জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় ফুটপাত হকারদের দখলে জনদুর্ভোগ, নেপথ্যে সাপ্তাহিক চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট


জাতীয় ভাবগাম্ভীর্য ও মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতীক সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকার সামনের ফুটপাত ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের একাংশ এখন হকারদের দখলে। এর ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থী এবং স্থানীয় পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার কেন্দ্র করে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি এই অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজি পরিচালনা করছে। ফুটপাত দখল ও ক্রমবর্ধমান জনদুর্ভোগ: সরেজমিনে দেখা যায়, স্মৃতিসৌধের মূল ফটকের সামনের ফুটপাত থেকে শুরু করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সার্ভিস লেন পর্যন্ত ছোট-বড় অসংখ্য অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে।
পোশাক, খেলনা, খাবার ও বিভিন্ন সামগ্রীর এসব দোকান ফুটপাত ছাড়িয়ে মূল সড়কের এক লেন হকারদের দখলে। এর ফলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের এই অংশে সবসময় যানজট লেগে থাকে এবং সাধারণ পথচারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে।
বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়লে ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে। নেপথ্যে সাপ্তাহিক চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট: গোপন সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার—যেদিন দর্শনার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি থাকে—তখন এই অবৈধ বাজার থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা চাঁদা হিসেবে আদায় করা হয়।
এলাকা কেন্দ্রিক এক শ্রেণীর প্রভাবশালী ও অসাধু চক্র এই চাঁদাবাজির সাথে জড়িত। প্রতিটি দোকান থেকে স্থান ও আকারভেদে নির্দিষ্ট পরিমাণ দৈনিক ও সাপ্তাহিক চাঁদা তোলা হয়। নির্ধারিত টাকা না দিলে হকারদের উচ্ছেদ বা হেনস্তার শিকার হতে হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দোকানদার নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের ক্ষোভ: স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, জাতীয় স্মৃতিসৌধের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জাতীয় স্থাপনার আশপাশে এমন বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
দর্শনার্থীরা জানান, জাতীয় এই স্মারক দেখতে এসে ফুটপাতে এমন হাঁকডাক ও পথচলার বাধার কারণে এলাকার সার্বিক সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি: অবৈধ দখল মুক্ত করে সাধারণ মানুষের ফুটপাতে চলাচলের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং এই নিয়মিত চাঁদাবাজি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাভার উপজেলা প্রশাসন, হাইওয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন সর্বস্তরের জনগণ।




Daily Aporadh Prokash