অন্যান্যঅপরাধআইন – আদালত

আশুলিয়ার জামগড়ায় বর্জ্য সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: জমে থাকা ময়লায় অতিষ্ঠ জনজীবন, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শ্রমজীবী মানুষ।

নিজস্ব প্রতিবাদক, মোঃ মেহেদী হাসান শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় অনিয়মিত ময়লা অপসারণ ও বর্জ্য সিন্ডিকেটের খামখেয়ালিপনায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিনিয়ত বাসা-বাড়িতে জমা হয়ে থাকা বর্জ্যের দুর্গন্ধ ও মশা-মাছির উপদ্রবে ক্রমেই বাড়ছে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি।

​দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে জামগড়ায় বসবাস করা খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষগুলোর অভিযোগ—নিয়মিত বিল পরিশোধ করা সত্ত্বেও প্রতিদিনের ময়লা প্রতিদিন অপসারণ করা হচ্ছে না।

​দুর্গন্ধ ও পোকায় অতিষ্ঠ জনজীবন

​স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত ঘরের সামনে ও অলিগলিতে ময়লা স্তূপ করে রাখা হয়। এতে পচা ময়লা থেকে বড় বড় পোকা ও মাছি জন্মে সরাসরি ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ছে। সারাদিন কঠোর পরিশ্রমের পর ঘরে ফিরে বিষাক্ত গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের।

​এক ভুক্তভোগী পোশাক শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

“আমরা সারাটা দিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে বাসায় ফিরি একটু শান্তিতে ঘুমানোর জন্য। কিন্তু ঘরে ঢুকলেই ময়লার বিকট গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসে। নিয়মিত ময়লার বিল দিয়েও যদি ৪-৫ দিনের পচা ময়লা আর পোকা ঘরের ভেতর সহ্য করতে হয়, তবে আমরা যাব কোথায়?”

বর্জ্য সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য
অভিযোগ রয়েছে, এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্র বা ‘ময়লা সিন্ডিকেট’ সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ময়লা নেওয়ার কথা থাকলেও তারা তোয়াক্কা করছে না কোনো নিয়মের। পর্যাপ্ত জনবল বা সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় পুরো এলাকা এখন এক উন্মুক্ত ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। ফলে ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, যার সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা।

​দ্রুত পদক্ষেপের দাবি
জামগড়া এলাকার সর্বস্তরের জনগণ ও কর্মজীবী মানুষের একটাই দাবি—অবিলম্বে এই অবৈধ বর্জ্য সিন্ডিকেটের অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সঠিক ও নিয়মিত ময়লা অপসারণের ব্যবস্থা করে তাদের এই দুর্বিষহ অবস্থা থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button