অপরাধআইন – আদালত

পাবনার বেড়ায় ফসলিজমির পাশে অবৈধ সিসা কারখানায় দগ্ধ-২

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
পাবনার বেড়ার জাতসাখিনী ইউনিয়নের বক্তারপুরে সিসা কারখানায় পুরাতন ব্যাটারি পোড়ানোর সময় ফুটন্ত সিসায় দুই কর্মচারী দগ্ধ হয়েছেন। গভীর রাতে কারখানার আরালে গড়ে তোলা অবৈধ মাটির বাংলা চুলার টলী থেকে এ ঘটনা ঘটে । দগ্ধ দুই জন হলেন কামরুল ইসলাম (৪৫) এবং শুভ (৩৫)। ঘটনা টি জানাজানি হওয়ার আগেই দগ্ধ দুই কর্মচারী কে ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে গোপন সুএে জানা যায়। এছাড়াও দগ্ধ কর্মচারীদের পরিবার কে ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করে রেখেছেন। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে।
অনুসন্ধানে জানান যায় বিষাক্ত সিসা কারখানার কারণে আসে পাশের জমিতে ফসল হয় না। জমির ঘাস গরু ছাগল খেলেই মারা যায়। সিসার ধোঁয়ায় ফলজ গাছে ফল ধরে না। আশেপাশের মানুষ সিসার ধোঁয়ায় বিভিন্ন জটিল কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এলাকাবাসী জানান কিছু দিন আগেও নুন আনতে যার পান্তা ফুরাতো, মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতো এবং রাস্তায় রাস্তায় তালের শাঁস বিক্রি করতো। কাঁচা মালের ব্যবসা করে আয় উপার্জন করে কোন মতে সংসার চালাতো সেই জয়দার কি এমন আলাউদ্দিনের চেরাগ পেলো এত অল্প সময়ে কোটি টাকার মালিক বনে গেলেন। এলাকার রাজনৈতিক ব্যক্তি থেকে শুরু করে প্রশাসন কে ম্যানেজএর মাধ্যমে পরিবেশ নষ্ট ও মানুষ জন সহ সকল প্রকার জীবনের স্বাস্থ্য ঝুকিতে ফেলেছে। কারখানার পাশেই রয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক, একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় , মসজিদ মাদ্রাসা, বাজার। ঘনবসতি পুর্ন গ্রাম হলেও জয়দারের ক্ষমতার কাছে গ্রামের মানুষ আজ অসহায় হয়ে পরেছে । কেউ তার সামনে ভয়ে কথা বলার সাহস পায় না। প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা কে দাওয়াত দিয়ে তার বাড়িতে এনে খাওয়াইয়া ক্ষমতার জানান দেন এলাকায় । হঠাৎ করে এই জয়দার আলাউদিনের চেরাগের দৈত্য আকৃতির গল্প কেও হার মানিয়েছে।। এখন সে শত শত কোটি টাকার মালিক।গ্রামে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ তাই শত কষ্টেও কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না । উল্লেখ্য ইতিপূর্বে উক্ত স্থানের পাশেই নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়নে আজ থেকে দশ বছর আগে এই অঞ্চলে পুরাতন ব্যাটারি ভাঙার কাজ করা হতো। সেই সাথে যমুনা নদীর কিনারায় চড়ের উপর খোলা মাঠে এই বিষাক্ত ব্যাটারির গলানো হতো । এতে পরিবেশের মহাবিপর্যয় দেখা দেয়। বিষাক্ত ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষিত হওয়ায় মানুষের শ্বাসকষ্টর কারণ সহ কৃষিতে বিপর্যয় দেখা দেয়, গরু ছাগল মারা যায়। যার ফলে, এ সব খোলা চুল্লী বন্ধ করে দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর।এর পর থেকে জনজীবন সহ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় ছিল ।
সম্প্রতি এই অঞ্চলে সিসার মাটি গলানোর কথা বলে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অনুমতি নিয়ে এসে কারখানার ভিতরে অবৈধ মাটির বাংলা চুলায় গোপনে রাতের আধারে পুরাতন ব্যাটারি ভেংগে গলানো হচ্ছে । ফলে রাত নামলেই ধোঁয়ায় এলাকার মানুষের বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে । নিরুপায় হলেও সাধারণ মানুষ তার ভয়ে কিছু বলার সাহস পায় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধীক ব্যাক্তি জানান, কারখানার ভিতরে রাতে খোলা অবস্থায় পুরাতন ব্যাটারি পুরিয়ে সিসা তৈরি করা হয়। এ সময় গন্ধে নিশ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে যায়। এ ধরণের সিসার অবৈধ খোলা চুলা আগেও ছিলো এলাকায় । বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর বন্ধ করে দিয়েছিল আইন প্রয়োগকারী ব্যবস্থাপকগণ । সম্প্রতি রাতের আধারে কারখানার গেট বন্ধ করে এ সকল অপকর্ম করে চলছে ঐ প্রভাবশালী। ইতিপুর্বেও যার নুন আনতে পানতা ফুরাতো, ছিলো দিন মুজুর ।
কারখানায় গেলে দেখা যায় কারখানা জুড়ে বসানো হয়েছে সিসার বার তৈরির লাখ লাখ টাকার মেশিন ও মাটির বাংলা চুলাও। সে সব মেশিনে উৎপাদিত সিসার বার, কাঁচামাল ও কয়লা কারখানার পুরো শেড জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন স্থানে।
স্বাস্থ্য ঝুকি নিয়ে কাজ করছে নিরুপয় শ্রমিকরা। বর্তমানে যেখানে বাংলাদেশ সরকার পরিবেশ বিনষ্ট কারিদের উপর কঠোর থেকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিভিন্ন পরিবেশ অধিদপ্তরকে। সেখানে ঘনবসতি পূর্ণ গ্রামের ভিতর কিভাবে প্রশাসন কে ম্যানেজ করে বিষাক্ত সিসা কারখানা চলছে । এতে প্রশ্নবি্দ্ধ হচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তরের অবকাঠামো । যে সিসার ধোঁয়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে শিশু কিশোর থেকে বৃদ্ধ সহ সব বয়সের সাধারণ মানুষ।
হচ্ছে মরণ ব্যাধি ক্যান্সারের মতো জটিল রোগও। বর্তমানে এলাকায় শ্বাসকষ্ট জনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। এই সিসা শিল্প কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া থেকে রক্ষা পেতে ও মরণ ফাঁদ থেকে বাঁচতে চায় সাধারণ জনগণ। সেই সাথে বাংলাদেশ সরকার ও প্রশাসনের কাছে এই কারখানা বন্ধে ও আইনের আওতায় আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকার সাধারণ মানুষ । সেই সাথে পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন প্রতিষ্ঠান জনবহুল স্থান থেকে সরানোর অনুরোধ জানান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button