

বিশেষ প্রতিনিধি :
বহুল আলোচিত ২০০৪ সালের ২১ শে’ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওঃলীগ অফিসের সামনে চলাকালীন সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মামলায় যে আপিল চলছিল সেই আপিলের রায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব, তারেক রহমান ও সাবেক মন্ত্রী এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু সহ সকল আসামীগণ খালাস পেয়েছেন।
তাদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু গত ২৪শে’ ডিসেম্বর সকাল ১১:০৪মিঃ কাসেমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে উৎসুক নেতাকর্মীদের ভীড় সামলিয়ে দু’হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে, পরে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে সরাসরি শহিদ জিয়াউর রহমানের মাজারে যান ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে।
মোনাজাত শেষে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রেখে নেতাকর্মীদের বিদায় জানিয়ে চলে যান নিজ বাসায়।
দীর্ঘ ১৭টি বছর কারাবাসের পর ৩/৪ দিনের মধ্যেই হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় দ্রুতভাবে ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করানো হয়েছে বলে জানান তার পরিবারের লোকজন।
এ খবর পেয়েই আশুলিয়ায় বসবাসরত টাঙ্গাইল বাসীর বিএনপি নেতাকর্মীদের একাংশ বিকেলে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন। মোঃ বিপ্লব হোসেন ও তালহা বিন শফিক এর উদ্যোগে (বুধবার) পহেলা জানুয়ারি ২০২৫ ইং এশার নামাজের পর জামগড়া মুন্সী বাড়ির পাশে এ দোয়া ও মিলাদ মাহ্ফিলের আয়োজন করা হয়।
ঢাকা জেলা যুবদল নেতা প্রকৌশলী মোঃ আতিকুর রহমান উজ্জ্বল এর সভাপতিত্বে ও বিপ্লব হোসেন এর সঞ্চালনায়,দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আতিকুর রহমান উজ্জ্বল বলেন, আমার বড় ভাই জনাব,মোঃ এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু সাবেক মন্ত্রী ও টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন,তিনি শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে দীর্ঘ প্রায় ১৭’টি বছর যাবত বিনা কারনে জেলে আছেন। ২১’শে (আগস্টে) গ্রেনেড হামলার সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু কোনো ভাবেই জড়িত ছিলেন না। তাকে মিথ্যে অপবাদ দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন,আব্দুস সালাম পিন্টু আমাদের টাঙ্গাইল বাসীর অহংকার তাকে নিয়ে আমরা গর্ব করি। কারণ তাঁর মতো একজন সৎ ও আদর্শবান নেতা পাওয়া সত্যিই বড়ো ভাগ্যের বিষয়। তাঁর নামে কোনো অবৈধ টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স বা দু’চারটা বাড়িও নেই। অত্যন্ত সাদামাটাভাবে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতেন তিনি। রায়ের বিষয়ে সন্তুষ্ট হয়ে বিজ্ঞ আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে উজ্জ্বল বলেন, দীর্ঘদিন পরে হলেও আমরা সঠিক বিচার পেয়েছি।
এসময় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন,
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দল ঢাকা মহানগর উত্তর এর সাধারণ সম্পাদক, মোঃ বকুল হোসেন ভূঁইয়া, সেচ্ছাসেবক দলের নেতা আলহাজ্ব মাজহারুল ইসলাম মুন্সী, আমজাদ হোসেন মোল্লা,সাংবাদিক মেহেদী হাসান,মনজুরুল ইসলাম (মঞ্জু) আঃহামিদ মুন্সী, হরমুজ আলীও বাবুসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য যে, এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু ১৯৯১ এবং ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে তিনি উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তারের পর থেকেই কারাগারে আটক ছিলেন সাবেক এই মন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক মন্ত্রী এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু সহ গ্রেনেড হামলার মামলায় ১’ডিসেম্বর খালাসের রায় পাওয়া সকল আসামিদের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে, দোয়া শেষে তবারক খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করা হয়।




Daily Aporadh Prokash