অপরাধআইন – আদালত

আশুলিয়া বাইপাইলে ঈদে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

সাঈম সরকারঃ

আশুলিয়ার বাইপাইল ও নবীনগর বাস কাউন্টারে যাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটা টিকিটে এসি, নন-এসি বাসগুলো বাড়তি ৮০০(পাঁচশত) হতে ১০০০(একহাজার) টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়ায় আদায় করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে সরকারের কঠর হুশিয়ারি থাকা সত্বেও থেমে নেই বাইপাইল ও নবীনগর বাস কাউন্টারের অসাধু কতিপয় যাত্রীবাহী গাড়ীর টিকিট বিক্রেতারা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ায় ঈদে ঘরমুখো মানুষ অর্থনৈতিক চাপ থাকার পরেও বাধ্য হয়েই শিকারিদের শিকারে ধরা দিতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কখনই পরিবহনকর্মীদের এই দুর্নীতি থেকে বিরত রাখতে পারেন নাই।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঈদুল ফিতরে ঘর মুখী হাজার হাজার উৎসুক মানুষ প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে নিজ নিজ গ্রামে উদ্দেশ্য বেরিয়ে পরেছে।,ঈদকে সামনে রেখে আশুলিয়া-সাভার শিল্প এলাকা থেকে প্রায় ২০ হতে ৩০ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়বেন এবারও ।

গত ১৮ এপ্রিল বাইপাইল ও শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীদের জোর করে ধরে বাধ্যতা মূলক টিকিট ক্রয় করতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং বাস স্টেশনে যেখানে মনিটরিং করা হয় সেখান থেকে দূরে গাড়ি রেখে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে।

বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল বাতেন নামে এক হানিফ এন্টারপ্রাইজের নন এসি বাসের ১টি টিকিট কেনেন। তিনি আগামী ২১ এপ্রিল রংপুর যাবেন। টিকিটের জন্য তাকে অতিরিক্ত ৮০০ টাকাসহ ১.হাজার ৬০০ শত দিতে হয়েছে।

আব্দুল বাতেন দৈনিক গণমুক্তিকে আরো বলেন, ‘কয়েকদিন আগেও প্রতি টিকিটের দাম ছিল ৬০০ হতে ৮০০ শত টাকা।’নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর এক যাত্রী জানান, আগামী ২০ এপ্রিল রংপুরে যাওয়ার জন্য তিনি নাবিল পরিবহনের টিকিট কিনেছিলেন গত ১৬ এপ্রিল। এতে তার খরচ হয় ২ হাজার ৪০০ টাকা।’সাহাবুদ্দিন নামে নওগার এক যাত্রী জানায়, বরকত নামে ব্যানারের গাড়ীর একটি টিকিট নিয়েছি ১৮ শত টাকায়। এরকম বাহারি নামের বিভিন্ন ব্যানারের গাড়ী রয়েছে। যেমন-আরাফাত,সোনারতরী,খাজা,রিশা,এস এন,জে.কে সহ আরো অনেক। এরা সবাই একই হারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে আসছে।আবার কিছু অসাধু টিকিট বিক্রেতাগণ কৌশলে, নামি-দামী ব্যানারের গাড়ীর নামে টিকিট বিক্রি করে যাত্রীদের হয়রানী করছে এবং জোর করে লোকাল বাসে তুলে দেওয়ার চিত্র দেখতে পাওয়া যায়।

গতকাল ১৮ এপ্রিল গাইবান্ধা যাত্রীদের নিকট টিকিট বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকায়।গতকাল পঞ্চগড়গামী বিভিন্ন গাড়ীর ভাড়া নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকা। ১৯ এপ্রিলের জন্য এই টিকিট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ টাকায়।

‘উত্তরবঙ্গগামী অন্যান্য টিকিট বিক্রেতাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমাদের কিছুই করার নেই। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ ও ঈদকে ঘিরে রাস্তায় যানজটের কারণে আমাদের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা ভাড়া অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button