অপরাধআইন – আদালত

টুংগীপাড়ায় মা ও ভাইয়ের সম্পদ জালিয়াতির মাধ্যমে দখল

সাঈম সরকারঃস্টাফ রির্পোটারঃ
টুংগিপাড়ায় নিজের গর্ভধারীনী মায়ের সম্পদ জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করেছেন মাহফুজুর রহমান নামে এক প্রতারক।এমন একটি বিষয়ে একজন অসহায় বৃদ্ধ ও বৃধবা মায়ের আহাজারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভেসে বেড়ালে দৈনিক গণমুক্তি পত্রিকার সাংবাদিকের দৃষ্টি গোচর হয়।এসময় ঐ অসহায় মায়ের পাশে দাড়াতে দৈনিক গণমুক্তি”র সাংবাদিক একটি অনুসন্ধানি টিম নিয়ে ঘটনার সত্যতা ও তথ্য সংগ্রহ কাজে বেড়িয়ে পরেন।তথ্য সংগ্রহকালে বেড় হয়ে আসে ঐ প্রতারক মাহফুজুর রহমানের থলের বিড়াল।
মাহফুজুর রহমানের অসহায় মা নুরুনাহার বেগম বলেন, আমার স্বামী মৃত নিজামুল হক বিশ্বাস এর মোট ৩২ শতাংশ জমির ১৬ শতাংশ জমি আমার স্বামী ২০০৮ সালে আমার নামে হেবা দলিল করে দেন এর পর ২০১০ সালে তিনি মারা জান।তখন আমার সেজো ছেলে মাহফুজুর রহমান নাশকতা মামলায় কাশিম পুর কারাগারে ছিলেন। ২০১০ সালের শেষের দিকে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি সালমান এফ রহমান এর সহায়তায় তার আইনজীবী মনজুরুল হক এর মাধ্যমে হাইকোট থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে গ্রামের বাড়িতে আসেন।২০১৪ সালে প্রতারনার মাধ্যমে কি ভাবে আমার ১৬ শতাংশ জমি হেবা করে নিয়েছেন তা আমি জানি না।আমার স্বামী নিজামুল হকের ওরষে আমার চার ছেলে ও দুইজন কন্যা সন্তান আছে।বর্তমানে আমার ও আমার স্বামীর সম্পদ ৬ সন্তান এর মধ্যে মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী বন্টন করে দিতে চাইলে আমার সেজো ছেলে মাহফুজুর রহমান এতে বাধা দেন। মাহফুজুর রহমান বলেন মায়ের ১৬ শতাংশ জমি আমার, এখান থেকে কাউকে কোন ভাগ দেয়া হবে না। পড়ে আমি জানতে পারি, আমার নামে থাকা ১৬ শতাংশ জমি মাহফুজ জালিয়াতির মাধ্যমে হেবা করে নিয়েছে।এসব জানার পর আমি আমার সম্পদ ফেরত পাওয়ার জন্য গোপালগঞ্জ জেলা আদালতে দলিল বাতিল এর জন্য একটি মামলা দায়ের করি।তিনি আরো বলেন, আমার স্বামীর সম্পদ থেকে আমার বড় ছেলে ইমামুল হক ও মেজো ছেলে মাহমুদুল হক এর ভাগে পাওয়া ভিটা-বাড়ী জোর করে দখল করে নেওয়ার জন্য আমার বড় ছেলের ভিটার ঘর দুয়ার ভাংচুর করে এবং তাকেসহ আমাকে বাড়ী ছাড়া করেন। মেজো ছেলে মাহমুদুল হক এর নামে গোপালগঞ্জ জেলা ডিবি অফিসে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন। ডিবি পুলিশ আমার সন্তানকে রাতের আধারে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় মাহমুদুল হক-কে বাড়ী ছেরে ভয়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। আর ছোট ছেলে মামুন কেও মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে জেলে পাঠিয়েছে।আমি আমার ছোট ছেলে মামুনুল হক এর বউ বাচ্চা নিয়ে মামুনুল হক এর ভিটায় বসবাস করতাম গত – ২৫-০৪-২৫ আনুমানিক দুপুর ১২ টার সময় এই মাহফুজ ও তার বউ তার শশুর বাড়ির লোকজন এনে আমাকে ও আমার ছোট ছেলে মামুন এর বউ বাচ্চা কে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। টুংগিপাড়া উপজেলা ইউএনও অফিস ও থানায় অভিযোগ করেও কোন সহায়তা পাইনি। আমি নুরুনাহার বেগম এই বুড়ো বয়সে জীবন বাচানোর জন্য ছোট ছেলের শশুর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।ডিবির এস আই ইসাখাঁন এর হয়রানি থেকে মুক্তিসহ আমি আইনের কাছে বিচার চাই এবং আমার সকল সন্তান কে নিয়ে স্বামীর ভিটায় বসবাস করতে চাই।ডিবির এস আই ইসাখাঁন বিষয়টি স্বীকার করেন এবং এসপি সাহেবের নির্দেশে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়েছিলেন বলে জানান।গোপলগন্জ জেলা গোয়েন্দা(ডিবি)ওসি কামরুল হাসান কামাল একই কথা বলেন যে, উপর মহলের নির্দেশ পেয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।কিন্তু,মাহমুদুল হক এর নামে লিখিত কোন অভিযোগ নেই।
অনুসন্ধানেঃ এবার আসুন জেনে নেই কে এই মাহফুজ রহমান? মাহফুজ ২০০৫ সালে তার নামে টুংগিপাড়া থানায় একটি নাশকতা মামলা নাম্বার (৩) হয়, এই মামলায় ২০০৭ সালে ১০ বছরের সাজা হয়,কাশিমপুর কারাগারে থাকা অবস্থায় পরিচয় হয় আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি সালমান এফ রহমান এর সাথে।তার সহায়তায় ২০১০ সালে হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করেন।এর পর একজন কোরআনের হাফেজ হওয়ায় তাকে গুলশান ২ এর সোসাইটি মসজিদে খাদেম এর চাকরি দেন সালমান এফ রহমান।ঐসময় মাহফুজুর রহমান, সালমান এফ রহমান এর দান ফান্ডের টাকা নিয়ে বিভিন্ন সময় টুংগীপাড়া এলাকায় বিলি করতেন সালমান এফ রহমানের নামে এবং সালমান এফ রহমান এর নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় তদবির বানিজ্য করতেন।তদবির বানিজ্য করে বর্তমানে কোটি পতির বনে পারি জমাইয়াছে।সেই টাকার দাপটে মায়ের ১৬শতক সম্পত্তি জালিয়াতি করেন এবং সন্ত্রাস ভাড়া করে নিজের গর্ভধারিনী মা ও ভাইকে বাড়ী ছাড়া করেন।এমন কি, ঐ এলাকায় একটি নেট ব্যবসাও হাতিয়ে নিয়েছেন।একজন কোরআনের হাফেজ হওয়ার পরেও টুংগীপাড়ায় তার নিজের নামে রয়েছে (SKY NET) নামে ইন্টারনেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
ইন্টারনেট ব্যবসার বিষয়ে মাহফুজুর রহমান এর সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে প্রথমে শিকার না করলেও পরে তথ্য প্রমান এর ভিওিতে তা শিকার করেন।
মা ও ভাইয়ে সম্পত্তির বিষয়ে টুংগিপাড়া উপজেলা ইউএনও জনাব মইনুল সাহেব এর কাছে জানতে চাইলে,তিনিবলে,এই মাহফুজুর কে বহুবার আমার কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য বলেছি,বাদী পক্ষের লোকজন আসলেও এই মাহফুজ আমার অফিসে হাজির হয় নাই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button