অপরাধআইন – আদালতসারাদেশ

কোটি টাকা চাঁদা দাবি! সাভারে জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার মার্কেট দখল চেষ্টার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-

ঢাকার সাভারে চাঁদাবাজি ও হত্যা চেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে এসে পুনরায় দাবীকৃত চাঁদার এক কোটি টাকা না দেওয়ায় মার্কেটের একটি দোকান দখল করে অফিস বানিয়ে ফুটপাতে দোকান বসিয়ে জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার মার্কেট দখলের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সাভার পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কথিত সাংগঠনিক সম্পাদক পাভেল আহমেদ ওরফে তোতলা পাভেল ও জাতীয় পার্টির কথিত সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাদুর ইমতিয়াজ বাহিনীর সদস্যরা।

অনুসন্ধান বলছে, গত এক সপ্তাহে জায়গা অনুযায়ী জনপ্রতি ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা করে এককালীন নিয়ে অর্ধশতাধিক হকারকে জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থা মার্কেটের সামনে দোকান বসিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা আদায় করে দৈনিক ও মাসিক চুক্তিতে ভাড়া দিয়েছেন তারা।

কিছুদিন পূর্বেও দখল চেস্টায় গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার নির্বাচন ঠেকাতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একাধিক রিট পিটিশন দায়ের করে ব্যর্থ চেষ্টা চালায় পাভেল আহমেদ ও বাহাদুর ইমতিয়াজ বাহিনীর সদস্যরা।

এমন অভিযোগ করেছেন জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার চেয়ারম্যান মো: নুরুল আলম সিদ্দিক ও মহাসচিব মো: আইয়ুব আলী হাওলাদার। অভিযোগ অনুসন্ধানের পর ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।

এর আগে নির্বাচনে জয়লাভের পর দখলের আশঙ্কা ও প্রতিকার চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব, উপ-মহা পুলিশ পরিদর্শক ঢাকা রেঞ্জ, ঢাকা জেলা প্রশাসক, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৪), সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাভার মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থা কর্তৃপক্ষ।

অভিযুক্তরা হলেন, সাভার পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কথিত সাংগঠনিক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানার হেফজু মিয়ার ছেলে বর্তমানে সাভার পৌরসভার মজিদপুর এলাকার বাসিন্দা একাধিক মামলার আসামী শীর্ষ সন্ত্রাসী পাভেল আহমেদ ওরফে তোতলা পাভেল(৩৫), মজিদপুর এলাকার সাদেক আলী ফরাজির ছেলে আব্দুল সালাম ফরাজী (৪৫), সাভার পৌরসভার ব্যাংক কলোনী এলাকার আবেদ আলীর ছেলে ও জাতীয় পার্টির কথিত সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাদুর ইমতিয়াজ(৪৮), মজিদপুর এলাকার আফসার উদ্দিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন(৩৮), একই এলাকার আমিন মিয়ার ছেলে বেলাল উদ্দিন মনা (৪০) সহ শাহীবাগ এলাকার রুহুল আমিন মিস্ত্রির ছেলে মোহাম্মদ রিপন (৩৭)। এছাড়াও শীর্ষ সন্ত্রাসী পাভেল আহমেদ ওরফে তোতলা পাভেলের ভাই ইউসুফ সহ আরো ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাভেল ও ইমতিয়াজ বাহিনীর একটি চাঁদাবাজ চক্র জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার জমিদারি ভাড়া উত্তোলন করার টাকা হইতে দৈনিক, মাসিক ও এককালীন মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছে। অন্যথায় মার্কেটের জমিদারি ভাড়া উত্তোলন করতে দিবেনা, প্রয়োজনে তাদের বাধা উপেক্ষা কারী সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রাণনাশ করা হবে।

এছাড়াও পাভেল বাহিনীর দখলকৃত অফিসে ডেকে নিয়ে আটকে রেখে দাবেকৃত চাঁদা আদায় না হওয়া পর্যন্ত সংস্থার কর্মচারী দেলোয়ার হোসেন দুলাল ও মোহাম্মদ কামালকে জমিদারি ভাড়া উত্তোলন বন্ধ করতে ভয় ভীতি দেখায়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় সংস্থার লোকজন তাদের উদ্ধার করে।

এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নয়ন কারকুন বলেন, অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দখল চেষ্টার ব্যাপারে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা পিপিএম বলেন, যত বড় ক্ষমতার অধিকারীই হোক না কেন জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থা মার্কেট দখল করার কোন সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য, জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মার্কেটের দোকানে দাবি করা চাঁদা না দেওয়ায় এবং দোকানিকে আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনায় এই বছরের ২৪ জানুয়ারি শীর্ষ সন্ত্রাসী পাভেল আহমেদ ওরফে তোতলা পাভেলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় সাভার মডেল থানা পুলিশ। জামিনে মুক্ত হয়ে আবারো মার্কেট দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে সন্ত্রাসী পাভেল বাহিনী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button