অপরাধআইন – আদালত

টাঙ্গাইলের মধুপুরে জমিজমার বিরোধে রশি দিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতন।

নিজস্ব প্রতিবেদক:
টাঙ্গাইলের মধুপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বৃদ্ধ মা, দুই ছেলে ও এক ছেলের বউকে গাছের সাথে রশি দিয়ে বেঁধে এক মর্মান্তিক নির্যাতন করা হয়েছে। জাতীয় সেবা ৯৯৯ এ ফোন করলে মধুপুর থানা থেকে পুলিশ এসে তাদেরকে উদ্ধার করেন এ ব্যাপারে নির্যাতনের শিকার পরিবারটি মধুপুর থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। গত ৫’নভেম্বর মঙ্গলবার সকালে মধুপুরের ৭ নং ওয়ার্ডের পুন্ডুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানাযায়।
নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিগণরা হলেন ওই গ্রামের নুরুল ইসলামের স্ত্রী শাফিয়া বেগম, বড় ছেলে আলমগীর হোসেন, ছোট ছেলে জুব্বার আলী ও আলমগীরের স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগম। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আলমগীরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং শাশুড়ি শাফিয়া বেগম ও ছেলের বউ জ্যোৎস্না বেগম কে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তারা। স্থানীয়রা জানান পুন্ডুরার মৃত নুরুল ইসলামের দুই ছেলে জুব্বার ও আলমগীরের সঙ্গে প্রতিবেশী মৃত আবু শেখের ছেলে কালু শেখ সহ তার ভাইদের জমি নিয়ে বহুদিন ধরেই বিরোধ।
এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মামলা মোকদ্দমা চলছে ২৩ বছর, বাটোয়ারা মামলা চলার পর চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি আলমগীর ও জুব্বারপক্ষ জমির খাজনা পরিশোধ করেছেন, প্রতিপক্ষ ওই জমির মালিক দাবি করে ১৪৪ ধারা জারি চেয়ে আবেদন করলে আদালত সংশ্লিষ্ট বিভাগের তদন্ত রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে ১৪৪ ধারা জারি করে,পরে রায়ের বিরুদ্ধে জজ কোর্টে আপিল করেন আলমগীররা, এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। গত ৫’ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দিন সকালে কালু মিয়ারা জমিতে গিয়ে ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করে, এ সময় আলমগীরীরা বাধা দিতে গেলে তাদেরকে প্রথমে মারপিট করে, পরে রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলেন তারা।
এসময় সেখানে মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক মেয়র, মাসুদ পারভেজকেও অতি উৎসাহের মাধ্যমে মারপিট করার সহযোগিতা করেছেন বলে জানা যায়।
প্রথমে মা’ শাফিয়া বেগম তার ছেলেকে ছাড়াতে গেলে তাকেও প্রতিপক্ষ গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলে, পরে জ্যোৎস্না বেগম তাদের ছাড়াতে গেলে তাকেও সাথে সাথে বেঁধে ফেলা হয়। এ অবস্থায় পুলিশকে ফোন দিয়ে জানানো হলেও পুলিশ দ্রুত না আসায় ৯৯৯-এ ফোন করে সাহায্য চাওয়া হলে, মধুপুর থানার পুলিশ এসে তাদেরকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে।
এবিষয়ে মধুপুর থানার (ওসি) মোল্লা মোঃ আজিজুর রহমান বলেন, জমি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে ধাক্কা-ধাক্কি হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, থানায় মামলা না নেওয়াতে ভুক্তভোগীরা আদালতের শরণাপন্ন হলে কোর্ট তাদের মামলা নিয়ে
ডিবি পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন বলে জানান আলমগীরের পরিবারের লোকজন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button