অপরাধআইন – আদালত

রংপুরে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ, কতিপয় ডিলার ও লাইসেন্স বিহীন বীজ, সার বিক্রেতাদের কড়াল থাবায় দিশেহারা সাধারণ কৃষক।

রংপুর জেলা প্রতিনিধি

রংপুরে বিএডিসি কর্তৃপ, ডিলার ও লাইসেন্স বিহীন বীজ, সার বিক্রেতাদের অনিয়ম, দুর্নীতির জালে সাধারণ কৃষকেরা দিশেহারা, সাথে সাথে কিছু লাইসেন্সধারী বীজ ও সার বিক্রেতারাও বিপাকে।
জানা গেছে এই দুর্নীতি, অনিয়ম ও নানা ধরনের জালিয়াতির চিত্র উঠে এসেছে রিপোর্টে। গত ৭ জুন ২০২৩ রংপুর শহরের সিটি কর্পোরেশনের বিপরীতে শহীদ জররেজ মার্কেটে অবস্থিত ‘মেসার্স নুর আমিন বীজ ভাণ্ডার’-এর স্বত্বাধিকারী মো: আশেক আলীর দোকানে গিয়ে দেখা যায় বিএডিসি’র বীজে পরিপূর্ণ তার দোকান ও গোডাউন। তার কাছে বিএডিসি’র কোন ডিলারশীপ নেই, তিনি কোন প্রকার লাইসেন্সও দেখাতে পারেনি। বরং তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমার ক্ষমতা আছে আমি ব্যবসা করব, আপনাদের যা করার আছে করেন। তিনি কোন বিএডিসি’র ডিলার নন। তার দোকানে পাওয়া যাচ্ছে সরকারি সব ধরনের ধান বীজসহ অন্যান্য বীজ, এছাড়াও ভারত থেকে নিয়ে আসা নিম্নমানের বীজ বিক্রিসহ নিজের তৈরি অনুমোদন বিহীন বীজ প্যাকেটজাত করেও বিক্রি করছেন তিনি, যা কিনে কৃষকেরা কাংখিত ফলাফল না পেয়ে সর্বশান্ত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। তার কাছে জানতে চাইলে বার বার বলেন, জেলা ডিডি মহোদয় তাকে সরকারি বীজ দিয়েছেন। প্রতিনিয়ত বিএডিসি’র গোডাউন থেকে বীজ নিয়ে এসে বিক্রি করছেন তিনি। কয়েকজন সাংবাদিক এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে সাংবাদিকদের পড়তে হয় বিপাকে, আশেক আলী ও তার ভাইসহ সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন ও হুমকি প্রদান করেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে তাজহাট মোড়ে পাচারকৃত একটি পিকাপসহ বীজ ধান আটকিয়ে দেয় এলাকার কৃষকেরা, ওই গাড়ির ড্রাইভার বলেন, স্টোর কিপার হোসেন মোহাম্মদ (তিতুমীর) ও ডিডি মাসুদ সুলতান-এর জোকসাজসে বিএডিসি’র ডিলার রেজাউল ইসলাম রেজার মাধ্যমে গোপনে বিক্রি করে কুড়িগ্রাম রাজারহাট উপজেলায় একটি বীজ ডিলারের কাছে। যেখানে রংপুর বিএডিসি’র বীজ লালমনিরহাট, নীলফামারী ও রংপুর এই তিন জেলার ডিলাররা বীজ পাওয়ার কথা, তা না পেয়ে পাচ্ছেন কুড়িগ্রাম জেলার ডিলার।
এ বিষয়ে স্টোর কিপার ও উপপরিচালক এই দুই কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে, নানান অজুহাতে অভিযোগ আমলে না নিয়ে কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বীজ বিতরণ কর্তৃপ বিএডিসি’র কর্মকর্তা ও ডিলারদের কারসাজির কারণে খেসারত গুণতে হচ্ছে কৃষকদের। ৫২০ টাকার বীজ কিনতে হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। অপরদিকে চাহিদা অনুযায়ী বীজ না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা।
গত ১৩ জুন ২০২৩ রংপুর বিএডিসি গোডাউন থেকে ১৫ টন ধান বীজ ঢাকা মেট্রো-ট-২০-৪৭৮১ নম্বর ট্রাকযোগে সম্রাট বীজ ভাণ্ডার, মোবাইল: ০১৭১৬৩৭২৯৬৪, ফরিদপুর জেলার মধুখালীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে তাজহাট থানাধীন মহাসড়কে কতিপয় কৃষক গাড়িটি আটকিয়ে দেয়। গাড়ির ড্রাইভারের কাছে চালান দেখতে চাইলে বিএডিসি’র সরকারি খামের ভিতর মেসার্স জাকারিয়াল হক, প্রো: মো: জাকারিয়াল হক, মোবাইল: ০১৭১২৯১৪৯০১ প্যাডে, উল্লেখ্য, যার প্যাডের মাথাটি আঠা দিয়ে লাগোনো চালানের মাধ্যমে রেজা ট্রেডার্স, সিও বাজার, রংপুর, ধান বীজ ৮৭ জাত পাচারকালে ধরা পড়ে বেলা ২টার দিকে। পরে অনেক কুট কৌশলে রংপুর বিএডিসি কর্তৃপক্ষ, রেজা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী রেজাউল ইসলাম রেজা ও একজন জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক নেতার হস্তক্ষেপে তাজহাট থানা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগসাজসে রাতে ট্রাকটি ছেড়ে দেয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button