অপরাধ

কাশিমপুরে ল্যাবওয়ান হাসপাতালে দায়িত্ব অবহেলায় রোগীর মৃত্যু অভিযোগ স্বজনদের

ডেস্ক নিউজঃ
হাসপাতালটির নিবন্ধন,চিকিৎসা ব্যবস্থা,প্যাথলজি নিয়ে প্রশ্ন ? সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ
গাজীপুরের কাশিমপুরে ল্যাবওয়ান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের দায়িত্ব অবহেলায় আলিম প্রামাণিক (৫৫) নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই ) দূপুর ১ টার দিকে ল্যাবওয়ান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
সরেজমিনে দেখা যায় নিহত আলিম প্রামাণিকের স্বজনরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং ভাংচুর করেন। জানা যায়,নিহত আলিম প্রামাণিক আশুলিয়া থানার শিমুলিয়া ইউনিয়ন শ্যামের টেকি গাজিবাড়ি গ্রামের মৃত আনু প্রামাণি
কের ছেলে।
সরেজমিনে আরো জানা যায়, গত এক সপ্তাহ পূর্বে পিত্তথলিতে পাথর এবং খাদ্য নালি সমস্যাজনিত রোগের কারণে আলিম প্রামাণিককে স্থানীয় ল্যাবওয়ান হাসপাতালে ভর্তি করার তার নিকটতমরা।
এ সময় জরুরি বিভাগ থেকে রোগীর পিত্তথলি অপারেশন করতে বলা হয়। পরে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী অপারেশনর প্রস্তুতি নেন রোগীর স্বজনরা এবং ১ লাখ ১০ হাজার টাকা অপারেশন বাবদ চুক্তি পত্র করা হয় বলে জানা যায়।
এই অপারেশনটি করতে এত টাকা লাগবে কেন, জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তব্যরতরা রোগীর স্বজনদের বলেন বড় একটি মেডিক্যালের অধ্যাপককে দিয়ে অপারেশন করানো হবে যাতে করে রোগীর কোন সমস্যা না হয়।
এমন আশ্বাসে রোগীর স্বজনরা কোন প্রকার আপত্তি না করে তাদের কথায় রাজি হয়ে যান এবং টাকা পরিশোধ করেন। টাকা পরিশোধের পরদিন অপারেশন করা হবে জানান ল্যাবওয়ান কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এক এক করে চারদিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও অপারেশন করা হয়নি রোগী আলিম প্রামাণিকের।
এতদিন পার হওয়ার পরও অপারেশন করা করা হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে, কর্তৃপক্ষ ছয় নয় বুঝান রোগীর স্বজনদের। পরে রোগীর সাথে লোকজনেরা ক্ষিপ্ত হলে গত (১০ই জুলাই) সোমবার দুপুরে একটি হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপককে দিয়ে অপারেশন করান ল্যাবওয়ান কর্তৃপক্ষ।
অপারেশন পরিপূর্ণ ভাবে হওয়ার পর হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ চুক্তি অনুযায়ী আরো ৫০ হাজার টাকা বেশি দাবি করেন রোগীর স্বজনদের কাছে। নিরুপায় হয়ে আরো ৫০ হাজার টাকা বেশি দেন রোগীর লোকজনেরা।
অন্যদিকে জানা যায়, এই ল্যাবওয়ান হাসপাতালটিতে আই সি ইউ বা সি সি ও ব্যবস্থা না থাকায়, অপারেশনের পর থেকেই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। আই সি ইউ ছাড়া দুই দিন পার হওয়ার পর রোগীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভার এনাম মেডিকেল এন্ড কলেজে ভর্তি করতে বলেন।
এমতাবস্থায় (গত ১৩ই জুলাই) বৃহস্পতিবার দুপুরে ল্যাবওয়ান হাসপাতাল থেকে এনাম মেডিকেল এন্ড কলেজে নেওয়ার প্রস্তুতি নিলে সেখানেই মারা যান আলিম প্রামাণিক। এমন করুন অবস্থায় মারা যাওয়ার ঘটনাটি আশেপাশে ছড়িয়ে পরলে স্থানীয় লোকজন ও মৃতের স্বজনরা হাসপাতালটিতে ভাংচুর চালান।
সরেজমিনে হাসপাতালটির আশপাশের স্হানীয় বসবাসরত লোকজন জানান,হাসপাতালটির সরকারি নিবন্ধন আছে বলে মনে হয় না,কিছু দিন পর পর রোগী এবং রোগীর সাথে আসা স্বজনদের সাথে তর্ক বিতর্ক হওয়ার দৃশ্য দেখা যায় এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার নামে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা দাবী করারও অভিযোগ করেন, স্হানীয় লোকজন জানান,হাসপাতালটিতে ভালো কোন ডাক্তার নেই,প্যাথলজি টেকনিশিয়ান নেই,সবকিছু তারা নিজেরাই নার্সদের দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যায় দীর্ঘ দিন ধরে,
ঘটনাটির দ্বায় এড়াতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। অপরদিকে বিশ্বস্হ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়,ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃতের স্বজনদের ৪ লাখ টাকা এবং স্হানী সাংবাদিকদের আড়াই লাখ টাকা দিয়ে নিউজ থেকে বিরত রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে,হাসপাতালটির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে আরো বিস্তারিত পরের সংখ্যায় ধারাবাহিক ভাবে প্রচার করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button