অপরাধআইন – আদালত

আশুলিয়ায় স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি গ্রেপ্তার ৬, স্বর্ণ-টাকা উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আশুলিয়ার স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করে স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাতদলের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উৎঘাটনসহ লুণ্ঠিত ১৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, স্বর্ন বিক্রির ৭৬ হাজার টাকা ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে আশুলিয়া থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয় নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানার বৃষ্টিপুর গ্রামের মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে মোঃ মাসুদ রানা ওরফে কালা মাসুদ (৪৫)। রাজশাহী জেলার কর্নহার গ্রামের রাধানগর শল্লাপাড়া মোড় এলাকার মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে স্বর্ণ ব্যবসায়ী মোঃ ইব্রাহিম বাবু (৪৫) কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার পিটুয়া বন্দের বাড়ি গ্রামের মোঃ হক ভূঁইয়ার ছেলে মোঃ রিপন মিয়া (৪০), পাবনা জেলার সুজানগর থানার চর ভবানীপুর শেখ পাড়া গ্রামের জোনাই প্রামাণিকের ছেলে মোঃ আরিফ প্রামাণিক (৩০), একই জেলার আতাইকুলা থানার সরাডাঙ্গী (সরদারপাড়া) গ্রামের মৃত করিম শেখের ছেলে মোঃ শাহ আলম ও মোঃ আরমান শেখ (৩৭)।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। এদের মধ্যে কেউ দিনের বেলায় অটোরিকশা চালায়, কেউ ফলের ব্যবসা করে এলাকায় এবং রাতের বেলায় ডাকাতি করে। এদের মধ্যে ৫ ডাকাত ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে হত্যা ও স্বর্ণ ডাকাতি সংঘটিত করে এবং একজন ডাকাতির মালামাল তার জিম্মায় রাখে।
পুলিশ সুপার আরও জানায়, স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির সময় ডাকাত ইমরান, তার দুই ভাই শাহ আলম ও আরমান, রিপন, আরিফ, আকাশ, তালিম ও মাসুদ রানা ওরফে কালা মাসুদ একটা ভাড়া গাড়িতে করে নয়ারহাট এলাকায় স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির টার্গেট করে। ইমরান ও আকাশ উক্ত ভাড়া গাড়ির ভিতরে অবস্থান করে, আরমান ও শাহ আলম ঘটনাস্থলের পাশে পাহারা দেয় এবং তালিম ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতংক তৈরী করে। রিপন ও আরিফ দুটো চাপাতি দিয়ে দিলীপকে কোপ দেয় এবং মাসুদ রানা @ কালা মাসুদ স্বর্ণের ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে ভাড়াকৃত গাড়িতে ওঠে ৮ জন মিলে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারকৃত ডাকাতদের মধ্যে রিপনকে সাভারের যাদুরচর এলাকা থেকে, মাসুদ রানা ওরফে কালা মাসুদ, শাহ আলম এবং আরমানকে আশুলিয়ার বারইপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা ৩ জন আপন ভাই। পরে রিপন, শাহ আলম, আরমান ও মাসুদ রানা কালা মাসুদের দেওয়া তথ্য মতে আরিফকে রাজবাড়ির গোয়ালন্দ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ৮ ভরি স্বর্ণ এবং স্বর্ণ বিক্রয়ের ৭৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য মতে দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতির স্বর্ণ ক্রয়ের সাথে জড়িত ইব্রাহিমকে রাজশাহীর কর্ণহাট এলাকা থেকে লুট করা ৫ ভরি স্বর্ণসহ গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আরিফের দেখানো আরমানের ফলের দোকান থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দুটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়। তারা সবাই আন্তঃজেলা ডাকাত। দিনের বেলায় এরা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে একত্র হয়ে বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি করে থাকে। তাদের চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের জন্য ঢাকা জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button