অপরাধআইন – আদালত

আশুলিয়া এবং কালিয়াকৈর সীমানায় বনভূমি বাণিজ্য

সাঈম সরকারঃ
আশুলিয়ার কবিরপুর এবং কালিয়াকৈর উপজেলার বারইপাড়া বন বিভাগের বিট এলাকায় কাগজে-কলমে সরকারি বনভূমি থাকলেও সরেজমিনে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।বনবিভাগের সম্পত্তিতে টিনশেড থেকে শুরু করে বহুতল ভবন (আবাসিক বাড়ী-ঘর) নির্মাণান্তে দখল হয়ে আছে এবং চলমান রয়েছে দখল প্রক্রিয়া ।চলছে নতুন নির্মাণাধীন ভবন তৈরীর কাজও।ফাঁকা নেই এক শতাংশ জায়গাও।
স্থানীয়দের অভিযোগ,টাকার বিনিময়ে বাড়িঘর নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। আবার কোনো কোনো স্থানে কাগজবিহীন জমিও বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যে।এলাকাবাসীর ভাষায়,এটি যেন স্বাধীন“পৈত্রিক সম্পত্তি বাণিজ্য। কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে নাম দিয়েছেন—রামের করাত, আসতেও কাটে যেতেও কাটে।
তারা আরো বলেন,মোটা অংকের টাকা নিয়ে ঘর তোলার অনুমতি দেওয়া হয়।পরে অভিযোগ (অ্যালিগেশন) উঠলে সেই ঘর ভেঙে ফেলা হয়।এরপর আবারো অর্থের বিনিময়ে একই ঘর পুনরায় নির্মাণের অনুমতি মেলে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বনভূমির ভিতরে নতুন নতুন ঘর ও ভবন নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তার দাবি, এসব ঘর তৈরীর জন্য অনেক আগে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।নতুন করে কোনো অনুমতি দেওয়া হয় নাই। বন কর্মকর্তারাও একই সুরে বলেন, তারা নতুন কোনো অনুমোদন দেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলছেন এই যে, যদি নতুন অনুমতি না দেওয়া হয়, তাহলে এগুলো হচ্ছে কীভাবে?বনকেটে বনের জায়গায় কোন ক্ষমতার বলে প্রতিনিয়ত নতুন ভবন নির্মাণ চলছে? বন রক্ষার দায়িত্ব যাদের,তারাই যদি টাকার বিনিময়ে অনুমতি দেন—তাহলে বন রক্ষা করবে কে?”
আরো জানাযায়, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি কাগজবিহীন জমি বিক্রির সঙ্গেও জড়িত। নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে মৌখিক ‘অনুমতি দিয়ে ঘর নির্মাণের সুযোগ করে দেওয়া হয় বলে দাবি স্থানীয়দের। ফলে ধীরে ধীরে বনভূমি রূপ নিচ্ছে আবাসিক এলাকায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে,এভাবে বনভূমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ চলতে থাকলে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। বন উজাড়ের ফলে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য ধ্বংসে হবে।
এদিকে দায়িত্বরত বিট কর্মকর্তা বনি শাহাদাৎ-কে মুঠো ফোনে জানার চেষ্টা করলে তিনি ফোনের সূইচ বন্ধ করে দেন।
স্থানীয়দের দাবি,বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে বনভূমি রক্ষায় কঠোর নজরদারি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button