Uncategorized

খিলক্ষেতে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেফতার দুই

রাজধানীর খিলক্ষেত লেকসিটি কনকর্ড ছায়ানীড় ভবন ফ্ল্যাট 15 NE/2 থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, মাদক দ্রব্য ও দুইটি অস্ত্রসহ নগদ অর্থ এক লক্ষ পয়তাল্লিশ হাজার পাঁচশত টাকা উদ্ধার করেছে দিয়াবাড়ি আর্মি ক্যাম্পের সেনা সদস্যরা।

৯ অক্টোবর’২৪ মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে অভিযান পরিচালনাকালে বনানী ১১ এর সেলসিয়াস বারের সামনে থেকে অস্ত্রসহ উদ্ধার হয় নাফিস মো: আলম ডন। পরবর্তীতে তার খিলক্ষেতের ফ্ল্যাট থেকে মো: সুজন নামে আরো একজন সহযোগীকে আটক করা হয়।

এসময় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের মদ, বিয়ার, শিশা সেবনের স্ট্যান্ড, ফয়েল পেপার, বিভিন্ন মদের ডিলারদের তথ্য সংবলিত ডায়েরী, ওয়াকটকি সেট, সিগন্যাল লাইট, সিসি ক্যামেরা ইত্যাদি জব্দ করে দিয়াবাড়ি সেনা ক্যাম্প ও খিলক্ষেত থানা পুলিশ এর যৌথবাহিনী।

নাফিস মো: আলম এর বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। কানাডার পাসপোর্ট দেখিয়ে সে নিজেকে বাংলাদেশে ফরেইনার হিসেবে পরিচয় দিয়ে বেড়ায় এবং প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মদ ব্যবসা’র সাম্রাজ্য তৈরি করেছে। বনানী ১১ এর সেলসিয়াস শিশা বার, একই রোডের বনানী ফার্মাসীসহ সে বেশ কিছু নামীদামী বার ও ক্লাবে মদ সরবরাহ করে। তার নিজস্ব মদ সরবরাহের কোম্পানির নাম সিন্ডিকেট ইন্টারন্যাশনাল। জানা যায়, বসুন্ধরা, বারিধারা, গুলশান বনানী এলাকাসহ ঢাকার বেশ কিছু স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মাঝেও সে এই মদের চালান যোগায়। সে প্রায়ই নিজেকে ডন বলে পরিচয় দিতে বেশি পছন্দ করে। তার ফেসবুকের প্রোফাইল ঘাটলে কেউ বিশ্বাসই করবে না বাংলাদেশের মতো একটি দেশে এভাবে জনসমক্ষে কেউ অস্ত্র, মদ,  নারী ইত্যাদি নিয়ে উন্মাদনা ছড়াতে পারে৷ বৈষম্য বিরোধী  ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রদের বিরুদ্ধে তার শট গান দিয়ে ফায়ারের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে সে সেই ভিডিও দিয়ে নিজের আধিপত্য আরও বেশি জাহির করার চেষ্টা করে।

প্রাথমিক তদন্তে শোনা যায় ০৫ আগস্টে সরকার পতনের পর থানা হতে লুট হওয়া পুলিশের পিস্তলগুলোর মধ্যেই একটি নাফিসের নিকট প্রাপ্ত পিস্তল। তবে কোন থানা থেকে এটি লুট করা হয়েছে সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। নাফিসের এই সাম্রাজ্যে জড়িত রয়েছে তার স্ত্রীসহ আরো অনেকেই।

দিয়াবাড়ি সেনা ক্যাম্পের এক অফিসার বলেন,
নাফিসকে গ্রেপ্তার করার জন্য আমরা অনেকদিন ধরে চেষ্টা করছিলাম। সে এতটাই উন্মাদ যে নিয়মকানুন ও আইন কিছুই সে তোয়াক্কা করে না। তাকে গ্রেপ্তার করার মাধ্যমে মাদক চোরাকারবারিদের প্রতি আমরা একটি শক্ত বার্তা দিতে পেরেছি বলে আশাবাদী। আমাদের এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

নাফিস এর বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলাসহ পূর্বের প্রায় ৭ টি মামলা রয়েছে। আজ অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার ও মাদকদ্রব্য সেবন আইনের আওতায় তার বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button