

বিপ্লব হোসেন :
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হয়েছে।
সকালে গোপালপুর (সূতি) উপজেলা অফিসের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।
পরে উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদের
স্মরণে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন,
টাঙ্গাইল-২ ( গোপালপুর ও ভূঞাপুর ) আসন এর বিএনপি মনোনীত প্রার্থী।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক উপমন্ত্রী এডভোকেট মোঃ আব্দুস সালাম পিন্টু।
পরে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার সংগঠন গুলো বীর শহীদদের স্মরণে ফুল দিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।
অতিথিবৃন্দ তাদের ত্যাগ ও অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করেন, যা অনুষ্ঠানের মর্যাদা আরও উজ্জ্বল করে।
পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা শেষে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন আব্দুস সালাম পিন্টু।
বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে ২৫শে’ মার্চ রাতের অন্ধকারে যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা বাংলাদেশের উপর আক্রমণ করে, তখন আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। বাংলাদেশের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছিল,আমরা কি করবো,কোথায় যাবো, কিভাবে আমাদের চলতে হবে,কোনো দিকনির্দেশনা দেওয়ার মতো নেতা ছিলেন না।
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর বাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়েছিল! এরকম একের পর এক দূর্বিষহ ঘটনা আর ভয়ানক অত্যাচারের হাত থেকে কিভাবে রক্ষা পাবো এই চিন্তা আর আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম।
যখন কোনো কূলকিনারা পাচ্ছিলাম না
তখন হটাৎ করে চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর কন্ঠ শুনতে পেলাম এবং তিনি বললেন, এদেশের ছাত্র, যুবক জনতাকে স্বাধীনতার যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার জন্য তিনি আহ্বান জানালেন।
এর পর অনেক ইতিহাস হয়ে গেলো, স্বাধীনতা হওয়ার পরে শহীদ জিয়াউর রহমান ব্যারাকে ফিরে গিয়েছিলেন এবং আওয়ামী লীগের নেতারা ক্ষমতা গ্রহণ করে ছিলেন।
১৯৭৪ সালে দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল, কলার পাতায় পেচিয়ে মানুষকে এই যমুনা নদী দিয়ে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে কোনো দাফন করার অবস্থাও ছিলনা!
জিয়াউর রহমান সাহেবকে ২৩শে নভেম্বর গ্রেপ্তার করা হয় এবং সারা বাংলাদেশে একটি ধূমরো জালে পরিনিত করা হয়েছিল।
সেই মূহুর্তে সিপাহী জনতার মাধ্যমে একটি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ৭ই নভেম্বর আবার শহীদ জিয়াউর রহমানকে গ্রেপ্তার অবস্থা থেকে বের করে নিয়ে আসা হয়েছিল এবং শহীদ জিয়াউর রহমান আবার পূণরায় দেশের শাসন ভার গ্রহণ করেছিল।
তিনি আরও বলেন,
দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত এই বিজয় জাতির জন্য গৌরবের এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সকলকে আরও ঐক্যবদ্ধ এবং সুশৃঙ্খল থাকার প্রেরণা যোগায়।
উল্লেখ্য, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে নাগরপুর উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি ভবন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটির মর্যাদা রক্ষা করা হয়েছে।
এ সময় গোপালপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি,জাহাঙ্গীর আলম রুবেল,সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকত,পৌর বিএনপির সভাপতি খালিদ হাসান উথান, শ্রমিক দলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম,যুবদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম তালুকদার লেলিন,ভূয়াপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক সেলিম উজ্জামান সেলু, সহসভাপতি ফরহাদুল ইসলাম শাপলা,যুবদলের আহ্বায়ক জুলহাস-সহ সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



