আশুলিয়ায় সাউন্ড সিস্টেমের তাণ্ডব ও অসামাজিক কার্যকলাপে দিশেহারা এলাকাবাসী, নিশ্চুপ প্রশাসন


নিজস্ব প্রতিবেদক:-মেহেদী হাসান,
বিকট শব্দে বাজছে উচ্চস্বরের গান, তাতেই কাঁপছে চারপাশ! আনন্দের নামে আশুলিয়ার রশিদ মার্কেট এলাকায় যেন চলছে শব্দের মহোৎসব। তীব্র শব্দদূষণ, অসামাজিক কর্মকাণ্ড এবং কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ, গার্মেন্টস শ্রমিক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশুলিয়ার রশিদ মার্কেট সংলগ্ন ছয়তলা ভবনের পাশেই গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে এই কথিত ‘আনন্দ মেলা’। মেলার নামে সেখানে নানারকম আকর্ষণীয় ফাঁদ পেতে জিম্মি করা হচ্ছে খেটে খাওয়া গার্মেন্টস শ্রমিকদের। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে ঘরে ফেরা শ্রমিকেরা মেলা প্রাঙ্গণে এসে পকেট খালি করে ফিরছেন।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। মেলায় ব্যবহৃত উচ্চশব্দের মাইক ও সাউন্ড সিস্টেমের কারণে ঘরে বসে পড়ালেখায় মন দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সহনীয় মাত্রার তোয়াক্কা না করে দিন-রাত সমান তালে বাজানো হচ্ছে গান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছায় এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
”সাত দিন ধরে ঘরে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। বিকট শব্দে বাচ্চারা পড়তে বসতে পারছে না, বয়স্করা ঘুমাতে পারছেন না। প্রশাসন কেন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না, আমরা তা বুঝতে পারছি না।”
মেলাকে কেন্দ্র করে উঠেছে আরও মারাত্মক সব অভিযোগ। মেলা প্রাঙ্গণে ও আশপাশে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মেলার অদূরেই বসে নেশাজাতীয় দ্রব্যের আড্ডা। মেলাকে কেন্দ্র করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অবাধ ঘোরাফেরা এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মেলার ভেতর ‘ভূতের ঘর’ নামক একটি স্থানকে নিরাপদ আস্তানা বানিয়ে সেখানে অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা এলাকার সামাজিকভাবে চরম নীতিভ্রষ্ট পরিবেশ তৈরি করছে।
বিগত সাত দিন ধরে এই নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা চললেও এখন পর্যন্ত আশুলিয়া থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের এমন নীরবতার কারণেই মেলার আয়োজকেরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
অবিলম্বে এই কথিত মেলা বন্ধ করে এলাকার সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ড রুখে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ প্রশাসন ও জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন রশিদ মার্কেট এলাকার সর্বস্তরের জনগণ।
এখন দেখার বিষয়, ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর এই আকুতি থানা প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের কানে কত দ্রুত পৌঁছায়।




Daily Aporadh Prokash