অন্যান্যঅর্থনীতিসংস্কৃতি

ধানে কীটনাশক ছিটিয়েও ফল পাচ্ছেনা কৃষক

মাটি মামুন রংপুর। 

চলতি বছর বদরগঞ্জ উপজেলায় ১৭ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে।
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় বোরো ধানে মাজরা পোকার আক্রমণে কৃষকরা  রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। এ ছাড়াও ধানে মাইনে পঁচা রোগও দেখা দিয়েছে। ফলে ধানের ভালো ফলন নিয়ে শস্কায় কৃষক। পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় জমিতে কীটনাশক ছিটিয়েও কৃষকরা তেমন ফল পাচ্ছেন না।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ১৭ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। এ বছরে উপজেলায় অন্য বছরের তুলনায় একটু বেশি জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে।উপজেলার কয়েকটি এলাকায় আংশিক সেচের অভাবও রয়েছে। এ ছাড়া কিছু জায়গায় পোকার আক্রমণের খবর পাওয়ার পর থেকে ওই সব এলাকার কৃষকদের সবসময় সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বদরগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর, লোহানীপাড়া, কালুপাড়া, রাধানগর, গোপীনাথপুর, দামোদরপুর, মধুপুর, গোপালপুর ও কুতুবপুর সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বোরো ধানে মাজরা ও এক ধরনের পোকা ধানের মাইজ কেটে দিচ্ছে, অনেক জায়গায় পোকা পাতা ছিদ্র করছে। পৌর শহরের মেলার মাঠ এলাকায় কৃষক মোঃ রোকনুজ্জামান বলেন, বাজার থেকে কীটনাশক এনে ছিটিয়েও ফল পাচ্ছেন না কৃষকেরা। স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, ধানের শীষ বের হয়েছে এরইমধ্যে শুরু হয়েছে পোকার আক্রমণ। পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় জমিতে কীটনাশক ছিটিয়েও তেমন কাজ হচ্ছে না। কৃষক আরো জানান দুই মাসে চারবার স্প্রে করেও দমন হয়নি মাজরা পোকা ।দুই মাসের ব্যবধানে চারবার স্প্রে করায় কৃষকের  খরচ হয়েছে ৪ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত মোট খরচ ১০ হাজার। ধান কাটা সহ মাড়াই পর্যন্ত পাঁচ হাজার টাকা খরচ হতে পারে বলে  জানান ওই কৃষক।
দামোদরপুর ইউনিয়নের কয়েকজন কৃষক বলেন, এবারে বোরো চাষ ও সেচে এমনিতেই অনেক খরচ হয়েছে। এখন পোকা আক্রমণ করেছে। তাঁদের আশঙ্কা, সময়মতো পোকা দমন করতে না পারলে বোরো উৎপাদন ব্যহত হতে পারে।
কৃষকরা আরও জানান, সেচের সমস্যায় বিশেষভাবে অনেক টাকা খরচ করে এবার বোরো ধান চাষ করেছেন। কিছু ধানের শিষ ইতোমধ্যে বেরিয়েছে। আবার বাকী ধানের ও শীষ বের হবে। এমন সময় পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এই পোকা ধানগাছের জন্য অনেক ক্ষতিকর মনে করে  কৃষি অফিসের সহযোগিতা কামনা করছেন।
কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের যেখানে বিচ্ছিন্ন জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে তারা ঠিকমত কীটনাশক ও বালাই দমনে কৃষি অফিসের পরামর্শ কাজে লাগায় না ফলে এ  সকল জমিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবুও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা এ সকল জমি পরিদর্শন করে ওষুধ প্রয়োগের পরামর্শ দিচ্ছেন।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা মোঃ জোবায়দুর রহমান বলেন, মূলত এই সময়ে ধান গাছে মাজরা পোকার আবির্ভাব ঘটে। জমিতে ধান লাগানো ও ওষুধ  প্রয়োগে বিলম্ব হওয়ায় কিছু কৃষকের জমিতে মাজরা পোকা আক্রমণ করেছে। পরামর্শ মোতাবেক ওষুধ প্রয়োগে মাজরা দমন করা সম্ভব । আমিও উপজেলার বেশ কয়েকটি জমি পরিদর্শন করেছি। এখন আর বড় ধরণের সমস্যা  নেই। এ উপজেলায় শুধুমাত্র ১০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button