অপরাধআইন – আদালত

আশুলিয়ায় বেড়েছে চাদাবাজি, দখল ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াই ! পর্ব-০১

সাঈম সরকারঃ
আশুলিয়ায় নিত্যদিন বেড়েই চলছে চাদাবাজি, দখল ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াই। বাস-ট্রাক স্ট্যান্ড হতে শুরু করে গার্মেন্টস ব্যবসা,কাচাবাজার,মাছবাজার,অন্যের জমি জোর-জুলুমে দখলসহ অবৈধ ভাবে ফুটপাতে গড়ে ওঠা হাজার হাজার দোকান-পাটে প্রকাশ্যে চলছে চাদাবাজি।এ যেন হরিলুটের রাজত্ব কায়েম করার মহা উৎসব। মস্তিস্কো বিঘ্ন ঘটিত এমন ঘটনায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা-সহ নিরিহ জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে ভিতরে ভিতরে ক্ষোভে ফুলে-ফেপে উঠছে।যে কোন মুহুর্তে ফেটে পড়ার আশঙ্কায়। অথচ,আইন প্রয়োগকারি সংস্থা রয়েছেন নিরব ভুমিকায়।
সরেজমিনে জানায়,বাইপাইল সদর আলী কমপ্লেক্স (মাছ ওকাঁচা আড়ৎ) এর ১৫/১৭টি দোকানে নিষিদ্ধ পলিব্যাগ ব্যবসায়ীগণ জানায়,থানা পুলিশ ম্যানেজ করার কথা বলে এবং থানার ক্যশিয়ার পরিচয় দিয়ে তাজুল ও তার দুই ভাই শাহআলম এবং শাহজাহান নামে প্রতি মাসে প্রতিটা ব্যবসায়ীগণের নিকট থেকে ৩০০০(তিন)হাজার হতে ৫০০০(পাঁচ)হাজার টাকা আদায় করে আসছে।নিষিদ্ধ পলি ব্যাগ এর ব্যবসা নিশ্চিন্তে করার আশায় বাধ্য হয়েই দীর্ঘ ১০/১২ বছর যাবৎ তাদেরকে চাঁদা দিয়ে আসছিলেন বলে জানান।
আবার সারা আশুলিয়ায় রয়েছে প্রায় কয়েক হাজার কেরামবোট-সহ চা-দোকান।ঐসব দোকানদারগণ জানান,থানার ক্যাশিয়ার পরিচয়ে শাহআলমকে ৩০০শত টাকা হারে মাসয়ারা দিতে হয় প্রতিমাসে।। নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে আশুলিয়া থানার প্রবেশ পথ থেকে শুরু করে সম্ভার সিএনজি পর্যন্ত মহাসড়কে ফুটপাত অর্ধশত কাঁচা সব্জির দোকান ও মাছবাজারের ব্যবসায়ীগণবলেন, প্রতিটা দোকান থেকে শাহআলম ও তার ভাই তাজুকে চাঁদা দিতে হয়। অথচ, শাহআলম এবং তাজুল রওফে তাজুসহ তার ভাই শাহ-আলমের নামে রয়েছে একাধিক চাঁদাবাজি মামলাও।
এদিকে আশুলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী গফুর মিয়ার ভাগিনা পরিচয়ে মোঃ ছমির নামে এক ব্যক্তি লোড-আনলোড শ্রমিকদের নিকট বেশ কিছুদিন যাবৎ চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।সেই চাঁদা না দেওয়ায় গত ২২ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১২টায় ঐ শ্রমিতদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ১৩ জন শ্রমিক আহত হয়। আহতদের চিকিৎসার জন্য দ্রুত ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তিগণ জানান,গত ০৫ আগস্ট এর পর থেকে নিয়মিত ভাবে প্রায়ই গফুর মিয়ার লোকজন এ ধরনের অঘটনা ঘটিয়ে চলছে।গফুর মিয়া জেনে শুনেই আধিপত্য বিস্তারের জন্য এ সব করাচ্ছে তার ক্ষমতা সর্ম্পকে জনগণকে স্বরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য।
শ্রমিকদের সর্দার বাবুল মিয়া জানায়,আব্দুল গফুর মিয়ার ভাগিনা ছমির মিয়া প্রতিমাসে ০১লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল।সেই চাঁদার টাকা না দেওয়ায় ছমির মিয়া, সজল,রেজাউলসহ প্রায় ৫০জন দেশীয় অস্ত্র-স্বস্ত্র সুসজ্জিত অবস্থায় এসে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১৩/১৪জন শ্রমিককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে।আহতরা সবাই চিকিৎসার জন্য ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ শাওন বড়ুয়া আহতদের চিকিৎসার জন্য ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এব্যপারে আশুলিয়া থানা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক গফুর মিয়া সব কিছু অস্বীকার করে বলেন,ছমির মিয়া নামে তার কোন ভাগিনা নাই।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান,দখল নিয়ে এই ঘটনা ঘটেছে।শ্রমিকদের মেরেধরে দখলের চেষ্টায় এই হামলা হয়েছে।লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button