অন্যান্যজাতীয়

বগুড়ার মহাস্থান মাজারের ১৫টি দানবাক্সে মিলল ৩৪লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা- স্বর্ণালংকার বৈদিক মুদ্রাঃ গুণতে লাগলো ২ দিন

রাহেল মাহমুদ:

​বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে অবস্থিত হযরত শাহ সুলতান বলখী মাহীসওয়ার (রঃ)-এর মাজারের ১৫টি দানবাক্স (সিন্দুক) খোলার পর ৩৪,৫৪,০৬২/- (চৌত্রিশ লক্ষ চুয়ান্ন হাজার বাষট্টি টাকা) ছাড়াও বিদেশি মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার পাওয়া গেছে। দানবাক্স থেকে পাওয়া এই বিপুল পরিমাণ টাকা গণনা করতে পার হয়ে গেছে প্রায় ২ দিন। বিশাল এই কর্মযজ্ঞে অংশ নিয়েছেন স্থানীয় অগ্রণী ব্যাংকে ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, মাজার কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় মহাস্থান উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৫ জন ছাত্র। গত মঙ্গলবার ও বুধবার জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শাহ জালাল ও মাজার কমিটির কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মহাস্থান মাজার ও বন্দরে অবস্থিত ১৫টি দান বাক্সে উল্লেখ্য টাকা গণনা করে পাওয়া যায়। ​মাজার কমিটি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি ৩ থেকে ৪ মাস পর পর এই দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এবার দীর্ঘ সময় পর মাজারের ১৫টি লোহার সিন্দুক বা দানবাক্স প্রশাসনের কর্মকর্তা ও মাজার কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে খোলা হয়েছে। সিন্দুকগুলো খোলার পর দেখা যায় সেগুলো টাকা, পয়সা, বিদেশি মুদ্রা এবং ভক্তদের দান করা স্বর্ণ-রৌপ্য অলংকারে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে আছে। ​বস্তা বস্তা টাকা, ​দানবাক্সগুলো খোলার পর টাকাগুলো প্রথমে বস্তাবন্দী করে মাজারের অফিসে নিয়ে আসা হয়। সেই টাকা গণনায় ব্যাংক কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
​টাকা গণনার দায়িত্বে থাকা এক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, “আমরা গতকাল সকাল থেকে বিরতিহীন ভাবে টাকা গুণে যাচ্ছি। কয়েন এবং কাগজের নোট আলাদা করতে অনেক সময় লাগছে। এছাড়া ছেঁড়া ও নোংরা নোটগুলো আলাদা করতে হচ্ছে।​স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অংশ নেওয়া মহাস্থান হাইস্কুলের স্কুলছাত্র জানায়, “আমাদের শিক্ষকরা আমাদের এখানে নিয়ে এসেছেন। আমরা মাজারের টাকা গণনার মতো পবিত্র কাজে অংশ নিতে পেরে খুব আনন্দিত। গত ১৪ মে মহাস্থান হযরত শাহ সুলতান (রহঃ) এর মাজার কেন্দিক ছিল শেষ বৈশাখী ওরস। এ কারনে এবার দানবাক্স গুলোতে বিপুল পরিমাণ টাকা পড়েছে। তাও শুধু বাংলাদেশি টাকা নয়, বেশ কয়েকটি দেশের টাকা ও মুদ্রা পাওয়া গেছে। এছাড়া ভক্তদের দান করা সোনা ও রুপার গহনাও জমা পড়েছে। ​মাজার কমিটির সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা রবিউল করিম জানান, “হযরত শাহ সুলতান বলখী (রঃ) এর মাজারে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থী আসেন। তারা অত্যন্ত ভক্তি নিয়ে এখানে দান করেন। দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত এই অর্থ মাজারের উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ, এতিমখানা পরিচালনা, ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং স্থানীয় দরিদ্র মানুষের সহায়তায় ব্যয় করা হয়।
​ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক প্রক্রিয়াটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রাপ্ত অর্থ গণনার পরপরই সংস্থার নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button