অপরাধআইন – আদালত

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পুকুরের দখল ছেড়ে দিতে  চেয়ারম্যানের হুমকি।

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পুকুরের দখল ছেড়ে দিতে  চেয়ারম্যানের হুমকি
মাটি মামুন রংপুর।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের বাগডহরা মৌজার ১ খতিয়ানভুক্ত ৫ নং সিটের ৫১১৯ দাগের চর বাগডহরা গ্রামের বকস পাড়া বড় দিঘির ২.২০ একর আয়তন বিশিষ্ট পুকুরটি (সরকারি টেরিটরিভুক্ত নয়) দখল ছেড়ে দিতে চর বাগডহরা যুব সংঘের সদস্যদেরকে ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ আলী ভয়ভীতি ও হুমকির দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় যুব সংঘের সদস্যরা ইউএনও ও  এসিল্যান্ডের কাছে এবং থানায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। ফলে এলাকায় দেখা দিয়েছে উত্তেজনা, যে কোন সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, নোহালী ইউনিয়নের বাগডহরা মৌজার ১ খতিয়ানভুক্ত ৫ নং সিটের ৫১১৯ দাগের চর বাগডহরা গ্রামের বকস পাড়া বড় দিঘির ২.২০ একর আয়তন বিশিষ্ট পুকুরটি (সরকারি টেরিটরিভুক্ত নয়) যুব সংঘের সদস্যরা প্রায় ১ বছর পূর্বে তৎকালীন ইউএনওর হস্তক্ষেপে  অবৈধ দখলদার কবল থেকে উদ্ধার করে।
 উদ্ধারকৃত পুকুরটি সরকারি টেরিটরিভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সামাজিক সংগঠনটির উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পুকুরটিতে মাছ চাষের জন্য মৌখিক অনুমতি প্রদান করেন তৎকালীন ইউএনও।
সে মোতাবেক যুব সংগঠনের সদস্যরা সংস্কারসহ পুকুরটিতে বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা ছাড়ে।
 এতে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়। গত ৮ এপ্রিল বিকাল ৪ টার দিকে নোহালী ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ আলী ব্যক্তি স্বাথ হাসিলের জন্য তার ১৫/২০ জন লোক সাথে নিয়ে পুকুর পাড়ে গিয়ে পুকুরে মাছ চাষ না করার জন্য সদস্যদের নিষেধ করে। যুব সংঘের সদস্যরা তার কথার অস্বীকৃতি জানালে চেয়ারম্যান সদস্যদের নানা গালিগালাজ, ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে এবং পরে পুকুরটির দখল ছেড়ে দেওয়াসহ মাছ চাষে বিরত থাকার জন্য এলাকায় মাইকিং করে।
যুব সংঘের সদস্য শফিকুল, মোনায়েম, রশিদুল, সাইফুল, আবদুল হান্নানসহ অনেকে জানান, পুকুরটি এলাকার কতিপয় মানুষের দখলে ছিলো।
তারা পুকুরটির পাড় নষ্টসহ নিজেদের মাঝে দ্বন্দের সৃষ্টি করছিল।
বিষয়টি তৎকালীন ইউএনওকে আমরা সংগঠনের সদস্যরা অবগত করলে ওনার হস্তক্ষেপে আমরা পুকুরটি উদ্ধার করি। তখন তিনি পুকুরটি সংস্কার করে টেরিটরিভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সামাজিক সংগঠনটির উন্নয়নের জন্য মাছ চাষ করার মৌখিক অনুমতি প্রদান করেন।
অনুমতির বিষয়টি এলাকার সবাই জানার কারণে কেউ কোন রকম হস্তক্ষেপ করে নাই।
কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ আলী তার কিছু লোকজনের কুপরামর্শে নিজের ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য পুকুরটি নিজ দখলে নিতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে আমাদেরকে পুকুর ছেড়ে দেওয়ার জন্য নানা রকম ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে।
এছাড়া মাইকিং করে তার ক্ষমতার প্রভাব দেখাচ্ছে।
চেয়ারম্যান ও তার লোকজনের হুমকি, ভয়ভীতির কারণে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
যে কোন সময় আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে চেয়ারম্যানকে এর দায় দায়িত্ব নিতে হবে।
এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য আমরা ইউএনও ও এসিল্যান্ডের কাছে এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
এবিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ আলী সাথে কথা বললে তিনি এই প্রতিবেদক কে বলেন, আমি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হিসেবে আমার ইউনিয়নের কোন লোকজনকে আমি হুমকি দেই নাই।
উপজেলা চেয়ারম্যানসহ আরো ৫ জন ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে পুকুরটি নিয়ে আলোচনা হয়।
তখন আমি সেখানে বলেছি পুকুর পাড়ে যেসব গরিব মানুষ বসবাস করে তারা মাছ চাষ করার সুযোগ না পেয়ে দূরের কিছু লোক নিয়ম বহির্ভূতভাবে মাছ চাষ করছে।
মাছ করলে পুকুর পাড়ে বসবাসরত গরিব মানুষগুলো মাছ চাষ করবে এ কথাটায় আমি এলাকায় বলেছি।
ওরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ষড়যন্ত্র করছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বলেন, চেয়ারম্যানের বিষয়টি আমি জেনে আইশৃঙ্খলার যাতে কোন ধরনের অবনতি না হয় তা চেয়ারম্যানকে বলেছি এবং ওসিকে জানাইছি।
এছাড়া অভিযোগ তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button