Uncategorizedঅন্যান্যজাতীয়ধর্মসংস্কৃতি

পাপ মোচনে বংশাই নদীতে হাজারো পূণ্যার্থীর স্নান

 

 

টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি :

টাঙ্গাইলের বাসাইল কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের সৈয়দামপুর গ্রামে বংশাই নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ডুবের মেলা।গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ডুবের মেলা যুগ যুগ ধরে পালিত হচ্ছে। মাঘী পূর্ণিমায় এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। যা মানুষের মুখে মুখে ডুবের মেলা নামে পরিচিত।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,মেলায় জেলার দূর দূরত্ব থেকে আগত জনগণ পূজা ও স্নান পর্বে অংশগ্রহণ করে।সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে স্নান উৎসব।নারী-পুরুষ ও কিশোর-কিশোরী ম্নান উৎসবে অংশ নেই।

স্নান উৎসবে অংশ নেওয়া পূণ্যার্থীরা বলেন,সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের পাপ মোচন উপলক্ষে ভোরে মানত ও গঙ্গাস্নান পর্ব সমাপণ করেন।গঙ্গাস্নান করলে সাড়া বছরের পাপ মোচন হয়।মনের আশা ও বাসনা পূরণ হয়।এই স্নান অংশ নিলে পূর্ণ মিলে।দুর-দুরান্ত থেকে লোকজন আসে গঙ্গাস্নানে অংশ নিয়ে তাদের মনের বাসনা পূরণ করে।

 

 

এই মেলা ব্রিটিশ শাসনামলে বক্ত সাধু নামে খ্যাত এই সন্যাসীর (মাদব ঠাকুর) মূর্তি প্রতিস্থাপন করে পূজা অর্চনা শুরু করেন। এই পূজা উপলক্ষে তখন থেকে গঙ্গাস্নান ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তখন থেকে এটা ডুবের মেলা নামে পরিচিত। ডুবের মেলায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত স্নান উৎসব চলে। নারী-পুরুষ ও কিশোর-কিশোরী ম্নান উৎসবে অংশ নেন।

স্নানে অংশ নেওয়া সুজন সরকার বলেন,আজকে আমরা মাঘী পূর্ণিমার মেলায় আসছি। আমাদের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি পূর্ণ্য স্থান।সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গঙ্গাস্নান হয়।১০০ বছর ধরে এই গঙ্গাস্নান চলে আসছে।ডুবের মেলায় যারা আসে তারা মনের বাসনা নিয়ে গঙ্গাস্নান করতে আসেন।গঙ্গাস্নান করলে মনের বাসনা পূরণ হয়।

স্নানে অংশ গ্রহন করতে আসা দেবাশীষ দাস বলেন,সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মনে করে যে আজকে এই মাঘীপূর্ণিমার তিথিতে উত্তর বাহিত পানিতে স্নান করলে সাড়া বছরের পাপ মোচন হয়।অনেকের মনে আশা থাকে যে স্নান করলে তাদের মনের আশা পূরণ হয়।

মিষ্টি বিক্রেতা মেহেদী হাসান বলেন,৩০ বছর ধরে এই মেলায় আসি।মেলায় ভালোই মিষ্টি বিক্রি হয়।মেলায় ৯ থেকে ১০ মণ বিক্রি করা যায়।মেলায় অনেক লোকের সমাগম হয়।

পুরোহিত রবিন্দ্র চক্রবর্তী বলেন,পূর্ব পুরুষ থেকে এই গঙ্গাস্নান শুরু হয়েছে।এই গঙ্গাস্নানকে বলে মাঘীপূর্ণিমার গঙ্গাস্নান।৩০-৪০ জন পুরোহিত এই গঙ্গাস্নানে এসেছে।দূর-দুরান্ত থেকে লোকজন এসেছেন গঙ্গাস্নানে অংশ গ্রহন করে।পূণ্যার্থীরা তাদের মনের বাসনা নিয়ে এখানে আসেন।তারা ডুব দিলে তাদের মনের বাসনা পূর্ণ হয়।

কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আল মামুন বলেন,পূর্বপুরুষ থেকেই এই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মাঘীপূর্ণিমায় ডুবের মেলা পালন করে থাকেন। মেলা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ আসেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button