আপন মাকে পালক ছেলেকে দিয়ে গলা কেটে হত্যা করান মেয়ে, আটক ১!!


গাজীপুর প্রতিনিধি:
মোঃ ইব্রাহীম খলিল গাজীপুর প্রতিনিধিঃ
গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন কলমেশ্বরে মেয়ের বাসায় মা খুনের ঘটনায় এক আসামীকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন গাছা থানা পুলিশ।
৩১ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হাফিজুল ইসলাম জানায় মৃত বানু বেগমের প্রথম স্বামীকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং দ্বিতীয় স্বামীর মেয়ে শাহানাজের বাসায় বেরাতে আসলে তার প্রথম স্বামীর মেয়ে রহিমা ও রহিমার পালক ছেলে এমরান কে দিয়ে বানু বেগমের দ্বিতীয় স্বামীর মেয়ে শাহানাজের বাসায় বেরাতে আসলে রহিমা তার মাকে জুসের সাথে মিশিয়ে চেতনানাশক ঔষধ খাওয়ালে বানু বেগম অচেতন হয়ে শুয়ে থাকলে রহিমা চালাকির সাথে তার বোন শাহাজন ও তার পালক মেয়েকে নিয়ে বাসা খোঁজা ও বাজার করার কথা বলে বাহিরে গিয়ে এমরান কে ফোনে হুকুম দিলে আসামি এমরান গলায় ধারালো ব্লেড দিয়ে কন্ঠনালী কেটে দিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে রাখে এবং রক্ত কাপড় দিয়ে মুছে স্ট্রোক বলে চিল্লাতে থাকে। রহিমা ও তার বোন শাহানাজ এবং তার পালক মেয়ে বাসায় ফিরে এসে পরে কৌশলে পালিয়ে যায় রহিমা ও তার পালক ছেলে এমরান(২২), এবং পালক মেয়ে।
পরে গাছা থানা পুলিশ খবর পেয়ে বানু বেগম কে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন এবং লাশ ময়না তদন্ত শেষে ডাঃ বলেন বানু বেগম কে চেতনানাশক ঔষধ দিয়ে এবং পরে ধারালো ব্লেড দিয়ে কন্ঠনালী কাটা হয়।
পরে মৃত বানু বেগমের ছেলে রহিমার ভাই শাহাদাৎ হোসেন (২৩) গাছা থানায় একটি এজাহার করেন যার মামলা নাম্বার ৩৬/২৩, ধারা ৩০২/৩২৮/৩৪ পেনাল কোড রুজু করে জিএমপি উপ-পুলিশ কমিশনার অপরাধ (দক্ষিণ) এর নির্দেশনায় গাছা থানা পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় এসআই সাখাওয়াত হোসেন ও এসআই এহসানুল হক সংঙ্গীয় ফোর্সসহ ২৯ আগস্ট নরসিংদীর শিবপুরের কারারচড় এলাকা থেকে আসামি এমরান(২২) কে গ্রেফতার করেন।
আটককৃত আসামি হলেন নরসিংদীর শিবপুর থানার কারারচর গ্রামের মোঃ মাজেদ মিয়ার ছেলে এমরান মিয়া (২২), এমরানের পালক মা রহিমা পলাতক বলে জানান গাজীপুর মেট্রোপলিটনে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার অপরাধ (দক্ষিণ) হাফিজুল ইসলাম।
উল্লেখ গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার কলমেশ্বর এলাকার জনৈক সিদ্দিকুর রহমানের বাড়ির তৃতীয় তলা থেকে বানু বেগমের (৫০) গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হযেছে। নিহত বানু বেগম নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার কুতবারটেক গ্রামের মৃত জহর আলীর মেয়ে।
পুলিশ জানায়, বানু বেগম ২৫ আগস্ট নগরীর ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কলমেশ্বর এলাকায় তার ছোট মেয়ে শাহনাজের ভাড়া বাসায় বেড়াতে আসেন। ঘটনার দিন শনিবার রাতে ওই বাসায় বড় মেয়ে রহিমাও আসেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে (ভিকটিম) গলা কাটা অবস্থায় ঘরের মেজে পড়ে থাকতে দেখে থানা পুলিশে খবর দেয়া হয়।
খবর পেয়ে গাছা থানার এসআই এহসানুল হক সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় বানু বেগমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকে বড় মেয়ে রহিমা পলাতক রয়েছে।




Daily Aporadh Prokash