আইন – আদালতজাতীয়শিক্ষাঙ্গন

দেলদুয়ারের প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবীতে বিক্ষোভ

 

টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে পাথরাইল বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীনবন্ধু প্রামাণিকের অপসারন দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। রোববার বেলা সাড়ে ১১ টায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোস্তফা আব্দুল্লাহ্ আল নূর, দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে যথাযথ নিয়ম কানুন অনুসরনের মাধ্যমে বরখাস্তের আশ^াস দিয়ে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হিন্দু (সনাতন) ধর্মের শিক্ষক অনৈতিক উপায়ে প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতাদের ম্যানেজ করে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ বাগিয়ে নেয়। এর পরেই শুরু হয় তার লাগামহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা। তার স্বেচ্ছাচারিতার আসন পাকাপোক্ত করতে টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া বড় মনি (বর্তমানে পলাতক) কে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করেন। এর পর থেকে তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস করেনি। ওই কমিটির অন্য সদস্য কারা তা সহকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানেন না।

জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক থাকা অবস্থায়ই তিনি টাঙ্গাইল শহরে এক মুসলিম নারীর সঙ্গে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়েন। পরে ধর্মান্তরিত হয়ে দ্বীন ইসলাম নাম ধারণ করে তিনি ওই নারীকে বিবাহ করেন। দুই বছর পর ওই নারী থেকে মোটা অঙ্গের টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাকে তাড়িয়ে দেন। এবং পূর্বের নাম দ্বীনবন্ধুতে ফিরে আসেন। বিভিন্ন সরকারি অনুদানের টাকা সহ বিদ্যালয় পুকুরের খনন করা মাটি, মাছ ও গাছ বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি অবৈধ কর্মকান্ড, প্রতারনা অনিয়ম দুর্নীতিতে ডুবে একটি সনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন বলে দাবি পাথরাইল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল আজিজ খানের।
অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক দ্বীনবন্ধু প্রামানিকের মোঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, যেহেতু বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি নেই সেহেতু প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জটিল। তবে নিয়মতান্ত্রীকভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button