাবী করে আসছে। এবিষয়ে আমি জহিরুল ইসলাম জহির বাদী হয়ে দুইজনকে বিবাদী করে আশুলিয়া থানায়েএকটি লিখিত অভিযোগ করা হয়।
একই এলাকার নাসির উদ্দিন দেওয়ান,ইসহাক দেওয়ান ও জসিম দেওয়ানসহ অর্ধ শতাধিক নিরিহ ও সাধারণ মানুষের নিকট থেকে প্রায় আরো ৫০লাখ টাকা নগদ গ্রহন করেছেন ঐ রবিউল এমনটি জানায় ভুক্তভোগীরা।
আরো জানাযায়, প্রত্যারক রবিউল আউকপাড়া আদর্শ গ্রামের সালেকিন নামে এক ব্যক্তির নিকট থেকে সাব্বির নামে একজনের মাধ্যমে আরো ৫০ হাজার টাকা গ্রহন করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভুক্তভোগী জানান, নাম কেটে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কিছু সদস্যও জড়িত। মামলা থেকে নাম কেটে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে চাওয়া হচ্ছে ১০ লাখ টাকা। যিনি অর্থ দিতে পারছেন, আদালতে হলফনামার মাধ্যমে তাঁর নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে।
মামলার বাদীনি তানিয়া খাতুন বলেনঃআমার স্বামী ফয়সাল আহম্মেদ ০৫আগস্ট ২০২৪ইং গুলি খায়।এসময় ০১ মাস ১৮ দিন চিকিৎসা শেষে তাকে বাসায় নিয়ে আসলে ঐ রবিউল ইসলাম রবি আমার ভাড়া বাসায় এসে গণহত্যার মামলা করতে বলে এবং তার ইচ্ছা মত আসামী দিয়ে মামলা লিখিত কাগজে আমার স্বাক্ষর নেয়। এর পর সে নিজেই আমাকে আদালতে নিয়ে গিয়ে মামলাটি দায়ের করান।এর পর শুরু করে মামলা বানিজ্য।নিজ খরচে আমাকে নিয়মিত আদালতে নিয়ে যায় এবং এক একটি আসামীকে নাম কাটাইয়া মাত্র ৫/৬ হাজার টাকা আমার হাতে ধরিয়ে দেয়।
বাদীনির স্বামী ফয়সাল বলেন,একটা মিথ্যা মামলা সাজাইয়া আমাকে একটি প্যাচে ফালাইছে।আমি আমার স্ত্রীর পক্ষ হতে ঐ সব নিরিহ মানুষদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।সবাই আমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন।এদিকে,রবিউলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে কঠোর হতে কঠরতম শাস্তির দাবী জানান ভুক্তভোগীরা।–জানাযায়,এই রবিউল ইসলাম,ড্যান্ডাবর নতুন পাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে।তার গ্রামের বাড়ী সাতক্ষীরা জেলায়।