অপরাধআইন – আদালত

আশুলিয়ায় সক্রিয় চাঁদাবাজগং!হকারদের দখলে ফুটপাত

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ
আশুলিয়ার যেখানেই চোখ যায় দেখা যায় যে,গুরুত্বপূর্ণ সব পয়েন্ট গুলোতে রয়েছে ফুটপাতে অবৈধ দোকানপাট।এই ফুটপাতে রয়েছে প্রায় ৪/৫ হাজারেরও অধিক হকার।আর, হকারদের অবৈধ দখলে থাকা ফুটপাতের এসব দোকানপাট থেকে প্রতি মাসে আদায়কৃত চাঁদার পরিমাণ দুই হতে আড়াই কোটি টাকার মত।
সড়েজমিনে ঘুরে দেখা যায়ঃ ঢাকা-আরিচা, নবীনগর-চন্দ্রা ও বাইপাইল-টুংগী মহাসড়কে নবীনগর,পল্লী বিদ্যুৎ,বাইপাইল,ইপিজেড ,বলিভদ্র্র বাজার,জিরানী, জামগড়া ও জিরাব বাসস্ট্যান্ড, এই পয়েন্টগুলোতেই মহাসড়কের উভয় পাশের ফুটপাতে রয়েছে ৪/৫ হাজার দোকানপাট।স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে সাময়িকভাবে ফুটপাত থেকে এসব অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে সেটি পূর্বের চিত্রে ফিরে আসে।অথচ, ফুটপাত দখল করে রাখায় সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।সেই সাথে,জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক ব্যবহার করে চলতে হচ্ছে পথচারীদের-কে।
স্থানীয় সূত্র ও হকারদের সাথে কথা বলে জানা যায়,এলাকার অসৎ প্রকৃতির অর্থ লোভী কিছু মানুষ নিজেদের আখের গোছাতে বছরের পর বছর ধরে ফুটপাতের দোকান্দারদের-কে পরিচালনা করে আসছে।যাদের মধ্যে হকার্স লীগসহ স্থানীয় নেতারাও জড়িত রয়েছেন।তারা স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দৈনিক হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জাতীয় স্মৃতি সৌধ থেকে কুরগাও বাসস্ট্যান্ড এলাকা পর্যন্ত হকার বসিয়ে মাসুদ রানা ও রতনের নেতৃত্বে সজিবএবং শরবত বিক্রেতা দুলাল নামে দুই ব্যক্তি চাঁদা আদায় করে আসছে।কোন কোন দিন দোকান্দার-দেরকে দিয়েও চাঁদা আদায় করানো হয়ে থাকে।কারণ,মাসুদ ও রতন গংদের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক চাঁদাবাজি মামলা।র্যা ব ও থানা পুলিশ তাদেরকে একাধিকবার চাঁদাবাজির সময় হাতে-নাতে গ্রেফতার করে জেলহাজতেও পাঠানো হয়েছিল। জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও হন্যে হয়ে উঠেছে চাঁদাবাজিতে। জানতে চাইলে বিষয়টি অস্বীকার করে মাসুদ ও রতন। তারা বলেন, চাঁদা আদায়ের সঙ্গে আমরা এখন আর জড়িত নয়।
এছাড়া নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে পলাশবাড়ী,পল্লীবিদ্যুৎ বাসস্ট্যান্ড,বাইপাইল ও নবীনগরএলাকায় রয়েছে একাধিক চক্র।যারা কি না হকারদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছে।অন্যদিকে বাইপাইল-টুংগী মহাসড়কে ইউনিক,জামগড়া হতে জিরাব বাসস্ট্যান্ড থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত মহসড়কের উভয় পাশেও প্রায় এক হাজার দোকান বসিয়ে টাকা আদায় করে আসছে একটি অসাধু মহল।
নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফুটপাত ও ফুট ওভার ব্রীজের উপরে পণ্য বিক্রেতাগণ (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)একাধিক হকার জানায়, মার্কেট মালিক কতৃপক্ষ মোঃ মাঝারুল ইসলাম এর নেতৃত্বে আমিরুল ইসলাম আমির গং, স্থানীয় সরকারি দলের নেতাদেরসহ বিদ্যুৎ বিল ও প্রশাসনকে ম্যানেজের কথা বলে প্রতিদিন সন্ধ্যায় তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করছে।তাছারা,প্রতিজন হকারকে ফুটপাতে বসতে অগ্রীম টাকা দিতে হয়েছে ৫০হাজার হতে এক লাখ পর্যন্ত।আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে গড়ে প্রতিদিন ৫/৭ লাখ টাকা চাঁদা আদায় হয়ে থাকে বলে জানায়।কেউ চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলেই দোকান তুলে দেওয়াসহ মারধরের শিকার হতে হয়।
হকার বসিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পর্কে বাংলাদেশ হকার্স লীগ আশুলিয়া থানা আহবায়ক শরিফুল ইসলাম সবুজ বলেন, আশুলিয়ায় মহাসড়কে ৩২টি হকার্স পয়েন্ট রয়েছে।সব পয়েন্ট মিলে আনুমানিক ৩/৪ হাজার হকার আছে।এছাড়া আরও বিভিন্ন পয়েন্টে তো আছেই। কিন্তু,বাংলাদেশ আওয়ামী হকার্সলীগ আশুলিয়া থানা কমিটি হকারদের নিকট হতে কোন প্রকার টাকা আদায় করে না। নিজেদের ভবিষ্যত আখের গোছাতে এগুলো নিয়ন্ত্রন করেন এলাকার একটি স্বার্থান্বেশী মহল। তিনি আরো বলেন,হকাররা গরীব মানুষ,তাদের নিকট থেকে চাঁদা আদায় করা একটি জঘ্নতম অপরাধ।চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি।
পুনর্বাসনের ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ হকার্স লীগ আশুলিয়া থানা আহবায়ক শরিফুল ইসলাম সবুজ আরও বলেন,হকারদের পুনর্বাসনের জন্য প্রচুর চেষ্টা চালানোর পরেও বার বার ব্যর্থ হয়ে ফিরতে হচ্ছে।
এদিকে ডি.ইপিজেড এলাকায় পথচারীসহ হাজার হাজার পোশাক শ্রমিকগণ অভিযোগ করে বলেন,ফুটপাত দখল হয়ে থাকায় আমাদের বাধ্য হয়ে মহাসড়কের মাঝখান দিয়ে চলতে হয়।দিকবিদিক চলতে গিয়ে অনেক সময় অনাকাঙ্খিত দূর্ঘটনার শিকার হতে হয়। ওনারা,ফুটপাত দখল মুক্ত করে চলাচলের জন্য উপযোগী করার দাবিও জানান ।
সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক বলেন, আমরা জেলা পুলিশের সহায়তায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছি কিন্তু হকাররা তাও ফুটপাত দখল করে রাখে।ঠিক কত দোকান আছে আমি বলতে পারব না।ফুটপাতে চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,এ বিষয়ে আমাদের জানা নাই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button