অপরাধআইন – আদালত
mehedi hasan atvঅক্টোবর ২, ২০২৪
সাবেক প্রাণিসম্পদ সচিব ও প্রখ্যাত চাঁদাবাজ কবির বিন আনোয়ার ও তার পরিবারের বিদেশ ভ্রমণের উপর দুদকের নিষেধাজ্ঞা।


স্টাফ রিপোর্টারঃ
সাবেক প্রাণিসম্পদ সচিব ও প্রখ্যাত চাঁদাবাজ কবির বিন আনোয়ারের ও তার পরিবারের বিদেশ ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। সাথে সাথে তার অবৈধভাবে অর্জিত বিপুল পরিমাণ টাকা যোগ ও সম্পদ জব্দ করার জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমাদের পত্রিকায় ——- তারিখে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে তার দুর্নীতির বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়। এই দুর্নীতিবাজ সাবেক সচিব এমন কোন অপরাধ নেই যা তিনি করেন নাই। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না হয়ে পরিচয় দিতেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অথচ তার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায় তিনি হাবিবুল্লা বাহার কলেজের ছাত্র ছিলেন।তিনি জীবনে ছাত্রলীগ না করে বিশাল ছাত্রলীগের নেতা বলে পরিচয় দিতেন।
সিরাজগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন রতু মিয়ার একমাত্র পুত্র এই সাবেক সচিব। পুরা পরিবারটাই দুর্নীতিবাজ। আমাদের সংবাদদাতা সরজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন তৈরি করে জানিয়েছেন যে তার বড় বোন মিতালী হোসেন মেট্রিক পাশ করে হঠাৎ করে বুদ্ধিজীবী হয়ে যান। একের পর এক বই ছাপাতে থাকেন। হোসেন মোহাম্মদ এরশাদের মত অন্যের লেখা বই নিজের নামে চালিয়ে দিতেন।
তার বড় দুলাভাই খন্দকার মোজাম্মেল হক একজন প্রাক্তন ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসার। মোহাম্মদ নাসিম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন হাজার হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিয়েছেন। অ্যাডিশনাল আইডি হিসেবে রিটায়ারমেন্ট এর পূর্বে সিরাজগঞ্জের এএসপি,চুয়াডাঙ্গার ডিএসপি, যশোরের এসপি, বি.বাড়িয়ার এসপি, ঢাকা মেট্রোপলিটন সহকারী কমিশনার ও পরবর্তীতে চট্টগ্রামের ডিআইজি ও অ্যাডিশনাল আইজি হিসেবে অবসরে যান মোহাম্মদ নাসিম যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ খেতেন। আরেক বোনের হাজব্যান্ড জামালপুরের লোক তিনি জমির দালালি ও ভেজাল জমি দখল দিয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকা করেছেন। আর এক বোনের হ্যাজবেন্ড সিরাজগঞ্জের বিএনপি’র প্রখ্যাত নেতা ছিলেন তিনি তার স্বামী সহ কুখ্যাত চরিত্রহীন লম্পট সাবেক সচিবের অবৈধ সম্পদ ব্যবসা-বাণিজ্য দেখাশোনা করার দায়িত্ব ছিল। আরেক বোন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিল এটাও প্রাক্তন সচিব তার ক্ষমতা বলে পদটি পাইয়ে দেন।
কিছুদিন পূর্বে কবির বিন আনোয়ারের বড় বোনের বাসা থেকে পাচ শত ভরি সোনার অলংকার চুরি হয়ে যায়। বৈধভাবে অর্জিত এই সমস্ত অলংকারী চুরি হওয়ার পরও তিনি থানায় জিডি পর্যন্ত করেন নাই।
বাংলাদেশ টেলিভিশনে ঘরে বাইরে অনুষ্ঠানটি তৎকালীন টেলিভিশনের মহাপরিচালক ম হামিদের সাথে যোগাযোগ করে নিজেই পরিচালনা করতেন এই কবির বিন আনোয়ারের বড় বোন।
এই প্রাক্তন সচিব শিখিয়ে গেছেন কিভাবে দুর্নীতি করতে হয় কিভাবে চরিত্র হরণ করতে হয় কিভাবে নারী কর্মীদের নিয়ে অফিসে ফুর্তি করতে হয়।
তার দুর্নীতির ফিরিস্তি এতই লম্বা যে লিখে শেষ করা যাবে না। তার জন্য একটি পত্রিকা একটি বিশেষ সংখ্যা বের করা লাগবে । প্রাক্তন সচিব এর বড় বোন মিতালি হোসেন ভাইকে দিয়ে “বেগম রোকেয়া” পদকের জন্য তদবির করছিলেন । কিন্তু তিনি ২৩ সালের বেগম রোকেয়া পদকের জন্য দোড়ঝাপ করলেও সেটা না পাওয়ার বেদনা সহ্য করতে না পেরে তিনি কোটা বিরোধী যাকে কেউ কেউ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন বলে তাতে যোগ দেন এমনকি তিনি শাহবাগ আন্দোলনরত ছাত্রদের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন এবং তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অনেক মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। এর পিছনে পদক যেমন একটি কারণ এমনি হাজার দোড়ঝাপ করেও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তার স্বামীকে এক্সটেনশন দেন নাই এটাও তার ক্ষোভের কারণ।
ইতিমধ্যে গতকাল জানা গেছে এই প্রাক্তন সচিবের অবৈধ টাকায় কক্সবাজারে গড়ে ওঠা ৩০০ জমির উপরে রিসোর্ট এবং ঢাকায় ৪০০ বিঘা জমির উপরে রিসোর্ট সরকার তদন্ত করে তা ওই প্রাক্তন সচিবের অবৈধ টাকার মাধ্যমে গড়ে ওঠা সহায় সম্পত্তি ধানমন্ডি ফ্ল্যাট অচিরেই বায়েজাপ্ত করতে যাচ্ছে।
একুশের পদক জালিয়াতি :-
এবার মহা দুর্নীতির আরেকটি খবর দিয়ে শেষ করব।
এই প্রাক্তন সচিবের মা’কে বছর আগে সারা বাংলাদেশের মানুষকে অবাক করে একুশের পদক দেওয়া হয় যা কোনভাবেই তিনি পেতে পারেন না। মরহুমা ইসাবেলা ছিলেন সিরাজগঞ্জের একটি গার্লস স্কুলের হেডমিসটেস।তিনি কোন অবদানে একুশের পদ পেয়েছেন? প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে একুশের পদকের তালিকা করা হয়েছিল তার মাকে একুশের পদক দেওয়ার জন্য, অচিরেই বাতিল হয়ে যাবে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। একুশের পদক পেতে গেল যে সমস্ত যোগ্যতার প্রয়োজন হয় তার কোনোটিই বেগম মরহুমা ইসা বেলার ছিল না। শুধু বিশ্বাসী কবির বিন আনোয়ারের মা হওয়ার কারণে তিনি একুশের পদকে ভূষিত হন।
জানা গেছে ওই বছরের একুশের পদকটি প্রভাব খাটিয়ে মায়ের নামে পদটি বরাদ্দ করান।
তিনি তার অফিসের মহিলা সহকারীদের সাথে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন যা কেউ প্রকাশ না করলেও সকলেই জ্ঞাত আছেন।
আওয়ামী লীগে তার অবস্থান :-
আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হবার পর আওয়ামী লীগে তার অবস্থান শূন্যের কোটায় পৌঁছেছে।তার এই দুর্নীতির খবর, অপকর্ম সমূহ দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করলেও কবির বিন আনোয়ার আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে আসলে কর্মীরা তাকে পিটাবে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।দলীয়কর্মীদের সাথে বেয়াদবি এবং নারী কর্মীদের সাথে মাখামাখি এখন আর কেউ ভালো চোখে দেখবে না।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেন এই ধরনের দুর্নীতিবাজ আমাদের কারণে এত পুরাতন একটি বিশাল দলের আজকের এই করুন অবস্থা যা কেউ মানতে রাজি নয়।
যদিও এটা পরিষ্কার এবং সত্য একটি তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষিত হয়ে শুধুমাত্র চাপাবাজি চাঁদাবাজি ও বেয়াদবির মাধ্যমে রংবাজির মাধ্যমে সে সচিবালয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছে। দুর্নীতির বিচার সকলের দাবি। আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ অনেক নেতাকর্মী রয়েছে যারা এই সমস্ত দুর্নীতিবাজদের হাত থেকে আওয়ামী লীগকে মুক্ত করার জন্য ইতিমধ্যে সংগঠিত হচ্ছে ও শপথ গ্রহণ করেছে।




Daily Aporadh Prokash