সাভার উপজেলা কমপ্লেক্সে সাংবাদিককে দুই ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ; ক্যামেরা ভাঙচুর, তথ্য মুছে ফেলা ও প্রাণনাশের হুমকির দাবি


সাভার প্রতিনিধি:
ঢাকার সাভার উপজেলা কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এক সাংবাদিককে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ক্যামেরা ভাঙচুর, মেমোরি কার্ড ছিনিয়ে নেওয়া, মোবাইল ফোনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে ফেলা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী ঢাকা টুডে-এর স্টাফ রিপোর্টার মো. দিদারুল ইসলাম জানান, তিনি জুলাই আন্দোলনের সময় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন। সেই ঘটনার পরও তিনি সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সর্বশেষ সাভার উপজেলা কমপ্লেক্সে রাতের বেলায় বহিরাগত ব্যক্তিদের নিয়ে কনফারেন্স হলরুমে সব শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), ফ্যান ও লাইট চালিয়ে খেলা দেখার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, এ প্রশ্ন করায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে জোরপূর্বক আটকে রাখেন এবং বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের অভিযোগ, তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি তার ব্যবহৃত ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। ক্যামেরার মেমোরি কার্ড ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ ছবি, ভিডিও, তথ্য ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট মুছে ফেলা হয়। এছাড়া জোরপূর্বক একটি মুচলেকায় স্বাক্ষর করানো এবং একাধিক মোবাইল ফোনে পূর্বনির্ধারিত বক্তব্য দিতে বাধ্য করারও অভিযোগ করেছেন তিনি।
দিদারুল ইসলামের আরও দাবি, ঘটনাটি প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হবে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে দুইজন সাংবাদিক ও সাভার প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হুদা ফোনে যোগাযোগ করলে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হয় এবং তিনি উপজেলা কমপ্লেক্স থেকে বের হতে সক্ষম হন। পরে সহকর্মী সাংবাদিকরা তাকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, যেখানে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
ঘটনার পর থেকে সাংবাদিক দিদারুল ইসলাম চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উপজেলা কমপ্লেক্সের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাংবাদিক নেতাদের মতে, সংবাদ সংগ্রহের সময় কোনো সাংবাদিককে বাধা দেওয়া, আটক রাখা, শারীরিক নির্যাতন করা, সংবাদ উপকরণ নষ্ট করা বা তথ্য মুছে ফেলা শুধু ব্যক্তিগত অধিকারের লঙ্ঘন নয়; এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং আইনের শাসনের জন্যও গুরুতর হুমকি। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সচেতন মহলের অভিমত, উপজেলা কমপ্লেক্স রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা। সেখানে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার, নিরাপত্তা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এমন একটি স্থাপনায় দায়িত্ব পালনরত একজন সাংবাদিকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণের অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এ ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত, দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক সমাজ, মানবাধিকারকর্মী এবং সচেতন নাগরিকরা।
উল্লেখ্য, এ প্রতিবেদনটি অভিযোগকারীর বক্তব্য, প্রত্যক্ষভাবে প্রাপ্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।




Daily Aporadh Prokash