অপরাধআইন – আদালতশিক্ষাঙ্গনসংস্কৃতি

আশুলিয়ায় অনুমোদনহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবি ও অভিযোগঃ


সাঈম সরকারঃ
অনুমোদনহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবিতে সাভার উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন বেসরকারী স্কুল ঐক্য পরিষদ ।এছাড়া,আশুলিয়া থানায়ও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসি সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ ।
সূত্রে জানায়ঃআশুলিয়ার পলাশবাড়ী নামক ছোট একটি গ্রামে ০২/০৩শ গজ পর পর-ই প্রায় অর্ধশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে । এর-ই মাঝে আবারও নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিছু অসাধু ব্যাক্তি ।একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের দুইটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে শিক্ষক পরিচয়ে চারজন ব্যাক্তি মিলে পলাশবাড়ী আশীক টাওয়ারে ”উইজডম ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ” নামে একটি ব্যানার লিখে গভীর রাতে মানুষের বাড়ী বাড়ী ঘুরে অভিভাবকদের ঘুম থেকে ডেকে তুলে ছাত্র/ছাত্রিদের ভর্তি ফরম পূরুণ করছে এবং অন্যন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগে করেছেন প্রায় অর্ধশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ ।এসময় ঐ লিখিত অভিযোগে আরো জানায়,অনুমোদনহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে কয়েকটি ব্রেঞ্চ আর ৪/৫টি টেবিল ও চেয়ার ছাড়া নেই কোন শিক্ষা সরঞ্জামও ।অপরদিকে পার্শ্ববর্তী মহল্লায়, একই নামে আর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ বছর ধরে ছাত্র/ছাত্রীদের শিক্ষা প্রদান করে আসছে ।সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও পিন্সিপাল, এমদাদুল হক সাহেব একই নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনুমোদন না দেওয়ার জন্য লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাভার বরাবর ।লিখিত অভিযোগে আরো উল্ল্যেখ রয়েছে যে, তার স্কুলের নাম অনুকরণ করে ঐ নামে ব্যানার,সাইনবোর্ড,ফেস্টুন ও লিফলেট ছরাচ্ছে ।এবিষয়ে বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করেছেন বলে জানান তিনি ।লিখিত অভিযোগ এর বিষয় সু-নিশ্চিত করেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাভার ।
এদিকে এলাকাবাসি জানায়ঃ আশুলিয়ায় ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠেছে কয়েক হাজার নিবন্ধন বিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান । কম পরিশ্রমে অধিক মুনাফা অর্জন হওয়ায় রমরমা এই ব্যবসায় অনেকেই জিরো থেকে হিরো হয়ে উঠেছে। হয়েছে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ। খোজ নিয়ে দেখা যায় প্রতিটা পাড়া মহল্লায় ৩০/থেকে ৫০টি অনুমোদিত ও অনুমোদনহীন-ব্যাক্তি মালিকানাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে । বিভিন্ন চটকধারী নামে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর ভিড়ে দিকবিদিক দিশেহারা ও জিম্মি, ছাত্র/ছাত্রীদের অভিভাবক বৃন্দ । এসব প্রতিষ্ঠান গুলো যেন টাকা ছাপানোর কারখানা ।
সুশীল সমাজ মনে করেন,ঐসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর কারণে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না থাকায় সরকারী স্কুল গুলোর শিক্ষকগণ এখন নাকে তেল দিয়ে মাসের পর মাস বাড়ীতে বসে এবং ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে বেতন নিচ্ছে ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button