আশুলিয়ায় অটোরিক্সাসহ তরুণ-তরুণী অপহরণ ও ধর্ষণের চেষ্টা


সাঈম সরকারঃ
আশুলিয়ায় অটোরিক্সাসহ তরুণ-তরুণীকে পথ থেকে তুলে নিয়ে রিক্সা চালককে হাত-পা বেধে মারধর ও তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে একদল দুস্কৃতি চক্র।স্থানীয় লোকজনের আনাগোনা ও হাকডাক টের পেয়ে একটি মটোরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায় ঐ চক্রটি।
এর দুইদিন আগে গত ১৬ আগস্ট (শনিবার) সন্ধা রাতে আশুলিয়ার পলাশবাড়ীর পশ্চিমে বাশবাড়ী মহসিনটেক বালুর মাঠ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
মঙ্গলবার সন্ধায় অটোরিক্সা গ্যারেজ মালিক মোঃ শফিউর উদ্দিন সবুর গণমুক্তিকে জানান, ১৬ আগস্ট অনুমান রাত ১১টায় ৯৯৯ ফোন করেছিলাম।কিন্তু,পুলিশ এসেছিলো ভোর রাত চারটায়। দুইদিন গত হয়ে যাওয়ার পরে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক এস আই শাহজালাল বিষয়টি নিয়ে তাকে এবং মটরসাইকেল মালিক মুন্নাকে রাত আটটার পর থানায় ডেকেছেন।
তিনি আরো জানান,তার প্রতিটিা অটোতে জিপিএস সেট করা রয়েছে।গ্যারেজ থেকে সকালে অটোরিক্সা নিয়ে রাত আটটার মধ্যে আবার গ্যারেজে জমা দেওয়ার ব্যক্তি সংবিধান চালু থাকায় নয়টা পার হতে চলেছে তবুও ঐ চালক ফিরে না আসায় তিনি দুশ্চিন্তায় পরে যান এবং মোবাইল ফোনে লোকেশন ট্র্যাক করেন। এসময় দেখতে পান বাশবাড়ী মহসিনটেকে অটোরিক্সাটি স্থির হয়ে রয়েছে।২০মিনিট হলো কোন নড়াচড়া না করায় তার গ্যারেজ থেকে তিনটি অটোরিক্সা যোগে নিজেসহ ৬/৭জন সেখানে উপস্থিত হয়। সেখানে অটোরিক্সা চোখে পরলেও চালককে দেখতে না পেয়ে অনেক খোজাখুজি ও হাকডাক শুরু করেন। না পেয়ে সাবেক সেনাসদস্য মোঃ সবুর রাত অনুমান ১১টায় ৯৯৯ এ ফোন করেন।ঘটনাস্থলে পুলিশ না আসায় ভেঙ্গে পরেন ও পুনরায় চালককে খুজতে থাকেন।দীর্ঘ সময় খোজা খুজির পর গভীর জঙ্গলের মাঝখানে চোখে পরে সীমানা ঘেড়াও একটি ১০ফুট উচু দেওয়াল।দেখতে হুবাহু একটি পরিত্যাক্ত ঘরের মত।সে দিকে দলবদ্ধ ভাবে সবাই মিলে যাওয়ার জন্য অগ্রসর হলে একদল যুবক একটি মটোরসাইকেল ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীগণ আরো জানায়, ঐ নির্জন ঘরের ভিতরে অটোরিক্সা চালককে হাত-পা ও চোখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।এসময় ফেলে রেখে যাওয়া মটোরসাইকেলসহ ভুক্তভুগীকে পলাশবাড়ী বটতলা এলাকায় নিয়ে এলে মুন্না নামে অনুমান (২৭) বছরের এক যুবক মটোরসাইকেলটি নিজের দাবি করেন এবং ছিনিয়ে নেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করেন।
এদিকে ভুক্তভুগী চালক জানায়, দীর্ঘদিন যাবৎ একটি মেয়ের সাথে তার প্রেম ছিলো।ঘটনার দিন তাকে নিয়ে ঘুড়তে বের হয় এবং বাসায় ফেরার পথে বাশবাড়ী এলাকাতে পৌছিলে দুইটি মটোরসাইকেল যোগে কয়েকজন এসে গতিরোধ করে এবং অটোরিক্সা থামিয়ে দেয়। এক প্রকার বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে অচেনা স্থানে নিয়ে যায়।সেখানে আমার মুখ-চোখ ও হাত-পা বেঁধে নেয় এবং ব্যপক ভাবে চর-থাপ্পর ও কিলঘুষি মারে।মুখ বেধে রাখায় জোরে চিৎকার করতেও পারছি না। ঐ সময় সাথে থাকা মেয়েটিকে জোর জুলুমে ধর্ষণের চেষ্টা করলে পাশেই একটি পুকুরে ঝাপ দিয়ে মেয়েটি নিজেকে রক্ষা করে।তখন ঐ অপহরণকারীরা আমার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে এবং বলে টাকা পেলে তোকে ছেড়ে দিবো।কিন্তু, ঘটনাস্থলের আশে-পাশে হঠাৎ লোকজনের আনাগোনা টের পেয়ে তারা সবাই দৌড়িয়ে পালিয়ে যায়।
এলাকাবাসি বলেন,আইন প্রয়োগকারি সংস্থা কঠোর অবস্থানে না থাকায় সারাদেশে এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা এখন নিত্যদিন্-ই ঘটে চলছে। এসব থেকে মুক্তি পেতে চান সাধারণ মানুষ।




Daily Aporadh Prokash