অপরাধআইন – আদালত

গোপালপুরে বাকি না দেওয়ায় রক্তাক্ত হলো মাছ ব্যবসায়ী শাহীন।

বিপ্লব শেখ :

মাছ বাকি না দেওয়ায় শাহীন (৩৬) নামের এক মাছ ব্যবসায়ীকে
আবুল কালাম ও তাঁর দলবল নিয়ে নিরীহ মাছ ব্যবসায়ী শাহীনকে ব্যাপক ভাবে মেরে রক্তাক্ত করেছে।
২৭’শে আগস্ট ২০২৩ ইং রবিবার আনুমানিক সকাল ০৭’টার দিকে সোনামুই বাজার মাছের আড়তে এঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, আবুল কালাম সোনামুই বাজারের মাছের আড়ৎ মালিক।
তিনি টাঙ্গাইল জেলার, গোপালপুর থানাধীন, ঝাওয়াইল ইউনিয়ন এর ভাদাই গ্রামের মৃত: বনদেছ আলীর ছেলে।
আহত শাহীনের বাবা বলেন, আমি ও আমার পরিবার অসহায় ও দরিদ্র হওয়ায়, জীবিকার তাগিদে গ্রামের হাট বাজারে মাছের ব্যবসা করে কোনমতে সংসার চালাচ্ছে শাহীন। তিনি আরও বলেন আমার ছেলে শাহীন (৩৬) ২৭’শে আগস্ট ২০২৩ইং রবিবার আনুমানিক সকাল ০৭টার দিকে আমার নিজ গ্রাম মৌজাডাকুরী থেকে মাছ ক্রয় করিয়া প্রতিদিনের মতো আজও সোনামুই বাজারে সেই মাছ বিক্রি করিতে যায়। এমতাবস্থায় সোনা মুই বাজারের মাছ আড়ৎ এর মালিক আবুল কালাম আমার ছেলে শাহীনের কাছথেকে বাঁকিতে মাছ নিতে চায়, শাহীন তাকে মাছ বাকি না দেওয়ায়
আড়ৎ মালিক আবুল কালাম মাছ বিক্রেতা অসহায় শাহীনের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে, তাতেও যখন আড়ৎ মালিক কালাম’কে মাছ বাকি না দেওয়া হয়। তখন তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর দলবল নিয়ে অতর্কিত ভাবে শাহীনকে আঘাত করে, এসময় শাহীনের চিৎকার শুনে আশপাশের দোকানদারগণ দৌড়ে এসে তাদের হাত থেকে শাহীনকে ছাড়িয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছেন বলে জানান তাঁর পিতা আঃ হাই।
তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে শাহীনকে যারা অন্যায় ভাবে মেরে রক্তাক্ত করেছে তারা হলেন,১/ মোঃ আবুল কালাম (৪০) পিতা মৃত : বনদেছ আলী ২/ মোঃ মহর আলী (৫৫)পিতা জয়নাল আবেদীন ৩/ মোঃ আলিম (৩৮)পিতা হযরত আলী ৪/ সুমন (৩৩) পিতা মৃত বানু চন্দ্র দাস ৫/ মোঃ ফিরোজ (৩৬) পিতা মহর সর্বসাং ভাদাই।
এবিষয়ে হেমনগর তদন্ত কেন্দ্রের এ এস আই আরিফ এর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে, ঘটনার সত্যতা শিকার করে এ এস আই আরিফ সাহেব বলেন,আমি খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, কিন্তু সেখানে কাউকে পাইনি, আশপাশের দোকানদারদের থেকে জানতে পেরেছি যে, ঘটনা সত্য এবং তারা আহত মাছ ব্যবসায়ীকে জরুরী চিকিৎসার জন্য গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছেন তবে,আড়ৎ মালিক আবুল কালামসহ তার সাথে যারা ছিলো তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি ঘটনাস্থলে।
এলাকা বাসীরা জানান, মাছ বিক্রেতা শাহীন ও তার পরিবারের লোকজন অত্যন্ত সহজসরল ও ভালো মানুষ। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে সে সাভার, আশুলিয়ার জামগড়াতে দীর্ঘদিন যাবত দিনমজুরির কাজ,মাছ বিক্রি ও রিক্সা চালিয়েছে, তার বাবা-মা’ বৃদ্ধ হওয়ায় শাহীন ঢাকা থেকে একেবারে বাড়িতে চলে এসেছে, বর্তমানে এখন ছেলেটা হাট বাজারে মাছের ব্যবসা করে যা উপার্জন করে তা-ই দিয়ে তাদের সংসার চলে। এই ছেলেটাকে মেরে যারা রক্তাক্ত করেছে, আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি।

জানা যায়, আহত মাছ বিক্রেতা টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর থানাধীন ঝাওয়াইল ইউনিয়নের মৌজাডাকুরী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা মোঃ আঃ হাই ওরফে (হাইও চাটুর) ছেলে শাহীন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button