আশুলিয়ায় চার্জের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে অটোচালকের মৃত্যু, লাশ গায়েবের চেষ্টা ও প্রভাবশালীদের বাধার অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক, মেহেদী হাসানঃ
আশুলিয়ার দোসাইদ বাজার এলাকায় অটো রিকশা চার্জ দেয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে খাইরুল (৩০) নামের এক চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর আনুমানিক দুইটার দিকে দোসাইদ বাজারের জয়নাল নামক এক ব্যক্তির অটো গ্যারেজে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো গতকাল দুপুরে অটো চার্জ দিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন খাইরুল। এতে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে একাধিক গণমাধ্যম কর্মী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
যে জায়গার ওপর অবৈধ অটো গ্যারেজটি পরিচালিত হচ্ছিল, তার মালিক জাকির হোসেন স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী। দুর্ঘটনার পর ঘটনাটি চেপে যেতে এবং আইনি ঝামেলা এড়াতে জোর তৎপরতা শুরু হয়। নিহতের মরদেহ হস্তান্তরে তড়িঘড়ি করা হয়। নিহতের আপন বলতে স্থানীয়ভাবে কেউ না থাকায় তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন এসে নিজেদের আপন ভাই ও অভিভাবক পরিচয়ে লাশ দ্রুত গোসল করিয়ে সটকে পড়ার চেষ্টা করে।
আইনি ব্যবস্থা না নেয়ার কারণ জানতে চাইলে সেখানে উপস্থিত স্থানীয় ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপির কিছু উদীয়মান ও অল্পবয়সী কর্মী এবং নিহতের তথাকথিত আত্মীয় পরিচয়দানকারীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয় ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে।
সাংবাদিকরা তৎক্ষণাৎ জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে জানালেও অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ পৌঁছাতে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ করে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অল্প সময়ের মধ্যে নিহতের মরদেহ নিজ গ্রামে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
পরে আশুলিয়ার ফাঁড়ি থানা থেকে সাব-ইনস্পেক্টর আব্দুল হাই ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান। ততক্ষণে মরদেহ সরিয়ে ফেলা হওয়ায় তিনি সেখানে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও গ্যারেজ মালিক জয়নালের নাম লিখে নিয়ে যান। তবে পুরো ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঘটনার পরপরই গ্যারেজ মালিক জয়নাল গ্যারেজে তালা ঝুলিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন। একাধিকবার চেষ্টার পরও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্ন দানা বাঁধছে। সাধারণ একটি আবাসিক বা বাণিজ্যিক গ্যারেজে এত শক্তিশালী ৪৪০ ভোল্টের (440V) বিদ্যুৎ লাইন কীভাবে সংযোগ পেল এবং প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কীভাবে এই অবৈধ ব্যবসা চলছিল, তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তবে গ্যারেজ জমির মালিক প্রভাবশালী জাকির হোসেনের ভয়ে ক্যামেরার সামনে বা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না স্থানীয়দের কেউ।




Daily Aporadh Prokash