আশুলিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে সেবার নামে চরম ভোগান্তি: সরকারি ফি ফিকে করে পকেট কাটছে সিন্ডিকেট


নিজস্ব প্রতিবাদক, মেহেদী হাসান: আশুলিয়া থানাধীন বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে জনসেবার নামে শুরু হয়েছে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মহোৎসব। জন্ম নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স কিংবা হোল্ডিং নম্বরের মতো জরুরি নাগরিক সেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। নির্ধারিত সরকারি ফির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন ইউপি সচিব, কার্যালয়ের অফিস সহকারী ও একটি অসাধু চক্র সাধারণ জনগণের কাছ থেকে আদায় করছে কয়েক গুণ বেশি টাকা।
অনুসন্ধান ও স্থানীয়দের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, যে ট্রেড লাইসেন্সের সরকারি ফি মাত্র ২৩০ টাকা, তা নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে গুনতে হচ্ছে ১৬০০ টাকা থেকে শুরু করে ২৩০০ টাকা পর্যন্ত। একইভাবে জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত ফি-র তোয়াক্কা না করে ১২৫০ টাকা বা তারও বেশি দাবি করা হচ্ছে। সরকারের তরফ থেকে প্রশাসনিক নির্দেশের কথা বলে এবং বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে অফিস সহকারীদের মাধ্যমে প্রকাশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বাণিজ্য।
ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের জানান, “গত ২০২৫ সালেও যে ট্রেড লাইসেন্স আমরা মাত্র ২৩০ টাকায় সম্পন্ন করেছি, সেই একই লাইসেন্সের জন্য এখন ১৬০০ থেকে ২৩০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করতে গেলে কোনো সেবা পাওয়া যায় না, উল্টো নানাভাবে হয়রানি করা হয়।”
বর্তমানে এসব সেবা প্রদান কেন্দ্রগুলো নাগরিক সেবার কেন্দ্র না হয়ে একশ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও স্থানীয় সিন্ডিকেটের অর্থ উপার্জনের হাটে পরিণত হয়েছে। প্রকাশ্যে এমন অনিয়ম ও অতিরিক্ত ফি আদায় চলায় ক্ষুব্ধ পুরো আশুলিয়াবাসী। দ্রুত এই অবৈধ লেনদেন বন্ধ করতে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।




Daily Aporadh Prokash