আশুলিয়ায় মিঠাবন বেকারীতে ব্যাপক দূর্নীতি!

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ
অবৈধ অর্থের এক অতৃপ্ত তৃষ্ণায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে কিছু অসাধু বেকারি মালিকগণ।
অস্বাস্থ্যকর, নোংরা ও স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের বিস্কুট, পাউরুটি, জন্মদিনের কেক, লাড্ডুসহ বিভিন্ন ধরনের বেকারি পণ্য। শিশু শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে এসব বেকারিগুলোতে। শ্রমিকরা খালি গায়ে, খালি হাতে পণ্য তৈরি করছে। গরমে শরীর থেকে ঘাম ঝরে পড়ছে খাবারে। মিশ্রণ করা হচ্ছে ক্ষতিকর বিভিন্ন প্রকার রং।ক্রেতারা ভুগছেন আসল নকলের দ্বিধা দ্বন্দ্বে। মেয়াদ উত্তীর্ণ ভেজাল পণ্য বিক্রয় করা, মূল্যতালিকা প্রদর্শণ না করে এবং জনসাধারনের স্বাস্থ্য বা, জীবনহানি ঘটানোর অপরাধজনিত ভাবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইন ২০০৯ এর সংশ্লিষ্ঠ ধারা না মেনে তৈরী হচ্ছে এ সব খাদ্যপণ্য। ব্যাঙের ছাতার মত আশুলিয়ার আনাচে-কানাচে অনুমোদনবিহীন এ রকম প্রায় অর্ধশত বেকারী রয়েছে। তাছরা, অনুমোদিত কিছু বেকারী থাকলেও সে গুলোতেও চলছে চক্ষু আড়ালে ব্যাপক দূর্নীতি। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ দূর্নীতি উঠে আসে আশুলিয়ার শিমুলিয়ায় “মিঠাবন বেকারীতে”।
সুত্রঃ গত ১১জুন (রবিবার) বলিভদ্র বাজারে খুচরা বিক্রেতার নিকট থেকে মোস্তাক আহম্মেদ নামে এক ভদ্রলোক তার শিশুদের জন্য মিঠাবন বেকারীর দুই প্যাকেট বিস্কুট ওকেক ক্রয় করে বাসায় নিয়ে যায়। ঐ বিস্কুট খাওয়ার কিছুক্ষনের মধ্যেই ফুটপয়জনে ওনার শিশু সন্তানের পেটের ব্যথা অনুভব করতে থাকে এবং শুরু হয় বমি। এ সময় শিশুর অভিভাবক মোস্তাক আহম্মেদ প্যাকেট এর উপরে দেখতেপান যে, উৎপাদন তারিখের স্থানে লেখা রয়েছে ১৫ জুন ২০২৩ ইং। তিনি এক প্রকার স্তম্ভিত হয়ে যান!কারণ, তিনি ক্রয় করলেন ১১ জুন আর উৎপাদন তারিখ রয়েছে আরো চার দিন আগের অর্থাৎ ১৫জুন ২০২৩। বিষয়টি তার নিকট সন্দেহজনক মনে হয় এবং গণমাধ্যমকর্মীগণ-কে অবহিত করেন।
গণমাধ্যমকর্মীগণ বিক্রেতার নিকট জানতে চাইলে ঐ বিক্রেতা জানায়, আমরা খুচরা বিক্রেতাদের কি দোষ ! মিঠাবন এ যাবৎ যতগুলো পণ্য দিয়েছে তার সব গুলোতেই অগ্রীম উৎপাদন ডেট দেওয়া থাকে। তাছারা, মিঠাবন বেকারীপণ্য ক্রেতা চাহিদা ভাল এবং লাভজনক হওয়ায় অনেক দিন যাবৎ তাদের পণ্য বিক্রি করে আসছি। মেয়াদউত্তীর্ণ হয়ে গেলে সপ্তাহে একদিন এসে তা ফিরিয়ে নিয়েও যায় তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়ঃ ২/৩ দিন পর পর-ই মেয়াদউত্তীর্ণ বেকারী পণ্য ফিরিয়ে নিয়ে আসে এবং তা ভেঙ্গেচুরে মেশিনে গুড়া করে আবারও নতুন করে পণ্য তৈরী করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়ঃ আশুলিয়া থানাধীন শিমুলিয়া ইউনিয়ন মরিচকাটা গ্রামে নির্জন স্থানে একটি বাড়িতে প্রকাশ্যে তৈরী হচ্ছে মিঠাবন বেকারীর নানান ধরনের লোভনীয় বেকারীপণ্য। আর প্রথিষ্ঠানটির এক কোনে বসে অগ্রীম উৎপাদন অর্থাৎ মেয়াদ বাড়ানোর জন্য মোড়কের স্টীকারে দেদারছে সিল মেরে যাচ্ছেন দুইজন কর্মচারী।যাতে করে মেয়াদ উত্তির্ন হওয়ার পরেও নজরে না আসে এবং আরও কয়েক দিন বাজারজাত করা যায়। বিষয়টি সাংবাদিকদের ক্যামেরা বন্দি হয়। সেখানে গুডাউন ভর্তি রয়েছে আরো হাজার হাজার প্যাকেট বেকারীপণ্য ।ঐ সকল পণ্য গুলোর মোড়কে ১০দিন অগ্রীম উৎপাদন মেয়াদ দেওয়া রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা মাসুম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সারাদেশে এই পণ্যের ডিলার রয়েছে। বেকারীপণ্য গুলো দেশের বিভিন্ন জেলাতে সঠিক সময়ে পৌছিয়ে দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই, উৎপাদন সময় অগ্রীম দিতে হয়। যদিও এসব করা ঠিক নয় এবং চরমভাবে অন্যায় করে চলেছি। তিনি আরো বলেন যে,প্রতিষ্ঠানের মালিক সে নিজে নয় মার্কেটিং এর দায়িত্বে রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানের মালিকঃ কামাল হোসেন ও বেলাল হোসেন নামে দুইজন ব্যাক্তি। কামাল হোসেনকে পাওয়া না গেলে সাংবাদিকদের কথা শুনে ছুটে আসেন বেলাল হোসেন। তিনি এসেই অভিনব কায়দায় সাধু সাজার ভান করেন। মনে হচ্ছে উক্ত বিষয়ে তিনি কিছুই জানে না। তিনি সাংবাদিকদের বোকা বানাতে পণ্য প্রস্তুতকারী কর্মচারীদের ধমক দিয়ে বলেন এসব কেন করা হচ্ছে?কথা শেষ না হতেই সাংবাদিকদের আপায়ন করার জন্য চেষ্টা চালায়।
বেকারীর পণ্য তৈরীর অনুমতি সরকারী ভাবে আছে কি না প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মালিক বেলাল হোসেন সাংবাদিকদের জানায়, সকল প্রকার কাগজ পত্র ও দলিল রয়েছে আগামী ২/১দিনের মধ্যে যোগাযোগ করে তা দেখানো হবে বলে সময় অতিবাহীত করতে সুযোগ নেয়।এদিকে সাধারণ জনগন ও সূশীল সমাজ জানায়, শুধু বেকারী নয় অন্যান্য খাদ্যজাতীয় পণ্য তৈরীতেও যে সকল প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ দূর্নীতি করে মানুষ ঠকানোর ব্যবসায় মেতে উঠেছে ঐসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাদ করা সহ ভোক্তা অধিকার আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কঠোরতম শাস্তির দাবি জানায়।




Daily Aporadh Prokash