অপরাধআইন – আদালত
mehedi hasan atvনভেম্বর ২১, ২০২৪
বিশ্বাসের ঘরে চুরি করে লাপাত্তা প্রতারক ও তার সহধর্মিণী।

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি
গাজীপুর নাওজোর রুবি টাওয়ার গলিতে মিল্টন সরকারের বাড়িতে দীর্ঘদিন যাবত ভাড়া থাকেন মোঃ গোলাম হাজী (৩৮), পিতা-মৃত আকছেদ ফকির, মাতা-মনোয়ারা বেগম, সাং-১নং সদিয়া চাঁদপুর, থানা-এনায়েতপুর, জেলা-সিরাজগঞ্জ, তিনি উক্ত বাসায় আসার পর কিছু দিনের মধ্যেই বাড়ির মালিকের কাছে বিশ্বাসের পাত্র হয়ে উঠেন যার সুবাদে বাড়ির মালিক তাকে ভাড়াকৃত সমস্ত রুমের ভাড়া ও তার বিভিন্ন দোকানের ভাড়া আদায় করার জন্য সহকারী ম্যানেজারের দায়িত্ব দেন।
তিনি বাড়ির মালিকের সেই বিশ্বাসের মর্যাদা দিয়েই দীর্ঘদিন যাবত ভাড়া আদায় করতে গিয়ে এবং দীর্ঘদিন একই বাসায় থাকার কারণে কিছু ভাড়াটিয়ার সাথে তার ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। যার মধ্যে অন্যতম ছিল তারই পাশের ভাড়াটিয়া মাহাবুব (২৪), পিতা-মোঃ বাচ্চু মিয়া, মাতা-মাহমুদা বেগম, ও মোসাঃ মারিয়া (২৮), পিতা-জাকির হোসেন, মাতা-আফছানা, উভয়ের এন.আইডি উল্লেখিত স্থায়ী ঠিকানাঃ সাং-কেওয়া পূর্ব খন্ড, থানা-শ্রীপুর, জেলা-গাজীপুর। প্রতিনিয়ত-ই তাদের যাওয়া আসা ছিল মোঃ গোলাম হাজীর রুমে।
বিগত দিনের ন্যায় ১১-নভেম্বর-২০২৪ ইং তারিখ রোজ সোমবার সবার কাছ থেকে সংগৃহীত ভাড়ার টাকা নিয়ে ঘরে ফিরেন মোঃ গোলাম হাজী। তিনি ঘরে ফিরার পরপরই পাশের রুমে ভাড়া থাকা মাহাবুব ও মারিয়া তার ঘরে আসেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে থাকেন এমতাবস্থায় মোঃ গোলাম হাজী তার আদায়কৃত বাড়ি ভাড়ার ১ লক্ষ্য ৪৫ হাজার সাতশ (১,৪৫,৭০০/-) টাকা তাদের সামনেই তার রুমে নিজ ওয়ারড্রব এর ডয়ারে রাখেন। তারপর তিনি চাবি ওয়ারড্রব এর উপরে রেখে ঘরের বিভিন্ন কাজ করতে থাকেন।এক পর্যায়ে মাহাবুব ও মারিয়া’কে ঘরে বসিয়ে রেখে গোলাম হাজী তার রুমের বাহিরে কিছু কাজ করেন। বাহিরের কাজ শেষে তিনি ক্লান্ত শরীরে রুমে ফিরে আসলে তার রুমে বসে থাকা মাহাবুব ও মারিয়া তাদের রুমে চলে যান। রাতের খাওয়া দাওয়া সেরে যার যার রুমে ঘুমিয়ে পড়েন, পরের দিন সকালে উঠে গোলাম হাজী তার কাজে চলে যান তখন মাহবুব ও মারিয়া’কে দরজা বন্ধ করে ঘুমাতে দেখে যান।
তিনি রাতে বাসায় ফিরে মাহবুব ও মারিয়া’র রুমে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান তখন তিনি মনে করেন হয়তোবা কোথাও ঘুরতে বের হয়েছে তারা তাই বাসায় ফিরতে তাদের বিলম্ব হচ্ছে। এই ভেবে গোলাম হাজী তার রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। তারপরের দিন সকালে গোলাম হাজী কাজে বের হবার সময় আদায়কৃত বাড়ি ভাড়ার টাকা গুলো সরকার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করার জন্য তার ওয়ারড্রবের ড্রয়ারে থাকা ১ লক্ষ্য ৪৫ হাজার সাতশ (১,৪৫,৭০০/-) টাকা বের করার জন্য ড্রয়ারের কাছে গেলে উক্ত ড্রয়ারটির তালা খোলা এবং আলতো করে চাপানো অবস্থায় দেখতে পান তিনি ড্রয়ারটি হাত দিয়ে টেনে খুলেন এবং গচ্ছিত টাকাগুলোও খোঁজেন কিন্তু ড্রয়ারটির কোথাও আর পাওয়া যায়নি ঐ টাকা গুলো।
তাৎক্ষণিক দৌড়ে তিনি মাহাবুব ও মারিয়া’র ঘরের দিকে যান তখনও ঐ ঘরে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরবর্তীতে তাদের’কে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি যখন এমত অবস্থায় এসে দাঁড়ায় তখন তার সন্দেহটাও আরও গভীর হয় এক পর্যায়ে তিনি ধরেই নেন তার উঠানো বাড়ি ভাড়ার আদায়কৃত টাকাগুলো ড্রয়ার থেকে মাহবুব ও মারিয়া নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে তাদের ফোন নাম্বারে যোগাযোগ চাইলে তাহা ও বন্ধ পাওয়া যায়। তাদের এন.আইডিতে উল্লেখিত স্থানীয় ঠিকানায় খোঁজাখুঁজি করেও মিলেনি তাদের কোন সন্ধান।
সবশেষে গোলাম হাজী ও তার ম্যানেজার এবং ঐ বাড়ির মালিক আলাপ আলোচনার পর জানান গত ১১-নভেম্বর-২০২৪ তারিখ রোজ সোমবার রাত আনুমানিক ০৮.০০ ঘটিকার পর হইতে ইং ১৩-নভেম্বর-২০২৪ তারিখ রোজ বুধবার বিকাল আনুমানিক ০৫.০০ ঘটিকার মধ্যবর্তী সময়ে উক্ত টাকা ও গোলাম হাজীর নিজ নামীয় একটি ভিভো ব্রান্ডের মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায় মাহবুব ও মারিয়া। এ বিষয়ে বাসন মেট্রো থানায় একটি অভিযোগ ও করা হয়েছে। এমতাবস্থায় উক্ত ঘটনাটি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষী ব্যক্তি’কে খুঁজে বের করে চুরি কৃত টাকা ফেরত সহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন বাড়ির মালিক।




Daily Aporadh Prokash