আশুলিয়ায় বসত বাড়ি ভাঙ্গচুর করে দখলের অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদবঃডেস্কঃ
আশুলিয়া প্রতিনিধি,
সাভারের আশুলিয়ায় হযরত আলী নামের এক প্রবাসীর ভোগ-দখলকৃত জমিতে নির্মান করা বাড়ি ভাঙার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এঘটনায় একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে অভিযুক্তদের দাবি হয়রত আলী ২৪ শতাংশ জায়গা ক্রয় করে দাবি করছেন ৪৮ শতাংশ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘ দিন আগে ভুক্তভোগী হযরত আলী ও তার স্ত্রী ইয়াসমিন আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের মনসন্তোষপুর মৌজায় ২৪ শতাংশ জায়গা ক্রয় করেন। যার সিএস- ২১০, আরএস-৪৬০, ৪৬২, বিআরএস দাগ ৭৬৫৭ ও ৭৬৫৮। সেই জমিতে তাদের একটি বসবাসের ঘর রয়েছে। পরবর্তীতে তিনি অপর একটি জমিতে বসবাসের জন্য ঘর নির্মান করেন। বর্তমানে সেখানেই তিনি বসবাস করছেন। কিন্তু আগের বসতবাড়ির জায়গা নিজের দাবি করে ভাঙচুর করে প্রতিপক্ষ।
অভিযুক্তরা হলেন- আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের মৃত মুন্নু মোল্লার ছেলে মোঃ নাজিম উদ্দিন নাজি (৪০), মৃত কিতাব আলীর ছেলে মিয়াজ উদ্দিন (৬০) ও মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুল জলিল (৫০)।
ভুক্তভোগী হযরত আলীর স্ত্রী ইয়াসমিন বলেন, এই বাড়িটি আমরা নির্মান করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলাম। কিন্তু হঠাৎ অভিযুক্তরা নিজের জায়গা দাবি করে আমাদের বাড়িসহ জায়গা দখলের চেষ্টা করছে। বাধা দিলে গত ৬ এপ্রিল আমাদের ওপর হামলা করে বাড়ি ভাঙ্গচুর করে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করেন। এব্যাপারে কোন ধরনের আদালতের আদেশ ছাড়াই গতকাল আবার বাড়ি ভাঙ্গচুর করে তারা। তারা কোন বাধাই মানছেন না। তারা যদি আদালতের আদেশনামা নিয়ে আমাদের কাছে আসেন তাহলে আমাদের কোন দাবি নাই। কিন্তু অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক তারা আমাদের জমি দখলের পায়তারা করছেন।
এব্যাপারে অভিযুক্ত মিয়াজ উদ্দিন বলেন, হযরত আলী ও তার স্ত্রী ২৪ শতাংশ জায়গা ক্রয় করেন। তারা এখনও দাবি করছেন ২৪ শতাংশের মালিক। কিন্তু বাস্তবে তা মানছেন না। তারা অন্য দাগের ২৪ শতাংশ জায়গায় বাড়ি নির্মান করে ভোগদখল করে আসছেন। এই জমিটিও তিনি জোরপূর্বক ভোগ দখল করতে চাচ্ছেন। তাকে কাগজপত্র নিয়ে বসতে বললেও তিনি বসছেন না। তিনি ২৪ শতাংশ জমি কিনে ৪৮ শতাংশ জোরপূর্বক ভোগদখল করে আসছেন। আমরা স্থানীয়ভাবে বসে কাগজপত্র করে তাদের তিন লাখ টাকা দেই স্থাপনা বাবদে। তাদের জমি ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু টাকা নিয়েই হযরত আলী বিদেশে পাড়ি জমান। তার স্ত্রী এখনও ঝামেলা করছেন। জমি ছেড়ে দিচ্ছেন না। টাকা নিয়ে চুক্তি করে তারা চুক্তি ভঙ্গ করছেন।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ভজন চন্দ্র রায় বলেন, এব্যাপারে থানায় অভিযোগ হয়েছে। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




Daily Aporadh Prokash