

সাভারের আশুলিয়ার কাশবনের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া ৩৮ টুকরা কঙ্কাল আজ শুধু একটি হত্যার প্রমাণ নয়, এটি আমাদের সমাজের নিষ্ঠুর বাস্তবতার দলিল।
নিহত অটোরিকশা চালকের নাম মিলন। খুব সাধারণ এক তরুণ। প্রতিদিনের আয়ে সংসার চালানোই ছিল তার জীবনসংগ্রাম। ২৯ সেপ্টেম্বর অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সে। আর কখনো ফিরে আসেনি।
দিনের পর দিন পরিবারের অপেক্ষা, থানায় জিডি, মায়ের কান্না—সবকিছুর শেষ হয় প্রায় দুই মাস পর, যখন কাশবনের ভেতর থেকে উদ্ধার হয় মানুষের হাড়। ৩৮ টুকরা কঙ্কাল। কাপড় দেখে পরিবার শনাক্ত করে, ওটাই রিমনের শেষ চিহ্ন।
পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে আসে ভয়ংকর সত্য।
অটোরিকশা ছিনতাইয়ের লোভে পরিকল্পিতভাবে রিমনকে হত্যা করা হয়। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ ফেলে দেওয়া হয় কাশবনে।
পরে অটোরিকশাটি বিক্রি করে নেয় ঘাতকরা।
এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছে—
রনি মিয়া (২৪), এরশাদ আলী (৩৪) এবং আবুল কালাম (৫২)
তারা আদালতে স্বীকারোক্তিও দিয়েছে। তবে এই নৃশংস ঘটনায় জড়িত আরেকজন—সুমন এখনো পলাতক।
একটি অটোরিকশার জন্য একটি তরুণ জীবন।
একটু টাকার জন্য একজন মানুষের শ্বাস চেপে ধরা।
অটোরিকশা পাওয়া যাবে। কিন্তু মিলনের জীবন আর কখনো ফিরবে না।


Daily Aporadh Prokash